• ক্যাপ্টেন তাজ মাঠেই আছেন, আর কোন্দলে জর্জরিত বি,এন,পিকে কৃষিবিদ পলাশ সুসংগঠিত করতে বদ্ধপরিকর।

    aW1hZ2UtODQzNDEuanBn - ক্যাপ্টেন তাজ মাঠেই আছেন, আর কোন্দলে জর্জরিত বি,এন,পিকে কৃষিবিদ পলাশ সুসংগঠিত করতে বদ্ধপরিকর।

    বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধিঃ

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম। নির্বাচনকে সামনে রেখে নিয়মিত সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক এ প্রতিমন্ত্রী। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এখন অনেকটাই জর্জরিত রয়েছে অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। দলটির সাত নেতা এবং জাতীয় পার্টির এক নেতা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। একসময় বাঞ্ছারামপুরের এই আসনটি বিএনপি অধ্যুষিত ভাবা হলেও সেই পরিস্থিতি আর নেই। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ এবং ২০০৮ থেকে অদ্যাবধি আসনটি রয়েছে আওয়ামী লীগের দখলে। একক নেতৃত্বে সেখানকার পরিস্থিতি দলটির পক্ষে আনতে সক্ষম হয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম।

    বাঞ্ছারামপুরের স্থানীয় সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম (অব.) আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগ করলেও আরো বেশ কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন বলে জানা যায়। তারা হলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক যুগ্মসচিব ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক, সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ আবুল খায়ের দুলাল, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ বাবু।

    এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম (অব.) বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এলাকায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। প্রত্যন্ত বাঞ্ছারামপুর উপজেলাকে অবকাঠমোসহ বিভিন্ন উন্নয়নের মাধ্যমে একটি আদর্শ উপজেলা রূপে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। একসময়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে সড়কপথে যাওয়া যেত না। আজ প্রতিটি গ্রামেই পাকা রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করা যায়। আমি এলাকায় উন্নয়নের পাশাপাশি দলীয় কর্মকান্ডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার চেষ্টা করেছি। আজীবন বাঞ্ছারামপুরবাসীর উন্নয়নে কাজ করে যাব।’

    বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যাপ্টেন তাজ সাহেব আমাদের বাঞ্ছারামপুরের অহংকার। তার নেতৃত্বে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কঠোর ঐক্যবদ্ধ আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। তাজ সাহেবের প্রতি আমাদের রয়েছে অগাধ আস্থা ও শ্রদ্ধা। তিনি মনোনয়ন পেলে বিগত দিনের মতো আগামী নির্র্বাচনেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হবেন। আবার ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলামকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় বাঞ্ছারামপুরবাসী।’

    বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ নির্বাচনী এলাকা। ওয়াকেবহাল সূত্র জানায়, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত বাঞ্ছারামপুর আসনে আওয়ামী লীগ চারবার, বিএনপি তিনবার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তিনবার জয়ী হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যানারে এমপি নির্বাচিত হন ড. এ ডব্লিউ এম আবদুল হক, ১৯৭৮ সালে স্বতন্ত্র থেকে মোজাম্মেল হক অদুদ মিয়া, ১৯৮৬ সালে স্বতন্ত্র শহীদুর রহমান, ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র থেকে এ টি এম ওয়ালী আশরাফ, ১৯৯১ সালে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন এ টি এম ওয়ালী আশরাফ, ১৯৯৪ সালে বিএনপির সংসদ সদস্য এ টি এম ওয়ালী আশরাফ মারা গেলে উপনির্বাচনে বিএনপির শাহজাহান হাওলাদার সুজন নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেয়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম (অব.), ২০০১ সালে বিএনপির আবদুল খালেক, ২০০৮ আবার আওয়ামী লীগের ব্যানারে নির্বাচিত হন ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম (অব.), তিনি ফের ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যানারে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম (অব.) ৯৪ হাজার ১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবদুল খালেক পান ৫৮ হাজার ৭৯৪ ভোট।

    জানা গেছে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভরাডুবির পর সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল খালেক বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকা- থেকে দূরে সরে যান। পরে ২০০৯ সালে উপজেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে ডা. রফিকুল ইসলাম খোকনকে আহ্বায়ক করা হয়। খালেক ২০১৪ সাল থেকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও অভিযোগ রয়েছে, সাংগঠনিক সভা, কমিটি গঠন হয়েছে রাজধানীকেন্দ্রিক। তবে কয়েক মাস ধরে দলীয় কর্মকান্ড ও নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। এ বিষয়ে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল খালেক বলেন, ‘দল আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব। যদি অন্য কোনো প্রার্থীকেও মনোনয়ন দেয় আমি তার জন্য কাজ করব। তবে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে আমার বিশ্বাস।’

    এদিকে, বিএনপির নতুন মুখ কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ বাঞ্ছারামপুরের প্রতিটি গ্রাম চষে বেড়িয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, ‘বাঞ্ছারামপুর বিএনপির রাজনীতি গতিশীল করতে আমি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। সাধ্যমতো ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আশা করি সব দিক বিবেচনা করে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। তবে দল যে সিদ্ধান্ত দেবে তাই আমি মেনে নেব।’ এ ছাড়া বিএনপি থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক সিকদার, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম যুক্তরাষ্ট্র শাখার যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসের খান অপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউদ্দিন জিয়া, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বোরহান উদ্দিন আহমেদ, সহসভাপতি মেজর (অব.) সাইদুল ইসলাম সাঈদ, উপজেলা বিএনপির সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম খোকন, জাতীয় পার্টি থেকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মোস্তফা আজাদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কবি শাহজাহান আবদালী।

    আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে লড়াই হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ক্যাপ্টেন তাজের সাংগঠনিক কর্মকা-ে আওয়ামী লীগ এখন বাঞ্ছারামপুরে শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ক্যাপ্টেন তাজ ২০০৮ সালে নির্বাচিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হন।