• সাঁতরে সাঁতরে সাগর পাড়ি

    a6340c245a6e5f99805da914507a6e8f 5ab62168e9a8d 1 - সাঁতরে সাঁতরে সাগর পাড়ি

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    পুকুর বা সুইমিংপুল ছাড়া জীবনে কখনো নদীতেও সাঁতার দেয়নি বগুড়ার মেয়ে মিতু আখতার। ১৬ বছরের সেই মিতু এবার সাঁতরাল বঙ্গোপসাগরে। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার দূরত্বের ‘বাংলা চ্যানেল’ পাড়ি দিল। মিতুই প্রথম বাংলাদেশি মেয়ে, যে বঙ্গোপসাগরের বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিল।

    ১৯ মার্চ বেলা ১১টা ১৭ মিনিটে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট থেকে শুরু হয় সাঁতার দিয়ে বাংলা চ্যানেল পার হওয়ার অভিযান। বাংলা চ্যানেলের আবিষ্কারক কাজী হামিদুল হকের স্মরণে ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার এবং এক্সট্রিম বাংলা এই সাঁতারের আয়োজন করে। এবার ২৮ জন সাঁতারু অংশগ্রহণ করেন। সাঁতারুদের মধ্যে ছেলে-মেয়ে, নবীন-প্রবীণ—সবাই ছিলেন। বয়সসীমা ১৪ থেকে ৬৬ বছর। মিতু আখতার ও পূর্ণিমা খাতুন—দুই কিশোরী এতে অংশ নেয়। পূর্ণিমা অবশ্য শেষ পর্যন্ত সাঁতার সম্পন্ন করতে পারেনি। সবচেয়ে বয়স্ক সাঁতারু হিসেবে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেন ৬৬ বছর বয়সী মিজানুর রহমান।

    ১২ বছরে এই নিয়ে টানা ১৩ বার বাংলা চ্যানেল সাঁতরে পার হয়েছেন লিপটন সরকার। এবারের ২৮ জন সাঁতারুর তিনিই ছিলেন দলনেতা।সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে সাঁতারসমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে সাঁতার

    ৩ ঘণ্টা ৮ মিনিট ৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেন্ট মার্টিনে পৌঁছান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম। বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার এটাই দ্রুততম সময়। এর আগে ২০১৬ সালে ৩ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছিলেন ভারতের সাঁতারু রিতু কেডিয়া।

    সাঁতারের পর কথা হয় লিপটন সরকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, এবারই একসঙ্গে এত বেশিসংখ্যক সাঁতারু বাংলা চ্যানেল অভিযানে অংশ নিলেন। ২৮ জনের মধ্যে ১৮ জন পুরো দূরত্ব সফলভাবে সাঁতরাতে পেরেছেন। বড় কথা হলো, এই প্রথম মিতু আখতার বাংলাদেশি মেয়ে হিসেবে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিল। তার এই সাফল্যের কারণে আগামী দিনে নারী সাঁতারুরা এমন অভিযানে অংশ নিতে আগ্রহী হবেন।

    চার ঘণ্টা ৩২ মিনিট ৫১ সেকেন্ড সময় নিয়ে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন মিতু আখতার। বগুড়ার জামিলনগরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন ও রহিমা বেগমের দ্বিতীয় সন্তান সে। মিতু বগুড়া সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের ছাত্রী। জাতীয় পর্যায়ের সাঁতার প্রতিযোগিতায় এরই মধ্যে মিতুর অর্জন সাতটি সোনা ও দুটি রৌপ্যপদক। বাংলা চ্যানেলের সাফল্যের পর মিতু বলে, ‘পুকুর বা সুইমিংপুল ছাড়া আর কোথাও সাঁতার কাটিনি। বাংলা চ্যানেল জয় করার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছিলাম। চেষ্টা করলে কোনো কিছুই বৃথা যায় না।’ এখন মিতুর ইচ্ছা বাংলাদেশের হয়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া।বাংলা চ্যানেল জয়ের পর মিতু আখতারের উচ্ছ্বাস।বাংলা চ্যানেল জয়ের পর মিতু আখতারের উচ্ছ্বাস।

    ২০০৬ সালের ১৪ জানুয়ারি বাংলা চ্যানেলে প্রথম সাঁতারের আয়োজন হয়েছিল। এর আবিষ্কারক কাজী হামিদুল হকের তত্ত্বাবধানে প্রথমবার ফজলুল কবির সিনা, লিপটন সরকার ও সালমান সাঈদ এই চ্যানেল পাড়ি দেন। এরপর প্রতিবছরই বাংলা চ্যানেলে সাঁতার নিয়ে নানা আয়োজন হয়ে আসছে।

    এবারের সফল ১৮ জন

    লিপটন সরকার, ফজলুল কবির সিনা, মনিরুজ্জামান, সামসুজ্জামান আরাফাত, আবদুল্লাহ আল ইমরান, সোহাগ বিশ্বাস, সাকিব আল হক, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. লতিফুর রহমান, আবদুল্লাহ আল রোমান, মাহবুবুর রহমান, এস আই এম ফেরদৌস আলম, শংকর চন্দ্র বর্মণ, মো. মাজেদ মিয়া, রফিকুল ইসলাম, মিজানুর রহমান ও মিতু আখতার।