• দালালদের কব্জায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিস !

    FB IMG 1514312103686 - দালালদের কব্জায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিস !

    জাহাঙ্গীর বিপ্লবঃ

     

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিস থেকে গ্রাহকরা সরাসরি সেবা পাচ্ছেন না । অফিসের ভেতরে-বাইরে, এমনকি রাস্তার ওপরও দালালদের সরব উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো । পাসপোর্ট দালালিতে জড়িত অফিসের ষ্টাফরাও । দালাল ছাড়াও অফিসের লোকদের দিয়ে পাসপোর্ট করানো যায় । টাকা একটু বেশী দেওয়া হলে অফিসের লোকেরা ১৫ দিনের মধ্যেই পাসপোর্ট এনে দিতে পারে । তাদের হাত ধরেও পাসপোর্ট করছেন অনেকে। পাসপোর্ট করতে গেলে অনেকগুলি পর্যায় অতিক্রম করতে হয়। তাই বাধ্য.হয়েই বর্তমানে পাসপোর্ট পেতে দালালের কাছে যাওয়া এক প্রকারের সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে । পাসপোর্ট অফিসের অল্প দূরত্বের মধ্যেই দালালরা বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে পাসপোর্ট করার অফিস খুলে বসেছেন অফিসের ভেতরের লোকদের সহায়তায় এসব দালাল কাজ করে।

    সরজমিনে খোজ নিয়ে জানা গেছে- ,আল আমিন, আফজল,কেফায়েত, শামসু,জহির ,,খোকন অফিসের ভেতর বসেই পাসপোর্ট দালালিতে জড়িত। মসজিদ রোডের সিয়াম টেলিকমের মালিক জুয়েল,একই রোডের চা পাতা ব্যবসায়ী ফেলু পাসপোর্টের দালাল । তাদের এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই
    পাসপোর্ট অফিস হিসেবে পরিচিত। এ দু জনকে কয়েক বছর আগে ভ্রাম্যমান আদালত কয়েক’শ পাসপোর্টসহ আটক করে সাজা দেয়। হেলাল,ফালু ও জুয়েলের নেতৃত্বে পাসপোর্টের একটি দালাল সমিতিও রয়েছে বলে জানা গেছে । দালালরা একটি পাসপোর্ট করতে দ্বিগুন-তিনগুন টাকা নিচ্ছে । প্রতিদিন এই অফিসে আড়াইশো থেকে তিন’শ পাসপোর্ট হয় । যার বেশীরভাগই আসে দালালদের মাধ্যমে । দালালরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট করাতে অফিসকে দেয়ার জন্যে প্রত্যেকের কাছ থেকে নিচ্ছে ১ হাজার টাকা করে । সে হিসেবে প্রতিদিন কমপক্ষে আড়াই লাখ টাকা পাচ্ছে অফিস ফিঙ্গারপ্রিন্ট থেকেই। পাসপোর্ট কার্যালয়েয় ভেতরের কিছু কর্মকর্তার প্রশ্রয় না থাকলে দালালদের দৌরাত্ম্য থাকত না ।

    পাসপোর্ট আবেদনে পুলিশ প্রতিবেদন ব্যবস্থা হয়রানি ও দুর্নীতির অন্যতম মাধ্যম । স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) পুলিশকে সেবাগ্রহীতাকে ঘুষ বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্থ দিতে হয় । অনর্থায় আবেদনপত্রে অযথা ত্রুটি খুঁজে বের করা, আবেদনকারীকে জঙ্গী কার্যক্রম বা অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভয় দেখানো,স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)সরজমিনে বাড়িতে যাওয়ার নিয়ম না মেনে অযথা থানায় ডেকে পাঠানোর অভ্যাসে পরিনত হয়েছে ৷এছাড়া নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্থ বা ঘুষ দাবি করা এবং ক্ষেত্র বিশেষে তা বিকাশে পাঠাতে বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে । পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে নাগরিকদের অযথা হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে ছবি সত্যায়ন ও পুলিশ ভেরিফিকেশনের নিয়ম বাতিলের জোর দাবি জানাচ্ছি ।।