• বিজয়ের ৪৬ বছরে -আমরা কি বিজয় পেয়েছি?

    FB IMG 1514192867842 - বিজয়ের ৪৬ বছরে -আমরা কি বিজয় পেয়েছি?

    1. প্রবাস প্রতিনিধিঃ

    ১। ডিসেন্বর মাস বিজয়ের মাস। গৌরবের মাস। বাংলাদেশ আজ ৪৬ বছর পার করল কিন্তু মানুষের স্বাধীনতা, মানুষের গনতন্ত্র, মানুষের ন্যায্যতা ও সুশাসন ফিরে ফেলো না আজও। যে ন্যায্যতা, অধিকার ও সুশাসনের জন্য লক্ষ কোটি শহীদের রক্তের বিনিময় অর্জিত বিজয়ের ডিসেন্বর মাস। সে বিজয়ের মাসটি আজ ভারাক্রান্ত। সাড়ে চার দশক সময় পার করে দেশটি আজ ক্ষতবিক্ষত। কারন যে ন্যায্যতা ও সুশাসনের লক্ষে বিজয় ছিনিয়ে,বিজয় মালা পড়েছিল বাংলাদেশ, তা আজ বহু ভাবে রোদনে পরিণত। একটি দেশ, একটি জাতিকে উঠে দাঁড়ানোর আগেই তার মেরুদন্ড বার বার ভেঙেঁ দেওয়ার চেস্টা করা হয়েছে বিভিন্ন ভাবে।
    ১৯৭১সাল থেকে ২০১৭ সালের বিশ্লেষন করলে ইতিহাস বলে,আওয়ামী লীগ দ্বারা বার বার এ দেশের গনতন্ত্রের মেরুদন্ডে আঘাত করা হয়েছে, ভেঙেঁ দেওয়া হয়েছে। দেশ বার বার সংকটে পড়েছে।  ইতিহাস সাক্ষীঃ

    ১। ৭৫ সালে বাকশালের মাধ্যমে গনতন্ত্রের মেরুদন্ড ভেঙেঁ দেওয়া হয়েছিল।

    ২। ৮৬ সালে স্বৈরাচার এরশাদের সাথে আঁতাতের মাধ্যমে গনতন্ত্রের মেরুদন্ডে আঘাত করা। ৩। ২০০৮ সালে মঈন-ফখরুর সাথে চুক্তি করে গনতন্ত্রের মেরুদন্ডকে দেওয়ার পরিকল্পনা।
    তারই ধারাবাহিকতায় অনুস্টিত হয় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর ভোটহীন,প্রার্থীহীন নির্বাচন। বিশ্ব স্বীকৃত তামাশার নির্বাচন। যে নির্বাচনে ৩০০ টি আসনের মধ্যে ১৫৪ টি আসন ছিল প্রার্থী শূন্য।
    উল্লেখ্য এই বিশ্ব স্বীকৃত তামাশার নির্বাচন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি সংবিধান রক্ষার জন্য নির্বাচন করছেন। এই নির্বাচন পর পরই আলোচনার মাধ্যমে দ্রত আরেকটি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঘোষনা দিবেন।
    কিন্তু গনতন্ত্রের মানস কণ্যা কন্বোডিয়া সফর পরবর্তীতে সে দিন গনভবনে আয়োজিত সংবাদ সন্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বললেন,” অপাত্রে আর ঘি ডালবেন না। খালেদা জিয়ার সাথে নির্বাচন সন্পর্কে কোন আলাপই করবেন না। আরও বললেন, নাকে খত দিয়ে নির্বাচনে আসবে খালেদা।
    আর তাঁহার ছেলে তাঁরই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় আওয়ামী লীগের সন্পাদক মন্ডলীদের এক সভায় বললেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের চেয়ে ও আগামী নির্বাচনে বেশী ভোট পাবে তার দল। সেই ২০১৪ সালের মতনই ভবিষৎ বাণী এবার ও দিলেন। জয় তার ব্যক্তিগত জরিপের কথা উল্লেখ করে বললেন, আমার জরিপের রেজাল্ট এতোই ভাল আসছে যে, আজকে যদি নির্বাচন হয়, আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের চেয়ে অনেক বেশী ল্যান্ড স্লাইড হবে। এটা বিজ্ঞান সন্মত ভাবে জরিপ করে বের করেছেন। বললেন, এটা আমার প্রফেশনাল কোন্পানি। জরিপ টা আমি নিজেই ডিজাইন করি,মনিটর করি। এর উপর আমি স্টাডি করেছি, ক্লাসও করেছি। আমার জরিপ হচ্ছে, ওয়ান অব দ্যা মোস্ট একোরেইট। আওয়ামী লীগকে ভোটে হারানোর মতো দল আর পৃথিবীতে নাই।
    ২। পাঠক,রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন,” গনতন্ত্রের মানস কণ্যা অবৈধ ক্ষমতা উপভোগ করতে করতে তাহার দান্বিকতা এতোই প্রস্হ হয়েছে,নির্বাচন পূর্বে জাতিকে কি প্রতিশ্র্তি দিয়াছিলেন, তা বেমালুমই ভুলে গেছেন। এই তথ্য প্রযুক্তির যুগেও। এখন ফন্দি আঁকছেন বেগম খালেদা জিয়াকে বানোয়াট মামলার বেড়াজালে ফেলে অন্তরীন করে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর মতন আরেকটি নির্বাচন অনুস্টিত করা। কিন্তু তা মোটেই সন্বব নয়। ২০১৪ সাল আর ২০১৮ সাল অনেক ব্যবধান। দেশের মানুষ এতো বোকা নয়। তারই সদ্য জ্বলন্ত প্রমান,,,বেগম জিয়া ঢাকা থেকে সড়ক পথে কক্সবাজার ও উখিয়া গমনে ও লন্ডনে তিন মাস চিকিৎসা শেষে ঢাকা আগমনে, লক্ষ লক্ষ জনতা শত বাঁধা বিপত্তি কাটিয়ে, যে অভ্যর্থনা দেখিয়েছে, ভালবাসা দেখিয়েছে,বেগম জিয়ার পুরো যাত্রা পথকে নিরাপত্তার চাদরে ডেকে দিয়ে প্রমান করেছে, মানুষ আজ গনতন্ত্র রক্ষার অতন্দ্র প্রহরীতে পরিণত হয়েছে। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সেই পদধ্বর্ণি শুনা যাচ্ছে।
    ৩। এ দিকে তথ্য প্রযুক্তি স্পেশালিস্ট জয় এর নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে হাস্যরসের সৃস্টি হয়েছে। জয়ের এ সমস্ত তথ্য নিয়ে ইতি মধ্যে বিভিন্ন অন-লাইন পত্র-পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুলিতে সমালোচনার ঝড় বইছে। সত্যি কথা বলতে কি,বাস্তবতার সাথে জয়ের তথ্যের কো মিল নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষক,সুশীলসমাজ ও সিনিওর সাংবাদিকরা বলছেন, এই জরিপের সাথে বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপঠের সঙ্গে কোন মিল নাই বললেই চলে।
    এদিকে ভারতের জনপ্রিয় দৈনিক দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকায় গত ৯ ডিসেন্বর বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে একটি আটিক্যাল করেছেন জয়তী মালহোতরা। আটিক্যালটিতে আওয়ামী লীগ সরকারের অনেক ব্যর্থতা তুলে ধরে বলেছেন,” এখন যদি নির্বাচন হয়,শেখ হাসিনার দল ৩০০ আসনের মধ্যে বেশী হলে ৭৫ পাবে। ক্ষমতায় চলে আসবে বিএনপি।
    ৪। মূল কথা হলো,তথ্য স্পেশালিস্ট জয় যে জরিপ দিয়াছেন, সেটা মোটেই সঠিক নয়। বিগত ৯ বৎসরে রাষ্টীয় সন্পদ লুন্টন,খুনগুম,হামলা-মামলা,অপহরন ও ধর্ষনের পর ক্ষমতার শেষ প্রান্তে এসে নেতাকর্মীরা ভীতি সশস্র হয়ে পড়েছেন। শুনা যাচ্ছে অনেক রুই-কাতলা শ্রেণীর নেতাকর্মীরা পশ্চিমা দেশে পাড়ি দেওয়ার সু-ব্যবস্তা করে ফেলছেন। আর অনেকই পাশ্ববর্তী দেশগুলিতে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছেন। এমতা অবস্হায় নেতাকর্মীদের ধরে রাখতে এবং তাদের মনোবল বৃদ্ধি করতে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাহাঁর পুত্র জয় এর একটি রাজনৈতিক টেকনিক বা কৌশল মাত্র। তা অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। বিগত সময়েও শেখ হাসিনা এমনি ভাবে অনেক কৌশলই কাজে লাগিয়েছেন।
    ৫। পাঠক, দুইশত বৎসর বৃটিশের রশিতে, ২৩ বৎসর পাক হানাদারদের শাসন ও শোষনের পর লক্ষ কোটি শহীদের তাজা রক্তের বিনিময়ে একাত্তরের ১৬ ডিসেন্বর বাংলার দামাল ছেলেরা যে বিজয় মালা ছিনিয়ে এনেছিল,
    সে বিজয় আজ রক্তাক্ত। সে বিজয় আজ পা পা করে ৪৬ বৎসরে ক্ষত-বিক্ষত অবস্হায় দাঁড়িয়ে আছে। নেই গনতন্ত্র, নেই স্বাধীনতা,নেই ন্যায্যতা। চতুদিকে খুনগুমের হরিলুট, ক্রসফায়ারের বিশালতা,হামলা মামলা ও জেলজুলুমের মহোৎসব। বাংলাদেশ এক আতংন্কজনক দেশ।
    এক ফেইস বুক বন্ধু তাঁর ওয়ালে লিখছিলেন,” ১৯৭১ সালের গভীর রাতে দরজায় কড়া নাড়ছে কেউ! ঠক ঠক,,,,,,,,,,ঘড়ের ভিতর থেকে ভয় ভয় কন্ঠে বললো কে? দরজার ওপাশ থেকে উত্তর এলো, আমরা পাকিস্তানী আর্মি।
    আর আজ ২০১৭ সালের গভীর রাতে দরজায় কড়া নাড়ছে কেউ!
    ঠক ঠক,,,,,,,ঘড়ের ভিতর থেকে ভয় ভয় কন্ঠে বললো কে? দরজার ওপাশ থেকে উত্তর আসে, আমরা ডিবি পুলিশ। পাঠক কী বুঝলেন? সব কিছুই আগের মতন। শুধু শুধু সালটা উল্টে গিয়ে ৭১ এখন হয়েছে ১৭। অথাৎ সেই ভয়াল ১৯৭১ আজ ভয়াল ২০১৭। এই হলো আজকের বিজয় বাংলা, আজকের স্বাধীন বাংলা।
    আজকের বিজয়ের ৪৬ বছর পর বাংলাদেশ।
    ৬। সব মিলে দেশটি আজ বিভিন্ন ভাবে ধ্বংস লীলায় পরিণত। সর্বত্রই মানুষের হাহাকার, আর্তনাদ ও চিৎকারের শব্দ। দেশজুরে খুনগুম,জেলজুলুম, হামলা মামলা, ক্রসফায়ার আর বিভিন্ন জন্গীহামলার নাটক,এ ছাড়া দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন উর্ধগতি, ট্রানজিট ও রামপাল তো আছেই। এখানেই শেষ নয়, রাষ্ট সন্পদ ও বিভিন্ন ভাবে ধ্বংস লীলায় নিমজ্জিত। পিলখানার ট্রাজেডি ও ব্যাংক ডাকাতী থকে শুরু করে, শেয়ার বাজার, ডেসটিনি,হলমার্ক, রুপালী, সোনালী,জনতা ও বেসিক ব্যাংক কেলেংকারী সহ সরকারী ব্যাংকগুলির হাজার হাজার টাকা লুট করা। আর ওই লুটের টাকাগুলা উড়ছে বিশ্বের মেগাসিটির জুয়া হাউসে ও পাঁচ তারা সাত তারা হোটেলে হোটেলে। এই তো গত ২১ডিসেন্বর বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ডাঃ আবুল বারাকাত এক অর্থনীতি সেমিনারে বললেন,” আজ অনেক ব্যাংকের আর্থিক হিসাবে সমস্যা রয়েছে। ঠিক মতে না কি হিসাব করলে অর্ধেক ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যাবে।
    এদিকে শিক্ষা হলো জাতির মেরুদন্ড। একটি জাতির উন্নয়নের চাবিকাঠি। কিন্তু আজ আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্র ও ধ্বংসলীলায় পরিণত। প্রথম শ্রেণী থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাস এ যেন সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন অনেক আওয়ামী লেখক ও গবেষকরা পর্যন্ত বলছেন, এখন জিপিএ ৫ এর কোন মূল্য নাই। কারন জিপিএ ৫ এর ছাত্রছাত্রীরা সাধারন পরীক্ষায় ফেল করছে। সে দিন বিজয় দিবস পালন কালে টিভি সাংবাদিকরা অনার্স ও মাস্টার্স করা ছাত্রছাত্রীদেরকে বিজয় দিবস সন্পর্কে প্রশ্ন করলে, তারা কেউ বললেন বিজয় দিবস মানে শোক দিবস,কেউ বললেন স্বাধীনতা দিবস,অনেকে বললেন জানি কিন্তু এই মহুর্তে মনে পড়ছে না। এই হলো, বর্তমান বাংলাদেশের উন্নয়নের রোল মডেল,এই হলো উন্নয়নের জোয়ার।
    ৭। পরিতাপের বিষয় বিজয়ের ৪৬ বছর পরও সুশাসন, ন্যার্য্যতা, অধিকার ও গনতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রুপ পায় নাই প্রতিষ্টিত হয়েছে, অগণতন্ত্র,অনিয়ম, দুনীর্তি,দুঃশাসন,খুনগুম ও হামলা মামলা। পাঠক গনতন্ত্র যেখানে নির্বাসিত,হত্যা সেখানে অনিবার্য। মৃত্যু যেখানে আসন্ন,সেখানে লড়ে মরাই শ্রেয়্য। অন্যায় অত্যাচার যেখানে প্রতিষ্টিত,সর্বশক্তি নিয়োগ করে প্রতিরোধ করা ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য।
    তাই বলছি,আর কালক্ষেপন নয়। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এই বিজয়ের মাসে দেশ প্রেমিক নতুন প্রজন্ম তরুণ যুব সন্প্রদায়কে জাগ্রত হতে হবে। দলমত নির্বিশেষে সবাই মিলে ৭১ এর মতন আরেকটি বিজয়ের অঙ্গীকার করতে হবে। ইংরেজী শুভ নববর্ষের সাদর সন্বাষন জানিয়ে, ২০১৮ সালকে সামনে রেখে। ২০১৮ সাল হবে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সাল। শহীদ জিয়ার সৈনিকদের আর ঘড়ে বসার সময় নেই। এ বিজয় হবে সার্বোভৌমত্বের বিজয়,গনতন্ত্রের বিজয়, মানবতার বিজয়, দেশ ও জাতির বিজয়।

    লেখকঃ
    লেখক ও কলামিস্ট
    সায়েক এম রহমান

    এখানে প্রকাশিত সব মতামত লেখকের ব্যক্তিগত, 1stpositivenews.net সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয়।