• লেবানন প্রবাসীদের কথা।ওয়াসীম আকরাম।

    received 1494359267280851 - লেবানন প্রবাসীদের কথা।ওয়াসীম আকরাম।

    পজিটিভ লেবানন প্রতিনিধি ঃ

    লেবানন প্রবাসীদের কথা।ওয়াসীম আকরাম।

    লেবানন প্রবাসী বাংলাদেশী ১ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার ভাই ও বোনেরা,আপনাদের সবাইকে জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও সালাম।আপনারা সবাই আশা রাখি ভালই আছেন।আর আপনারা ভাল থাকাই কামনা করি।আমিও আপনাদের দোয়াতে ভাল আছি।

    ১৯৮০/৮২ সাল থেকে লেবানন বাংলাদেশীদের প্রবেশ আরম্ভ হয়।তখন হয়ত ৮০/৯০ জন লোক থেকে আজ বাংলাদেশের শ্রম বাজারে লেবানন প্রবাসীদের এত লোকের আগমন। এটা বাংলাদেশের অনেক বড় গর্বের বিষয়।

    প্রবাসে যে কোন দেশে যেতে হলে কারো মামা,কাকা,ভাই, বন্ধু আত্মীয় স্বজন বা এজেন্সি হয়ে প্রবাসে আসা। কেহ বলে কন্ট্রাক বা কেহ বলে ফ্রি ভিসা। আসলে ফ্রি ভিসা নামে কোন ভিসা বা কাজ নাই।
    এর অর্থ হচ্ছে মালিকানায় আসার পর মালিকের সাথে আলাপ আলোচনা করে বাহিরে কাজ করা।তাকে প্রতি বছর বিনিময় কিছু দেওয়া।কাগজ- পত্র বা আকামা করতে নিজেই সব টাকা পয়সা বহন করতে হয়।লেবানন যত কোম্পানি আছে এর মধ্যে ২/৩টা কোম্পানি হয়ত ষোল আনার মধ্যে ১২ আনা দিয়া থাকে।বাকীগুলা সব কয়টি তাদের শ্রমিকদের টাকা -পয়সায় আকামা করতে হয়।এতে প্রতি বছর ১২০০$ আমেরিকান ডলার থেকে ২৫০০ $ আমেরিকান ডলার শ্রমিকদের নিকট হইতে নিতেছে।আমাদের বাংলাদেশ দূতাবাসে রাষ্ট্রদূত বরাবর অনেকবার এব্যাপারে প্রবাসী বাংলাদেশীরা অবগত করে।রাষ্ট্রদূত সাহেব প্রবাসীদেরকে বলেন লিখিত অভিযোগ প্রেস করার জন্য।প্রবাসীরা কোন মালিকের বিরোদ্ধে লিখিত কোন অভিযোগ না দেওয়ার কারণ? যদি মালিক তাদেরকে দেশে পাঠিয়ে দেয়।প্রত্যেকজন শ্রমকর্মী লেবানন আসার ব্যাপারে তাদের খরচ হয় প্রায় ৫/৬ লক্ষ টাকা।তারা নিজেদের শেষ সম্বল ভিটা বাড়ী বিক্রি করে এ প্রবাসে আসা। ভিসার বিবরণ দিয়ে যেভাবে কাজ,ডিউটি এবং কি বেতন এর কোনটাই সঠিক মিলছেনা?শ্রমিকদের ন্যায্য এ অধিকার পাওয়ার জন্য করনীয় কোন পরামর্শ দাতাও নাই।লেবানন বর্তমান হাজার হাজার বাংলাদেশী বেকার অবস্হায়। লেবানন সরকার কোম্পানিদের উপর শক্ত অবস্হান নেওয়ায় কাগজ-পত্র করতেও অনেক সমস্যা। তাই অবৈধ হতে হচ্ছে অনেকে।আর যারা অবৈধ হচ্ছে তারা মনের সুখে নয়।এখানে কোন প্রকার কাজ যোগাড় করলে খাওয়া- দাওয়া,থাকা নিয়ে বেতন যথেষ্ট নয়।সরকারীভাবে যেই বেতন নির্ধারণ করে দেওয়া হয় ছারশত আমেরিকান ডলার কিন্ত হয়ত মালিক থেকে পাওয়া যাচ্ছে ২৫০/৩০০$ আমেরিকান ডলার।তাও পুরুষ শ্রমিকদের
    ।মহিলা শ্রমিক কর্মীর ব্যাপারে কি আর লিখা যায়!মহিলা শ্রমকর্মী ঘরের কাজেকর্মে লেবানন আসা। পুরুষ বা মহিলা বাংলাদেশী লেবানন আসা মানেই ক্লিনার।ক্লাস ওয়ান থেকে মাষ্টাস পাস লেবানন আসার পর কেহ আজ পর্যন্ত কোন অফিসিয়াল কাজ পায় নাই।মহিলারা হয়ত মালিক ভাল পাইলে কাজ করেন নাহয় বেশী রোজগার করার জন্য পালিয়ে যায়।পালিয়ে যাওয়া মানে অবৈধ হয়ে যাওয়া।আর এভাবে অবৈধ আছে হাজার হাজার বাংলাদেশী। দিন যায়, বছর যায় কিন্ত অবৈধ কর্মীর কান্নাকাটি শুনবে কে? দূতাবাস কাগজ পত্রহীন দেশে ফেরত পাঠানো ব্যবস্থা করলেও অনেক বাংলাদেশী যেতে পারছেন না?এমন হতভাগা দেশে আমাদের জম্ম বিশ্বের অন্য দেশগুলার চেয়ে শিক্ষা হার অনেক কম।তাই নিজেদের নাম,ঠিকানা বা পাসপোর্ট নাম্বারটা লিখে বা স্মরণ রাখতে পারছিনা? সঠিক তথ্য না পাওয়াতে অবৈধরা দেশে ফেরত পাঠানো সমস্যা হয়ে পড়ে।তাহলে এমন সমস্যা যারা তারা কি নিজ মাতৃভূমিতে যাওয়া হবেনা?কি হবে তাদের ভবিষ্যৎ? এনিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীরা আছে নানান চিন্তায়।

    যাক এখন প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে আমার লিখাটা,আমাদের লেবানন প্রবাসের সুখ-দুঃখ দেখার একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেহ নাই।
    এরপরও আমার দ্বারা যতটুকু করা যায় আমি আপনাদের পাশ্বে আছি।আর আপনাদের কোন অভিযোগ বা আপনাদের লেবানন প্রবাসের সুখ-দুঃখের কোন ব্যাপারে যদি প্রচার প্রচারণা করতে চান। আমি একজন কলম যুদ্ধা। আপনাদের সুখ-দুঃখ প্রকাশের জন্য সরাসরি ফেইজবুক লাইভ টাইমে সম্প্রচার করা হবে।

    যারা আগ্রহী আমার সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রহিল।ধন্যবাদ সবাইকে।
    খোদা হাফেজ।