• কোন শোক নয় ভ্রমন এবং খেলা দেখার উম্মাদনায় বাংলাদেশ। প্রিভিলেজ কিডের টাইমলাইন থেকে।

    FB IMG 1497499967563 - কোন শোক নয় ভ্রমন এবং খেলা দেখার উম্মাদনায় বাংলাদেশ। প্রিভিলেজ কিডের টাইমলাইন থেকে।

    কোন শোক নয় ভ্রমন এবং খেলা দেখার উম্মাদনায় বাংলাদেশ। প্রিভিলেজ কিডের টাইমলাইন থেকে।

    বাংলাদেশে দলের সর্বশেষ খবর জানতে আপনারা যারা মেসেজ দিয়েছেন, তাদেরকে হতাশ করার জন্য দু:খিত। না বন্ধুরা আজকে কোন ক্রিকেট নয় ,ক্রিকেটাররাও আজকে ক্রিকেট নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না। আজ পাহাড়ি ধসে বাংলাদেশে প্রায় ১৪৫ জন মানুষ মারা গেছেন। রাষ্ট্রীয় কোন শোক বার্তা নেই, প্রধানমন্ত্রীর কোন শোক বার্তা নেই।

    মসজিদে মৃতদের ব্যাপারে বিশেষ কোন দোয়া খায়েরের ব্যবস্থা নেই। বরং মানুষ মেতে আছে ক্রিকেট নিয়ে। ক্রিকেটের চাইতে জীবন অনেক বড়। আমাদের ক্রিকেটাররা তাদের ফেইসবুক পোস্টে সে কথা জানিয়েছেন , শোক প্রকাশ করেছেন। কালকে তারা কালো ব্যাজ পড়ে মাঠে নামার কথা বলেছেন।

    কোন এক আদিবাসী বলেছিলেন, “পৃথিবীর শেষ গাছটি যখন কাটা হবে, পৃথিবীর শেষ নদীর জল যখন বিষাক্ত হবে, পৃথিবীর শেষ মাছটি যখন ধরা হবে, তখন আমরা বুঝতে পারবো টাকা খেয়ে বাঁচা যায় না।” দেশে খাল বিল নদী নালা পাহাড় পর্বত রাস্তা ঘাট বন বাদাড় দখল ও ধ্বংসের মহোৎসব চলছে। প্রকৃতির উপর জোর জবরদস্তি করলে এই পরিণতি আমাদের সবাইকেই বরণ করে নিতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশের সাথে বন্ধুর মতো আচরণ করে। নিজের জীবনের চাইতেও তাদের কাছে একটি গাছের মূল্য, বনের গুরুত্ব বেশি থাকে। আর আমরা পাহাড় কেটে বাংলো বানাই, নদী-নালা ভরাট করে দালান বানাই, গাছ কেটে রাস্তা বানাই, বন ধ্বংস করে বিদ্যুত কেন্দ্র বানাই। হায়রে আত্নঘাতী জাতি !!

    যাহোক, উন্নত বিশ্বের অন্য কোন দেশে পাহাড় ধ্বসে ১৪৫ মানুষ মারা গেলে হয়তো জাতীয় শোক দিবস পালন করা হতো। সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী রাস্ট্রীয় সফরে থাকলে সেই সফর সংক্ষিপ্ত করা হতো। কিন্তু এটা যেহেতেু বাংলাদেশ , এখানে যেহেতু ক্ষমতায় থাকার জন্য মানুষের ভোট লাগেনা, টাকা পাচার আর লুটপাটের জন্য শাসনের বৈধতা লাগে না বরং ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে, শোষন-নির্যাতন চালাতে এবং জনগণকে দমনে রাখতে বড় প্রশাসনের বেতন ভাতা/ ব্যয় বাড়ালেই হয় সেহেতু এখানে নিম্নচাপে সাগরে ৮০ জন জেলে নিখোঁজ হলে , রানা প্লাজা ধ্বসে ১২০০ মানুষ মারা গেলে, লঞ্চ ডুবে ৪০০ মানুষ মারা গেলে কিংবা পাহাড় ধ্বসে এমন ১৪৫ মানুষ মারা গেলে কার কিইবা আসে যায়! ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে তারা আর কয়জন! তাই এই দেশের প্রধানমন্ত্রী পাহাড় ধ্বসে ১৪৫ মানুষের মৃত্যু সংবাদ শোনার পরেও তার সুইডেন সফর শেষে আজ যুক্তরাজ্যে এসেছেন । দলীয় হোমরা-চোমরাদের ইফতার পার্টিতে নিমন্ত্রন করেছেন। কালকে মাঠে বসে খেলা দেখার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেছেন। আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে !FB IMG 1497499575905 169x300 - কোন শোক নয় ভ্রমন এবং খেলা দেখার উম্মাদনায় বাংলাদেশ। প্রিভিলেজ কিডের টাইমলাইন থেকে।

    চেতনার তাপ্পিধারী ,পীরে বোগদাদী অবৈধ প্রধানমন্ত্রী এবং যারা খেলা নিয়ে বেশি মাতামাতি করছেন তাদেরকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার কথাগুলোই আবার মনে করিয়ে দিই । মাশরাফি বলেছেন —“ কিছু হলেই আমরা বলি, এই ১১ জন ১৬ কোটি মানুষের প্রতিনিধি। আন্দাজে ! তিন কোটি লোকও হয়তো খেলা দেখেন না। দেখলেও তাঁদের জীবন-মরণ খেলায় না। মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন রাজনীতিবিদেরা, তাঁদের স্বপ্ন ভবিষ্যৎ অন্য জায়গায়। এই ১১ জন মানুষের ওপর দেশের মানুষের ক্ষুধা, বেঁচে থাকা নির্ভর করে না। ক্রিকেটারদের দিকে নয়, দেশের মানুষকে তাকিয়ে থাকতে হবে একজন বিজ্ঞানী, একজন শিক্ষাবিদের দিকে। ক্রিকেটাররা নন, মুক্তিযোদ্ধারাই হচ্ছেন এ দেশের প্রকৃত বীর। চিকিৎসক, শ্রমিক, কৃষকেরা হচ্ছেন প্রকৃত তারকা। দেশের তুলনায় ক্রিকেট অতি ক্ষুদ্র একটা ব্যাপার। খেলা কখনো একটা দেশের প্রধান আলোচনায় পরিণত হতে পারে না। দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার আছে যার সমাধান বাকি। সেখানে ক্রিকেট নিয়ে পুরো জাতি, রাষ্ট্র এভাবে এনগেজ হতে পারে না। এই যারা ক্রিকেটে দেশপ্রেম দেশপ্রেম বলে চিৎকার করে, এরা সবাই যদি একদিন রাস্তায় কলার খোসা ফেলা বন্ধ করত, একটা দিন রাস্তায় থুতু না ফেলত বা একটা দিন ট্রাফিক আইন মানত, দেশ বদলে যেত। এই প্রবল এনার্জি ক্রিকেটের পেছনে ব্যয় না করে নিজের কাজটা যদি সততার সঙ্গে একটা দিনও সবাই মানে, সেটাই হয় দেশপ্রেম দেখানো। আমি তো এই মানুষদের দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটাই বুঝি না! আজকে আমাদের সবচেয়ে বড় তারকা বানানো হচ্ছে, বীর বলা হচ্ছে, মিথ তৈরি হচ্ছে। এগুলো হলো বাস্তবতা থেকে পালানোর ব্যাপার। “aW1hZ2UtMzg3MDMuanBn 1 300x225 300x225 - কোন শোক নয় ভ্রমন এবং খেলা দেখার উম্মাদনায় বাংলাদেশ। প্রিভিলেজ কিডের টাইমলাইন থেকে।

    মাশরাফি ঠিকই বলেছেন- হ্যাঁ, আমাদের পালানোর জায়গা দরকার হয়। কারণ, আমাদের বাস্তবতাটা সুখকর নয়। এই যে চালের দাম আরো বাড়ছে, অভাবী লোকের না খাওয়ার দিন আবার শুরু হচ্ছে, পাহাড়ধসে ১৪৫ জনেরও বেশি মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে । আমাদের সকল আশা মৃত প্রায়। তবে এই হতাশাগ্রস্ত জাতিকে সুখী করার দায়িত্ব শুধু ক্রিকেটারদের একার নয়। এ দায়িত্ব প্রধানত যাঁরা সংসদে বসে সিদ্ধান্ত নেন, দেশ চালান, তাঁদের। খেলার জয় আমাদের একদিনের সুখ দেয়, কিন্তু সারা বছরের বাঁচা-মরা তো তাঁদের ওপরই নির্ভরশীল। দেশপ্রেমের প্রমাণ শুধু খেলোয়াড়েরাই রাখবেন, আর সবাই নিজেরা কিছু করবেন না, এমনটা অন্তত আমাদের ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন মাশরাফি মনে করেন না।

    পাহাড় ধসে শতাধিক মৃতদের স্মরণে জাতীয় শোক ঘোষণা করা হোক। পাহাড়ের পরিবেশ ও বৈচিত্র্য ধংস করে, নির্বিচারে পাহাড় কেটে, পাহাড়ের বৃক্ষরাজি নষ্ট করে পাহাড় গুলোকে যারা মৃত্যু ফাদ বানিয়েছে সেই দুর্বৃত্তদের বিচার হোক। ক্রিকেট বাস্তবতা ভোলানোর আফিম না হয়ে, দেশপ্রেমের টনিক হোক। পাহাড় ধ্বসে নিহতদের সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।