• জুবায়েরকে চান মাশরাফি

    4f200d0192bd79c8b2892d5c02a3a9cf 5af01c5c5c702 - জুবায়েরকে চান মাশরাফি

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    ১৩ মে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় দলের ক্যাম্পে জুবায়ের হোসেনকে দেখলে নিশ্চয়ই অবাক হবেন। চলমান বাস্তবতায় সেটাই হওয়া উচিত। গত ছয় মাসে ক্রিকেট বোর্ডের অধীনে কোনো লিগে খেলতে না-পারা জুবায়ের প্রাথমিক ক্যাম্পে জায়গা পান কী করে!

    প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনও আভাস দিয়েছেন সে রকম। আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য আজকালের মধ্যে ঘোষণা হতে যাওয়া ৩১ সদস্যের প্রাথমিক দলে এই লেগ স্পিনারের থাকার সম্ভাবনা কম। তবে অনুশীলন ক্যাম্পে জুবায়ের থাকছেন, থাকছেন ৩১ জনের বাইরের একজন হিসেবেই। কারণ ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা তাঁর ভবিষ্যৎ ছকে রাখতে চান ২২ বছরের যুবা এই লেগ স্পিনারকে। নির্বাচকদের তাই অনুরোধ করেছেন, জুবায়েরের বোলিংটা দেখার জন্য হলেও যেন তাঁকে ক্যাম্পে রাখা হয়।

    জুবায়েরকে নিয়ে মাশরাফির ভাবনার পরিসর বেশ বড়। কাল মুঠোফোনে বলছিলেন, ‘সব দলেই লেগ স্পিনার আছে। আমাদের একজন লেগ স্পিনার থাকলে দলটা পূর্ণতা পাবে। জুবায়েরের টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা আছে। তা ছাড়া দুই মাস ধরে ও অনেক পরিশ্রম করেছে। সঙ্গে কোচ নিয়ে কাজ করেছে। ফিটনেস বাড়িয়েছে। অনুশীলনে বল করলে আমরা তার অবস্থাটা দেখতে পারব। সে জন্যই চেয়েছি, ও যেন অন্তত অনুশীলনে থাকে।’

    কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে জুবায়েরও বলছিলেন তাঁর ফেরার লড়াইয়ের কথা, ‘এখন অনুশীলন অনেক ভালো হচ্ছে। আগে এত ফিট ছিলাম না। এখন ফিট হয়েছি, ওজনও কমছে। অনুশীলন-সুবিধা পাচ্ছি। শুক্রবারও আমাকে উইকেট দেওয়া হয়। প্রতিদিন ২০ ওভারের মতো বোলিং করি কোচ শাহীন (হ‌ুমায়ূন কবির) ভাইকে নিয়ে। শাহীন ভাই যেভাবে বলেন, সেভাবে অনুশীলন করে যাচ্ছি। বোলিংয়ে উন্নতিও হচ্ছে।’

    ২০১৪ সালে জাতীয় দলের নেটে দেখেই জুবায়েরকে টেস্টে নামিয়ে দিয়েছিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। অভিষেক টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ইনিংসে ২ উইকেট। সিরিজের তৃতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসের ৫টিসহ নিলেন ৭ উইকেট। মোট ৬ টেস্টে এখন পর্যন্ত শিকার ১৬ উইকেট। আর ৩ ওয়ানডেতে উইকেট ৪টি, একটি টি-টোয়েন্টিতে ২টি। তাঁর হয়তো আরেকটু সুযোগ প্রাপ্য ছিল। কিন্তু যাঁর খেয়ালে সুযোগ পেয়েছিলেন, সেই হাথুরুসিংহেই যে একটা পর্যায়ে জুবায়েরকে ছুড়ে ফেলেন দল থেকে।

    সেটির কারণও ছিল। কাঁচা লেগ স্পিনকে পরিণত করে তুলতে সময় লাগে, প্রয়োজন পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ। জুবায়ের পাননি সেটাই। গত বিপিএলে দল পাননি। এবারের প্রিমিয়ার লিগে নামকাওয়াস্তে ছিলেন মোহামেডানের তাঁবুতে, খেলা হয়নি একটি ম্যাচও। এর আগেও হয়েছে একই রকম বিরূপ অভিজ্ঞতা। হওয়ারই কথা অবশ্য। ঘরোয়া কোচদের দৃষ্টিতে যে জুবায়েরের বোলিং মাত্র ৩০ শতাংশ নিখুঁত! গত ১১ মাসে যেকোনো পর্যায়ের ক্রিকেটেই তাই মাত্র একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন জুবায়ের। সেটিও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে গত অক্টোবরে।

    হারিয়ে যাওয়ার দায়টা তবু তিনি নিজের কাঁধেই নিচ্ছেন, ‘আমার মধ্যেই হয়তো ঘাটতি ছিল। পরিশ্রম কম করতাম, পরিণতও ছিলাম না। অনেকে বলার পরও করতাম না অনেক কিছু। এখন বুঝতে পারছি ভুলগুলো কী ছিল। খারাপ সময় না এলে মানুষ আসলে ভালোটা বোঝে না। মাশরাফি ভাই, রিয়াদ ভাই, সাকিব ভাই, তামিম ভাইয়ের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তাঁরা বরাবর আমাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন।’

    এত কিছুর পরও ২২ বছর বয়সী লেগ স্পিনারের আত্মবিশ্বাস বোধ হয় এ কারণেই টিকে আছে এখনো। জুবায়ের বিশ্বাস করেন, কিছু ম্যাচ খেললেই সেটি পুরোপুরি ফিরে আসবে, ‘দু-তিনটি ম্যাচ খেললে আমার আত্মবিশ্বাস পুরো ফিরে আসবে। এই কয়েক দিন যেখানে পেরেছি ম্যাচ খেলছি। আমার বোলিং যারা দেখছে, যারা আমার বিপক্ষে ব্যাট করছে, সবাই বলছে বোলিং ভালো হচ্ছে।’

    মাশরাফিও বোধ হয় সেটিই দেখতে চাচ্ছেন। আর চান ক্রিকেটার হিসেবে সুশৃঙ্খল জুবায়েরকে। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ সামনে রেখে বোলিং তূণে যে একজন লেগ স্পিনার তাঁর চাই-ই চাই।