• জাতীয়তাবাদী নেত্রী রাবেয়া চৌধুরী কেমন আছেন?

    FB IMG 1505576763052 - জাতীয়তাবাদী নেত্রী রাবেয়া চৌধুরী কেমন আছেন?

    কুমিল্লা প্রতিনিধি ঃ

    কেমন আছেন বিএনপির বেগম রাবেয়া চৌধুরী….??

    যিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই এই দলে কাজ করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য ৯০ ‘এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে যিনি মাঠে ছিলেন বয়সের ভারে অসুস্থতা তার নিত্যসঙ্গী।

    তবে মনোবল হারাননি এতটুকু। ইচ্ছা আর আদর্শিক শক্তি তার অদম্য। প্রচণ্ড পায়ের ব্যথার কারণে চলাফেরা করাও মুশকিল। তবে সুযোগ পেলেই ছুটে যান রাজপথে। শ্লোগান  ধরতে চান জিয়ার আদর্শে।পায়ের ব্যথা, বার্ধক্যজনিত রোগসহ নানা সমস্যা নিয়ে বাসায় বসে পত্রিকা পড়ে, টিভি দেখে ও নেতাকর্মীদের খোঁজ-খবর নিয়েই অসুস্থ ও বৃদ্ধ স্বামীকে নিয়ে সময় কাটে তার। প্রচণ্ড অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে এখনো সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়েন রাজপথে। সর্বশেষ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের দিন সকালে দলীয় সবাইকে অবাক করে দিয়ে হাজির হন আদালত চত্বরে।এতে নেতাকর্মীরা দারুণ উজ্জ্বীবিত হয় এবং ফলাফল ও আসে বিএনপির অনুকূলে।

    অসুস্থ ও বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও বর্তমান সরকারবিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে প্রতিনিয়ত খোঁজ-খবর রাখছেন। প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মীদের।পরিচ্ছন্ন রাজনীতির পথিকৃৎ বেগম রাবেয়া চৌধুরীর বর্তমান দিনকাল কেমন যাচ্ছে, জীবন সায়াহ্নে উপনীত হয়ে কী ভাবছেন তিনি, পেছনে ফেলে আসা গৌরবোজ্জ্বল অতীত তাকে নস্টালজিয়ায় ভোগায় কিনা তা জানার চেষ্টা করে পজিটিভ নিউজ।

    তবে বয়সের কারণে স্মৃতি কিছুটা বিভ্রাট করতে পারে এ অজুহাত সংশয় আগে বলে রেখেছিলেন।
    বৃহত্তর কুমিল্লার বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশ
    জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির
    ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি র সভাপতি বেগম রাবেয়া চৌধুরী। ১৯৭৯, ১৯৯১ ও ২০০১-এর জাতীয় সংসদের তিনি সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ছিলেন।

    তৎকালীন পাক-ভারত উপমহাদেশের একটি বর্ণাঢ্য
    রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক পরিবারের সন্তান বেগম
    রাবেয়া চৌধুরী। বাবা ছিলেন প্রখ্যাত জমিদার
    পরিবারের ও যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য আশরাফ
    উদ্দীন চৌধুরী ও মাতা ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ‘সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা, দেশ মাতারই মুক্তি-কামী দেশের সে যে আশা’ শীর্ষক চাষা কবিতার কবি রাজিয়া খাতুন চৌধুরানী। বয়সের দিক থেকে বর্তমানে ৮০-ঊর্ধ্ব বেগম রাবেয়া চৌধুরী মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সেই স্নেহময়ী মাকে হারান। পিতার ও পরিবারের অন্যদের স্নেহ-মমতার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হন তিনি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে বারবার জেল খাটতে হয়েছে তৎকালীন মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা পিতা আশরাফ উদ্দিন চৌধুরীকে।

    রাজনীতির প্রথম দীক্ষাটি আসে রাজনৈতিক পিতার কাছ থেকেই। ‘রাজনীতি হলো জনগণকে দেয়ার, নেয়ার নয়’। পিতার এই আদর্শটি সারা জীবন আগলে রেখেছেন বেগম রাবেয়া চৌধুরী। ১৯৭৭-৭৮ দিকে জাতীয় মহিলা সংস্থা কুমিল্লার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই একজন কর্মঠ এবং সাহসী নারীনেত্রী হিসেবে সবার নজর কাড়েন তিনি। তার নেতৃত্বের গভীরতা ও বিশালতা টের পেয়ে যান সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তার।

    তাই ১৯৭৮ সালে বিচারপতি আবদুস সাত্তার জাগদল গঠন করলে সাবেক মন্ত্রী ফাতেমা কবিরের সঙ্গে বেগম রাবেয়া চৌধুরীকেও তিনি বৃহত্তর কুমিল্লার (কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর) যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত করেন। এই যে রাজনীতিতে পা, তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। লায়ন ক্লাব অব কুমিল্লার প্রেসিডেন্ট হিসেবে আর্তমানবতার সেবায়ও কাজ করেন দীর্ঘদিন।

    ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান
    কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার সুন্দরপুরে খাল কাটা কর্মসূচি উদ্বোধন করতে এলে জিয়াউর রহমানের নজর কাড়েন তিনি। এর পর ১৯৭৯ সালে দেশের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের নির্বাচন হলে কুমিল্লা উত্তর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংরক্ষিত মহিলা আসন থেকে প্রথমবারের মতো এমপি হন। এরপর বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই সংরক্ষিত আসনের এমপি ছিলেন রাবেয়া চৌধুরী। জনাবা চৌধুরীর কর্মযজ্ঞে ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে উঠেন বিএনপি র তৎকালীন স্থানীয় নেতারা। যার কারণে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর কুমিল্লায় ৭৮ সদস্য বিশিষ্ট জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা কমিটি করা হলে সেখানে একজন এমপি হয়েও বেগম রাবেয়া চৌধুরীকে ৭৮ নম্বর সদস্য করা হয়েছে। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দলীয় হাইকমান্ডে এ নিয়ে তিনি কোনো অভিযোগ, অনুযোগ জানাননি। নীরবে-নিভৃতে কাজ করে গেছেন।

    এরশাদ সরকার ক্ষমতায় আসার পর কার্যত তখন কুমিল্লায় কোনো সক্রিয় বিএনপির কমিটি ছিল না। ১৯৮৩ সালে তার আহ্বানেই প্রথম বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো কুমিল্লার টাউন হল মাঠে জনসভায় অংশ নেন। আর সে জনসভায় সভাপতি ছিলেন বেগম রাবেয়া চৌধুরী। পরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯০ সালের পর থেকে বিএনপির যতবারই কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়েছে ততবারই ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
    জীবনের শেষ সায়াহ্নে উপনীত হয়ে আপনার উপলদ্ধি কী ?

    জানতে চাইলে ভারাক্রান্ত মনে প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ বলেন, দীর্ঘ ৯ বছর এরশাদ বিরোধী
    আন্দোলন সংগ্রাম করে আমরা যে গণতন্ত্রের নব যাত্রা শুরু করেছিলাম ক্ষেত্রবিশেষ কিছু বিতর্ক বাদ দিলে মোটামুটি একটা ধারাবাহিকতার দিকে অগ্রসর হতে ছিল সে গণতন্ত্র। কিন্তু ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে সে গণতন্ত্র গলা টিপে হত্যা করল আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি তো ছিল গণতন্ত্রের জন্য একটি কলঙ্ক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ জানুয়ারি যে কলঙ্ক জাতির কপালে লেপন করেছেন জানি না জীবদ্দশায় এই কলঙ্ক মোচন আর দেখে যেতে পারব কি-না। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জিয়া পরিবারকে একেবারে শেষ করে দিতে চায়। আপোোষহীন নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গোটা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের জন্য একটি আদর্শের নাম।বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে তাকে ৪০ বছরের স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি ছাড়া থেকে শুরু করে এমন নির্মম নির্যাতন-নিপীড়ন নেই যা করছে না। তারপর ও তিনি মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনথেকে বিচ্যুত হননি। এমনকি আদরের ছোট ছেলের লাশ কাঁধে নিয়েও তিনি আন্দোলন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি। বর্তমানে দেশে মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি তো নেই-ই এমনকি লাশ পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। এই বিভীষিকাময় অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র
    পথ হলো দেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, কুমিল্লা জেলা বিএনপির দীর্ঘ দিনের সভাপতি, তিনবারের সাবেক এমপি বেগম রাবেয়া চৌধুরী অসুস্থ। তাই বুধবার  জেলা বিএন পির সদস্য সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি। রাবেয়া চৌধুরী এখন শয্যাশায়ী। তাই বাসায় শয্যাশায়ী অবস্হায় দলের সদস্য নবায়ন ফরম পূরণ করেন বেগম রাবেয়া চৌধুরী। উল্লেখ্য যে, পুলিশের আপত্তির কারনে জেলা বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়।

    বেগম রাবেয়া চৌধুরী বিএনপি তথা বাংলাদেশের
    রাজনীতির একটি পরিচিত নাম। তাঁর বাবা আশ রাফ উদ্দীন চৌধুরী ছিলেন অবিভক্ত পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রী। মা রাজিয়া খাতুন চৌধুরানী কালজয়ী কবিতা চাষা ( সবসাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা) কবিতার কবি। রাবেয়া বৌধুরী
    বিএনপি প্রতিষ্ঠাকালীন জেলা বিএনপির সদস্য।
    তিনবার এমপি ছিলেন। আন্দোলন সংগ্রামের একটি নাম হল রাবেয়া চৌধুরী।

    পজিটিভ নিউজ ও পজিটিভ অনলাইন টিভি চ্যানেল পরিবার তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে।