• ………. এবং মওদুদ আহমেদ। প্রিভিলেজ কিড

    1497236548 picsay - .......... এবং মওদুদ আহমেদ। প্রিভিলেজ কিড

    ………. এবং মওদুদ আহমেদ
    বার বার দল বদল করার কারণে আপনি অবশ্যই মওদুদ আহমেদের সমালোচনা করতে পারেন , আইনমন্ত্রী থাকাকালে উনার কিছু সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতে পারেন, একজন আইনজীবি হিসাবে তিনি কতটা ভালো –মন্দ বা প্রফেশনাল সেটার সমালোচনা করতে পারেন, এরশাদের মন্ত্রী এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট থাকার কারণেও উনার সমালোচনা করতে পারেন। কিন্তু বাড়ি ছাড়া হওয়ার পর খালেদ মোশারফ আর আলতাফ মাহমুদের মেয়েদ্বয় নৌকায় বসে তার বিরোদ্বে যে ভাষায় কথা বলছেন , প্রোপাগান্ডা করছেন , সেটাকে কিছুতেই আপনি সমর্থন করতে পারেন না।
    আদালতের (ভীষণ স্বাধীন!) রায় নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। বাংলাদেশের আইন আদালত কারা কিভাবে নিয়ন্ত্রন করছে এটা যেমন সবাই জানেন ; তেমনি মওদুদ আহমেদকে কেনো বাড়ি ছাড়তে হয়েছে এটাও সবাই জানেন । দল ভাঙ্গার ব্যাপারে চাপ ছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের উপর। কিন্তু তিনি সেই চাপের কাছে হার মানেননি ,নতি স্বীকার করেননি। তাই তাকে বাড়ি ছাড়তে হয়েছে। দল ভাঙ্গলে বা আওয়ামীলীগে থাকলে তাকে বাড়ি ছাড়তে হতোনা।
    আমি এখানে মওদুদ আহমেদকে ডিফেন্ড করছিনা। দখল আর উচ্ছেদের কাহিনী পড়লেই আপনাদের কাছে তা পরিষ্কার হবে। পূর্ব-পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রশক্তির নেতা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নেতা মওদুদ আহমদ ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানের আইনজীবী প্যানেলের সদস্য ছিলেন । শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে উকালতি করার কারনে ১৯৭২ সালে আওয়ামী সরকারের পোষ্টমাষ্টার জেনারেল পদ লাভ করেন। সরকারের খাস লোক বিধায় ১৯৭২ সালের তৎকালীন সরকারের আমলে গুলশানের বাড়ীটি অন্য অনেকের মত মুফতে বরাতে জোটে উনার। যে বাড়িটি থেকে তিনি সম্প্রতি উৎখাত হয়েছেন। বেচারা মওদুদ নৌকা থেকে নেমে না গেলে এ বয়সে বাড়ী থেকে তাকে উৎখাত হতে হতো না।১৯৭৭ সালে আওয়ামীলীগ থেকে প্রথমে বিএনপি, ১৯৮৫ সালে জাতীয় পার্টি হয়ে শেষে ১৯৯৬ সালে আবারো বিএনপিতে ফিরেছেন। এটাই তার জন্য কাল হয়েছে। কারন আওয়ামী এস্টাব্লিশ্ম্যান্টের ঈমানী বিশ্বাস যে, একমাত্র আওয়ামী লীগই অর্পিত-সম্পত্তি দখলের হক রাখে কারন, বাংলাদেশের হিন্দু-বিহারী-পাহাড়ী একমাত্র আওয়ামী লীগের গণিমতে মাল। এদের সম্পত্তি দখল করার হক অন্য কারো নেই। নৌকায় ভরসা থাকলে অর্পিত-সম্পত্তি দখল করলেও আদালতে মামলা হবে না। তবে ভরসা হারালে আদালতের রায়ে বাড়ী হারাবেন।
    ঘটনাচক্রে মনে পড়ে গেলো রমনা সিগারেটের মালিক হাজী বশির ও আলফা ইনস্যুরেন্সের মালিক ইউসুফ হারুনের কথা। ১৯৭১ সালে, যুদ্ধে ভারত-বাংলাদেশের পক্ষে সক্রিয় থাকলেও ভাসানী ন্যাপ সহ আজীবন বামপন্থীদের আর্থিক সাহায্য দেবার পাপে ১৯৭২ সালে হাজী বশিরের প্রেস ও স্থাবর সম্পত্তির ওপর আওয়ামী সরকারের নেক নজর পড়ে। বশিরের বেহাত সম্পত্তিতে গড়ে ওঠে “বাংলার বানী” পত্রিকা। পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা জাতির ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মণি চেতনাবলে “বিহারী” বশিরের সম্পত্তির ওয়ারিশ বনে যান। এদিকে ধানমন্ডীর ২৭ নম্বরের বাড়ী যায় আবুল খায়ের লিটুর হাতে, আর আলফা ইনস্যুরেন্সের মালিক হারুনের কর্মচারী শেখ মুজিবের দখলে যায় ধানমন্ডীর ৩২ নম্বরের বাড়ী ! অবশ্য জাতি ভাল করেই জানে যে, ভালবেসে এই বাড়ীগুলো আসলে উপহার দেয়া হয়েছে। দখলের কথাগুলো বাংলাদেশে ঘাপটি মেরে পরে থাকা স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী অপশক্তির প্রোপ্যাগান্ডা !!
    যাহোক, খালেদ মোশারফ আর আলতাফ মাহমুদের মেয়েদ্বয়ের বক্তব্য খন্ডন করে মওদুদ আহমেদ নিজেই বিবৃতি দিয়েছেন। এখন দেখা যাক তাদের বোধোদয় হয় কিনা। আমার কাছে তাদের বক্তব্য শুনে মনে হয়েছে খালেদ মোশারফ আর আলতাফ মাহমুদের উত্তাধিকার না থাকলেই বোধহয় বেশি ভালো হত। জয় বাংলা !!