• একজন প্রথম শ্রেনীর কবি ও বুদ্ধিজীবী সরকারকে বিপদে ফেলতে ছিঁচকে চোরের মত পালিয়ে যাচিছলেন,এ কেমন কথা?

    forhad 1 - একজন প্রথম শ্রেনীর কবি ও বুদ্ধিজীবী সরকারকে বিপদে ফেলতে ছিঁচকে চোরের মত পালিয়ে যাচিছলেন,এ কেমন কথা?

    প্রিভিলেজ কিড এর টাইমলাইন থেকে………

    ফরহাদ মজহার এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হেফাজতে আছেন। আমরা তার কোন বক্তব্য ও শুনতে পাইনি। অথচ আমরা যে যার চাহিদামত খবর পরিবেশন করে যাচ্ছি ! মিডিয়ার লোকজনও সবাই আমাদের মতই । সত্য কেউ জানাবে না,বলবে ও না। যা বলবে,যা জানাবে,তা নিজের মত করে,নিজের চাহিদামত বলবে-জানাবে। প্রয়োজনে তাতে মেশানো হবে রঙ-রূপ-মাধুরী,নয়তো বিষ। দেশের একজন প্রথম শ্রেনীর কবি ও বুদ্ধিজীবী”, সরকারকে বিপদে ফেলতে ছিঁচকে চোরের মত পালিয়ে যাচিছলেন নামতে নামতে আমরা কোথায় নেমেছি ?! বন্দুকযুদ্ধ, ক্রসফায়ারের গল্পকারদের গুরু মানুষের মাংসখেকো এই জম্বীরা কেউ কেউ নাকি আবার বুদ্বিজীবি, সাহিত্যিক ! গত কয়েক দশক যাদের দিনরাত কেটেছে ফরহাদ মজহারকে নিয়ে আলোচনা করে, খিস্তিখেউড় করে। বছরের পর বছর ধরে যাদের দিনরাতের রাজনীতি বিষয়ক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন এবং আছেন ফরহাদ মজহার, তারাই কিনা বলছেন মজহারের নতুন করে আলোচনায় আসার শখ হইছে !! আসলে যত চেষ্টাই করিনা কেন,শেষপর্যন্ত আমরা আমাদের লুকাতে পারিনা। নিজেদের আসল মাপটা নিজেদের অজান্তেই অন্যদের বুঝিয়ে দেই। একটা বড় ইস্যু সামনে আসলেই আমাদের রুচি,বোধ,প্রজ্ঞা, দূরদর্শীতার পারদটা কার কোন মাত্রার সেটা বোঝা যায়। আমাদের ভেতরকার বন্য,কদাকার রূপ ঝিলিক দিয়ে উঠে। ঠোঁটের ফাঁক গলে দেখা দেয় হিংস্র, ধারালো দাঁতের ঝিলিক।FB IMG 1499159310116 300x168 - একজন প্রথম শ্রেনীর কবি ও বুদ্ধিজীবী সরকারকে বিপদে ফেলতে ছিঁচকে চোরের মত পালিয়ে যাচিছলেন,এ কেমন কথা?

    কারো বিপদের কথা জেনে আপনি যদি তার লুঙ্গি নিয়ে টানাটানি করেন, হৃদয় হতে উৎসারিত পুলক ঠেকাতে না পারেন তাহলে নিশ্চিত জানবেন, সম্পূর্ণ মানুষ হতে এখনো আপনার অনেক বাকি। ফরহাদ মজহার নামের মানুষটির খোঁজ না পাওয়া পর্যন্ত সারাদিন তিনি বিপদে ছিলেন এটা ধরে নেওয়াটাই ছিল একজন মানবিক মানুষের লক্ষণ। এই বিশ শতকে ভিন্নমতের মানুষকে তুলে নিয়ে যান যারা; এবং এই খবরে পুলকিত হন যারা; তাদের অপরাধটা উনিশ শতকের মানে ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের চাইতে কোন অংশেই কম নয়। একটা সমাজকে সভ্য হতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু অসভ্য হবার জন্য খুব বেশি সময় লাগে না। অসভ্য সমাজে বাস করার অসুবিধা কি জানেন? আপনার বিরুদ্ধ মতের ফরহাদ মজহার যেভাবে হারিয়ে গিয়েছিলেন , ওই একই পথে মুনীর চেীধরীর মত একদিন আপনিও চিরতরে হারিয়ে যেতে পারেন। অন্ধকার যেমন ফরহাদ মজহার ,মুনীর চৌধুরীকে চেনে না, আপনাকেও চেনে না।177683 1 picsay 1 300x223 - একজন প্রথম শ্রেনীর কবি ও বুদ্ধিজীবী সরকারকে বিপদে ফেলতে ছিঁচকে চোরের মত পালিয়ে যাচিছলেন,এ কেমন কথা?

    নিউইয়র্ক থেকে ফিরে আসার পর থেকে গত সাড়ে চার দশক ধরে যে লোকটা সুন্দর একটা দেশের জন্য ক্রমাগত প্যাঁচাল পারছে, কলাম লিখছে, আহমেদ ছফার সাথে মিলে লেখক সমাবেশ করেছে । নয়া কৃষি নামের আন্দোলন করছে। লালন নিয়া গবেষণা করছে। রিং রোডের বাসায় প্রতি সপ্তাহে বারে হেগেল নামের জার্মান দার্শনিক নিয়া বয়ান করছে। উন্নয়নের সরকারের বিরুদ্ধচারন করেছে সেই লোকটা হঠাত গুম হয়ে গেলে সমালোচনা তো আমরা সরকারেরই করবো ,তাই না? দেশের একজন বিশিষ্ট নাগরিকের অপহরণের কথা শুনে সরকারের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করবো না? এ যাবত বাংলাদেশের সকল গুম,খুন ও অপহরণ তো সরকারি তরফেই হয়েছে। শাদা পোশাকের পুলিশ, রাজনৈতিক এজেন্ট, আর রাজনৈতিক সন্ত্রাসীদের হাতে। এই ধ্রুব সত্য সবাই বিশ্বাস করে, যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে না। ফরহাদ মজহার আপনার বিরুদ্ধ মতবাদের বলে আজ আপনি তার এই পরিস্থিতিকে সমর্থন করছেন, কিংবা ছলে, বলে, কলে, কৌশলে নানানভাবে লেজিটিমাইট করার চেষ্টা করছেন। স্রেফ বিরুদ্ধ মতবাদের জন্য। মনে রাখবেন, এই অনুশীলন, ভাবনার এই স্ট্রিম একদিন আপনাকেও স্রেফ আপনার মতবাদের জন্য যে কোন ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়াটাকেও লেজিটিমাইট করছে। আজ আপনি যে কারণে উচ্ছ্বসিত হচ্ছেন, ভবিষ্যতে হয়তো আপনার বিরুদ্ধ মতবাদের কেউ ঠিক এই একই কারণে উচ্ছ্বসিত হবেন। শুধুমাত্র বিরুদ্ধ মতবাদের জন্য আপনি একজনের এমন পরিস্থিতিকে সমর্থন করতে পারেন না। বুদ্ধিবৃত্তিক জগতের জন্য নিঃসন্দেহে এটি একটি অশনী সঙ্কেত! খুলনা রেন্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ বলছেন, ফরহাদ মজহারের সাথে একটা ব্যাগ পাওয়া গেছে, যেটাতে ফোনের চার্জার আর কিছু কাপড়চোপড় পাওয়া গেছে যা দেখে বুঝা যাচ্ছে তিনি নিজ ইচ্ছায় বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। অন্যদিকে ফরহাদ মজহারের নিজ বাসার সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা গেছে ফরহাদ মাজহার যখন ভোরে বাসা থেকে বের হচ্ছেন তখন তার হাতে কিছুই ছিলনা! সিসিটিভিতে দেখা গেলো ভোরে তিনি খালি হাতে বাইরে গেলেন অথচ ধরা পড়লেন হাতে চার্জার ওয়ালা ব্যাগ নিয়ে। মাইক্রোবাসে করে চলে গেলেন অথচ হানিফ বাসে ফিরলেন। ফরহাদ মজহার কেন যশোহর গেলেন? পিছনের সিটে তারে পাওয়া যাওয়ার আগে কেন রাস্তায় কোথাও দেখা গেলনা,পাবলিক দেখতে পেলনা ? তিনি মাইক্রোবাসে করে গিয়ে বাসে কেন ফিরলেন ? সেই মাইক্রোবাসটি কার? কে চালিয়েছিল? কোথায় তা এখন? এতো শহর থাকতে কেন খুলনা গেলেন ? খুলনার নিউ মার্কেট এরিয়াতে তাঁর কি কাজ ছিল? খুলনা থেকে হানিফ পরিবহনে চড়ে বসলেন, নেক্সট তিনি কোথায় যাচ্ছিলেন, না কি ঢাকা ফিরছিলেন? সন্ধ্যা পর্যন্ত তার চোখ বাঁধা ছিল কেন? গ্রিল হাউসে কি ভাত-ডাল-সব্জি বিক্রি হয়? সিসিটিভি ফুটেজে একবস্ত্রে বের হওয়া ব্যক্তি কীভাবে ব্যাগসহ ‘উদ্ধার’ হন? ৩৫ লাখ টাকার মুক্তিপণের ফোন কেন করানো হয়েছিল? কার ফোন পেয়ে তিনি বের হন? তাঁকে অসুস্থ, বিভ্রান্ত ও নির্বাক দেখাচ্ছিল কেন? ভারতে মুসলিম নিধন নিয়ে প্রতিবাদের পরপরই কেন এটা ঘটলো? প্রশ্নগুলো কিন্তু কেউ করছেন না ! বায়োস্কোপ দেখতে হয় বাস্তবতা থেকে মুখ ফিরিয়ে, বাক্সের ফোকরে মুখ লাগিয়ে। চারপাশের আলো দৃশ্য বাদে কেবল বায়োস্কোপওয়ালার ইচ্ছামতো দেখানো ছবি দেখতে হয়, শুনতে হয় তারই ধারাভাষ্য। নাবালকেরা দেখে আমোদ পায়।

    তিনি ভোরবেলা বের হলেন। পরিবার বলছে আটটা-ন’টার আগে বাসা থেকে বের হন না। অত:পর তিনি স্ত্রীকে জানালেন অপহরণের কথা, ৩৫ লাখ টাকা মুক্তিপণের কথা, তাকে মেরে ফেলা হতে পারে এমন আশঙ্কার কথাও ফোনে জানালেন। পুলিশ বলছে এরকম কোনো কল তাঁরা রিসিভ করেনি। তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়ালো, সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্য ভুল না কি মজহার পত্নী মিথ্যে বলেছেন? ওদিকে সারাক্ষণ তাঁর মোবাইল অন থাকলো। চার্জও থাকলো। সেই অন করে রাখা মোবাইল ট্র্যাক করে গোয়েন্দারা তার গতিবিধি মনিটরিং করতে পারলো। কি দারুণ গল্প, না! এভাবে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলো সালাহ উদ্দিন, বাসের টিকেট কেটে সোজা ইন্ডিয়া গেল। ফিরতি টিকেট কাটার আগেই ধরা পরে গেলো । ইলিয়াস আলি সেই যে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে লুকালো আর বেরই হলোনা !!

    FB IMG 1499160505085 300x159 - একজন প্রথম শ্রেনীর কবি ও বুদ্ধিজীবী সরকারকে বিপদে ফেলতে ছিঁচকে চোরের মত পালিয়ে যাচিছলেন,এ কেমন কথা?ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করা হয়েছে, এ খুবই আনন্দের খবর । সরকারের সদিচ্ছা থাকলে সব সম্ভব।এবার এ পর্যন্ত যারা অপহরণ, গুমের শিকার হয়েছেন, তাঁদের সঠিক ‘খবরটি’ সরকার জানাক। সরকারকে বিপাকে ফেলার জন্য ফরহাদ মজহারের মত লোক স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেছিলেন সরকারী তরফে এই গল্প আমরা বিশ্বাস করিনা। আপনাদের যাদের বিশ্বাস করার তারা করেন। অমানুষগুলোকে আমাদের অনেক আগেই চেনা হয়ে গেছে। তাই যারা ফরহাদ মজহারের অপহরণ নিয়ে নানা গল্প ফাঁদার চেষ্টা করছেন তাদের সাথে তর্ক করে সময় নষ্ট করার চাইতে আসেন বৃহত্তর লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেই । বিভ্রান্ত না হয়ে অহেতুক বাকোয়াজি না করে ফরহাজ মজহারের মুখে আসল ঘটনাটি জানার অপেক্ষায় থাকি । এমন জটিল পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল মানুষের মত দায়িত্বশীল আচরন করি ।

    বি:দ্র: যারা নিজেরা লুঙ্গি পরেন না, যাদের বাবারা লুঙ্গি পরেন না , যাদের ভাইয়েরা লুঙ্গি পরেন না ,যারা সুইসব্যাংকের ভল্টে টাকা জমানো সাহেব ফ্রেন্ড লিস্ট থেকে বাদ দেওয়ার আগেই তারা দয়া করে আনফ্রেন্ড হয়ে যান। অনেক লুঙ্গি পরা মানুষ অপেক্ষমান আছেন। বন্ধু হিসাবে আমার দরকার লুঙ্গি পরা কিছু মানুষ। ধন্যবাদ।