• আওয়ামী লীগ চায় জয়ের ধারা, বিএনপি আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে এবং জাপা’র পুনরুদ্ধার করতে চায়।

    1526306302 4 - আওয়ামী লীগ চায় জয়ের ধারা, বিএনপি আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে এবং জাপা’র পুনরুদ্ধার করতে চায়।

     

    নবীনগর থেকে মো. হুমায়ূন কবির ও মো. রফিকুল ইসলাম :

     

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বইছে ভোটের হাওয়া।

    নবীনগর উপজেলার এ আসনটি ২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৪৬ হাজার ৪৪০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার এক লাখ ৭১ হাজার ৮১৪ জন। পুরুষ ভোটার এক লাখ ৭৪ হাজার ৮২৬ জন। নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তৎপর রয়েছেন মাঠে। এদিকে এলাকায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

    সমর্থন বাড়াতে মাঠপর্যায়ে প্রতিটি গ্রামে পথসভা, ওঠান বৈঠকসহ গণসংযোগ করছেন এবং দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও লবিং অব্যাহত রেখেছেন একাদশ সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীগণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা সহ স্থানীয় রাজনীতি মাঠে জমে ওঠছে নির্বাচনী আমেজ।

    মনোনয়নের প্রত্যাশায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী ছাড়াও মাঠের প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন জাতীয় পার্টি, জাসদ (ইনু) ও ইসলামী ঐক্যজোট।

    এদিকে এরশাদের আমলে জাপার দুইবারের নির্বাচিত এমপি কাজী মো. আনোয়ার হোসেন ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও বিজয়ী হন। তিনি ২০০১ সালে জাতীয় পার্টি (নাফি) চারদলীয় জোট থেকে ধানের শীষ প্রতীকে চতুর্থবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন।

    ১৯৯৬ সালের ১২ জুন নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন আ.লীগের প্রার্থী আবদুল লতিফ। ২০০৮ সালে জাসদের (ইনু) অ্যাডভোকেট শাহ্ জিকরুল আহম্মদ খোকন মহাজোট থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন। ২০১৪ সালের আ.লীগ নেতা ফয়জুর রহমান বাদল এমপি নির্বাচিত হন।

    ফলে আসনটি পুনরুদ্ধারের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি। তবে ক্ষমতাসীনেরাও জয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে মাঠে কাজ করছে বলে জানা যায়।

    একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেনÑ উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও বর্তমান এমপি ফয়জুর রহমান বাদল, আ.লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক সম্মিলিত আওয়ামী সমর্থিত জোটের চেয়ারম্যান নবীনগর উপজেলা আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নিয়াজ মোহাম্মদ খান, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের উপদেষ্টা এবাদুল করিম বুলবুল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৯ নং ওয়ার্ডের কমিশনার এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাজী মোরশেদ হোসেন কামাল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আ.লীগ নেতা ব্যারিস্টার জাকির আহম্মদ।

    আ.লীগের বর্তমান এমপি ফয়জুর রহমান বাদল এলাকায় দীর্ঘদিনের ক্লিন ইমেজ রয়েছে বলে মনে করেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তিনি বলেন, দলের সকল নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রয়েছে এবং কারো সঙ্গে কোনো দূরত্ব নেই। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর এই প্রথম গত সাড়ে চার বছরে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হয়েছে। আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলে পুনরায় এই আসনটি উপহার দেয়ার পাশাপাশি নবীনগরের অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো সমাপ্ত করতে পারব।

    আওয়ামী লীগের আরেক নেতা নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলেন ভোটারের ভাগ্যোন্নয়নের পাশাপাশি সুস্থ ও টেকসই রাজনীতির স্বার্থে আমি এমপি পদপ্রার্থী হবো। তিনি বলেন, ক্ষমতার রাজনীতি করি না, বঙ্গবন্ধুর আর্দশ নিয়ে মানুষের সেবা করাই একমাত্র লক্ষ্য।

    বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হচ্ছেনÑ বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তকদির হোসেন মো. জসীম, চারবারের নির্বাচিত এমপি মরহুম কাজী আনোয়ার হোসেনের ছেলে জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী মহাসচিব ও জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ আলী আজ্জম জালাল, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সায়েদুল হক সাঈদ, ট্যাক্স ল’ ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা গোলাম সারওয়ার ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু।

    বিএনপির নেতা তকদির হোসেন মো. জসিম স্থানীয় ভোটারদের কাছে চেনামুখ। তিনি বলেন, বিগত সময়গুলিতে জনগণের সাথে সম্পর্কহীন লোকজন কালো টাকার বিনিময়ে এমপি হয়ে নবীনগরকে এক শ’ বছর পেছনে ফেলে দিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী নবীনগর আজ অবহেলিত একটি জনপদ। নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিলে অবশ্যই নির্বাচন করব এবং আশা করছি এবার হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে পারব।

    বিএনপির কারা নির্যাতিত সদ্য ককারামুক্ত নেতা আলী আজ্জম জালাল বলেন, বর্তমান আ.লীগের দুঃশাসনের কারণে মামলা, হামলা, গুম, হত্যার ভয়ে নেতাকর্মীরা জিমিয়ে পড়েছিল। তারই সাথে জাতীয় পার্টি থেকে আসা ব্যাক্তি যখন শহীদ জিয়ার প্রকৃত সৈণিকদের অবমূল্যায়ন করে কোণঠাসা করে রেখেছিল তখন এ অবস্থা থেকে নবীনগরের নেতা কর্মীদেরকে উজ্জীবিত ও সুসংগঠিত করার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে গণসংযোগ করে উজ্জীবিত করে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।আপনারা ইতিমধ্যে দেখেছেন নবীনগর উপজেলার কোন সিনিয়র নেতা আওয়ামী প্রতিহিংসার স্বীকার হননি। আমি যখন জেলার বিভিন্ন কর্মসূচীতে সহযোগিতা করে এবং উপজেলায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচীরর অংশ হিসেবে পর পর বেশ কয়েকটি কর্মসূচী সফল করেছি তখনই বর্তমান সরকার ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ধরে নিয়ে পুরু দুমাস কারাগারে অন্তরীন রাখেন। কারাগারে গিয়ে ও আমার দলীয় কর্মকাণ্ড থেমে নেই। কারাগারে থেকেও দলকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে ফিয়েছি।যাহা কিনা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অবগত আছেন। তাই দল আমাকে মনোনয়ন দেবে এ ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

    রাজনীতিতে নতুন মুখ মরহুম এমপি কাজী আনোয়ার হোসেনের ছেলে নাজমুল হোসেন তাপস দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি বলেন, এলাকার উন্নয়নে বাবার অসমাপ্ত কাজগুলোসহ জনগণের ভালোবাসার ঋণ শোধ করতে চাই। বিএনপির আমলে এলাকার রাস্তাঘাটসহ অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা আমার সাথে আছে। দলে কোনো দ্ব›দ্ব বা গ্রæপিং নেই। মনোনয়নের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।বিএনপির কারা নির্যাতিত নেতা আলী আজ্জম জালাল বলেন, বর্তমান আ.লীগের দুঃশাসনের কারণে মামলা, হামলা, গুম, হত্যার ভয়ে নেতাকর্মীরা জিমিয়ে পড়েছিল। এ অবস্থা থেকে নবীনগরের নেতাকর্মীদেরকে উজ্জীবিত ও সুসংগঠিত করার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে গণসংযোগ করে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান। তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।অ্যাড. রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু বলেন, নেত্রীর মুক্তি এখন আমাদের লক্ষ্য, এ জন্য তৃণমূল নেতাকর্মী ও গণমানুষকে জাগিয়ে তুলতে প্রতিটি ইউনিয়নে লিফলেট বিতরণ পথসভা ও গণস্বাক্ষর অভিযান করছি।

    এই আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী একক প্রার্থী হচ্ছেন দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাজী মামুনুর রশিদ। পরিচ্ছন্ন ইমেজের এ নেতা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গণসংযোগসহ দল গুছানোর কাজ করছেন। এক সময়ের নবীনগরে জাতীয় পার্টির দুর্গ পুনরায় ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। নবীনগরের মানুষ জাতীয় পার্টিকে ভালোবাসে অতীতে দু’বার এমপি নির্বাচিত করেছেন, আগামীতেও করবেন বলে তিনি জানান। এ ছাড়া ২০১৪ সালের ক্ষমতাসীন সরকারের বিতর্কিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে তিনি জানান।
    এ আসনে মহাজোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ খোকন। তিনি বলেন, দেশ থেকে জঙ্গিবাদকে একেবারে নিশ্চিন করার লক্ষ্যে আবার শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতায় আসার দরকার। আমি মহাজোট থেকে মনোনয়ন চাইব। তবে মহাজোট যাকে মনোনয়ন দেবে আমি তার পক্ষ হয়ে কাজ করব। তিনি এলাকায় গণসংযোগ করছেন বলে জানান।

    ইসলামী ঐক্যজোটের (একাংশ) মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ মাওলানা মেহেদী হাসান। মুফতি আমিনীর আদর্শ লালন করে তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে মাঠে কাজ করছি। এলাকার সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছি।এই জন্য নবীনগর এলাকায় প্রতিটি ইউনিয়নে গণসংযোগ করছি।

    সুত্রঃ দৈনিক ইনকিলাব ।