• তৃণমূল বিএনপির কণ্ঠস্বর ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদের খোলা চিঠি।

    1509133555 picsay - তৃণমূল বিএনপির কণ্ঠস্বর ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদের খোলা চিঠি।

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    আসসালামু আলাইকুম।

    আমি “ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ”, শতভাগ স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতাসহ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই, গত ২৩/১০/২০১৭ ইং তারিখে আমার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের দেয়া নিষেধাজ্ঞা আদেশটি সম্পূর্ণ প্রভাবিত, একপেশে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যেখানে আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে ন্যায়বহির্ভূত প্রভাবিত একটি সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে আমার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আদেশটি দেয়া হয়। যে বিষয়ে ইতোমধ্যেই দেশের সকল সচেতন নাগরিকগণ অবগত হয়েছেন। গত কয়েকদিনে ইলেক্ট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়াগুলোতে এ আদেশের ব্যাপারে আমি আমার স্বচ্ছ অবস্থান পরিষ্কার করেছি। এবং খুব শীঘ্রই আমি আমার সকল স্বচ্ছ এভিডেন্স সহকারে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করবো। এটা আমি বিশ্বাস করি যে, উচ্চ আদালত আমার সকল এভিডেন্স পর্যালোচনা করে আমাকে আমার পেশাগত বৈধতা ফিরিয়ে দিয়ে প্রভাবিত একটি আদেশের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। এবং এর মাধ্যমেই আমার পেশাগত অবস্থানের উপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রশ্ন উত্থাপনকারীদের আমি দৃঢ়ভাবে জবাব দিতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।

    সম্মানিত শুভানুধ্যায়ী,
    বাংলাদেশ, প্রায় ১৮ কোটি মানুষের এই দেশ। প্রাকৃতিক সম্পদে ঘেরা এই অঞ্চলের রাণী হিসেবে পরিচিত অগাধ সম্ভাবনাময়ী এদেশের অবকাঠামোগত এবং বৈষয়িক উন্নয়ন ৪৬ বছরেও এখনো কাঙ্খিত লেভেলে পৌঁছায়নি। এই না পৌঁছাতে পারার পথে আমাদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা এবং সংকট কোথায়? আমাদের প্রচুর সম্পদ, সম্ভাবনা এবং গৌরবের ইতিহাসকে পুঁজি করেও জাতি হিসেবে সভ্য এবং আত্মনির্ভরতার জায়গাটা আজও প্রশ্নবিদ্ধ কেন? এই প্রশ্নগুলো আপেক্ষিক না, বরং জাতীয় সংকটের অবয়বটাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলে আনার অন্যতম সব ইলিমেন্টস। আমাদের সংকট কি? সমস্যা কোথায়? এটি স্পষ্ট করেই বলা যায়, পরমতসহিষ্ণু, সৌহার্দ-সম্প্রীতি এবং ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্ব এই বিষয়গুলোকে আমরা কখনোই ভালো দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্র্যাকটিকালি আত্মিকরণের চেষ্টা করিনি। বরং ব্যক্তিগত ক্রোধ, আক্রোশ হিংসা এবং হীন, নীচ মানসিকতা চরিতার্থ করার এক নোংরা কু-অভ্যাস আমাদের জাতীয় রাজনীতি এবং জাতীয় আচরণের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সংকট আমাদের এখানেই। জাতীয় রাজনীতি এবং জাতীয় আচরণের সংকট। এই আচরণগুলো শুধু জাতীয় লেভেলে নয়, জাতীয় লেভেল পার করে বিমূর্ত আকারে এখন ব্যক্তি লেভেল পর্যন্ত পৌঁছেছে খুব নোংরাভাবে।

    সম্মানিত শুভানুধ্যায়ী,
    আমি প্রসঙ্গগুলো এজন্যই টেনেছি যে, গত ২৩/১০/২০১৭ ইং তারিখে বার কাউন্সিল কর্তৃক নিষেধাজ্ঞার আদেশনামাটিতে আমার বিরুদ্ধে আমার পেশাগত অবস্থানের ব্যাপারে অহেতুক, অযৌক্তিক যে প্রশ্নগুলো উত্থাপিত হয়েছে এর সবকিছুই আমাদের জতীয় রাজনীতির নোংরা চরিত্রের ব্যক্তি পর্যায়ের বহিঃপ্রকাশ। এবং এটা আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এই আদেশের মাধ্যমে আমার প্রতি যে কারো হিংসা, আক্রোশ এবং একপেশে মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে। এবং এখানে সত্যটা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আমি বিভিন্ন চ্যানেলে টক-শোতে অংশ নিয়ে গণতন্ত্র পূনরুদ্ধারের কথা বলতাম, জাতিগত এবং রাজনৈতিক বৈষম্য দূর করে একটি সভ্য জাতি গড়ার কথা বলতাম। ঐক্যবদ্ধ জাতি গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করতাম। আমার অবস্থান অত্যন্ত সু-স্পষ্ট এবং পরিষ্কার। এগুলো আদেশনামার অবজার্ভেশনের বিষয় ছিলোনা। আদেশনামায় আমার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শ টেনে এনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিচয় এবং প্রমাণ স্পষ্ট করেছে। এবং নিরপেক্ষ থেকে প্রভাবমুক্ত থাকার জায়গাটিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমি ইন-আউট ষড়যন্ত্রের শিকার; কিন্তু বিচলিত নই। এরকম ষড়যন্ত্র শুধু আমার বিরুদ্ধেই প্রথম না। এদেশের বর্ষীয়ান অনেক কবি, লেখক, বুদ্ধিজীবি, রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে আরো নোংরাভাবে হয়েছে; সামনেও হয়তো হবে। আমি হতাশ নই, বরং আমি সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহর উপর ভরসা রেখে আইনীভাবেই এ ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করে যাবো ইনশাআল্লাহ। আমি আমার স্বচ্ছতার প্রমাণ দিয়ে উচ্চ আদালতের রায় নিয়ে আবারও প্রিয় পরিচিত আমার সেই আইন অঙ্গনে সগৌরবে ফিরে আসব ইনশাআল্লাহ।

    সে পর্যন্ত আপনাদের দোয়া এবং সমর্থন প্রত্যাশা করে সকলের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং সুন্দর জীবন কামনা করছি।

    – ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ।