• সুনামগঞ্জে ফসল ডুবে কৃষকের মাথায় হাত।নিক্সন চৌধুরী।

    received 1458875834187030 - সুনামগঞ্জে ফসল ডুবে কৃষকের মাথায় হাত।নিক্সন চৌধুরী।

    নিক্সন চৌধুরীঃ সুনামগঞ্জের হাওয়র গুলো যেনো রাজনৈতিক দলের ভন্ড নেতা আর দুর্নিতীবাজ কিছু সরকারী কর্মকর্তাদের জন্য সোনার ডিম পাড়া হাঁস ।

    প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি সুনামগঞ্জ জেলা। প্রায় ২৭ লাখ মানুষের মধ্যে জেলার প্রায় ১৪ লাখ মানুষের জীবন জীবিকা সম্পূর্ণই কৃষির উপর নির্ভরশীল । বাংলাদেশে উৎপাদিত বোরো ফসলের ভান্ডার হিসেবে সুনামগঞ্জের সুনাম রেয়েছে বহুকাল থেকেই । ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক হাওর এই জেলায় অবস্থিত। বৈশাখ এলে বোরো ফসল কাটার ধুম পড়ে হাওরজুড়ে। কৃষকের মুখে ফুটে ওঠে হাসি। জ্যোত্স্না রাতে বাতাসে ঢেউ খেলা জমিন কৃষকের বুকে আনন্দ ধরিয়ে দেয়। যেখানে এই সময়ে ধান ও শীত মৌসুমে মাছ ধরার উৎসব চলে। কথা ছিল আর ১০থেকে ১২ দিনের মধ্যেই পাকা ধান কেটে কৃষক ঘরে তুলবে। হাওরজুড়ে ধান কাটার মহোৎসবে মৌ মৌ ঘ্রাণে কৃষকের চিত্ত প্রফুল্ল হবে।

    কিন্তু এর আগেই চৈত্রের অসময়ে অকাল বর্ষণ নামে আকাশ ভেঙে। উত্তর পূর্বে সীমান্তবর্তী তথাকথিত বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের আসাম-মেঘালয়ের পাহাড়ি ঢল তো অভিশাপ হয়ে ভাসিয়ে দিতে আসে প্রতি বছরই। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গেলো কয়েকদিনে সিলেট বিভাগে অভিরাম বৃষ্টি আর আমাদের পরম বন্ধু রাষ্ট্রের পাহাড়ি ঢলে একে একে হাওরের বাঁধ উপচে ফসল যখন তলিয়ে যাচ্ছিল , তখন রিক্ত-নিঃস্ব কৃষকের সাথে দেখা যায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ সর্বস্থরের জনগন যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে পানির সাথে যুদ্ধ করে ফসল রক্ষার বৃথা চেষ্টা করতে।

    হতভাগা কৃষকেদের সাথে স্থানীয় কিছু ভন্ড জনপ্রতিনিধিদের ও দেখা যায় মাটি কেটে পানি আটকানোর বৃথা চেষ্টায় সরিক হওয়ার ছবি তোলে ফেইসবুকে আপলোড করতে।

    আমার দৃষ্টিতে জনপ্রতিনিধিদের এই অভিনয় শুধু সহজ সরল কৃষককে ধোকা দিয়ে আগামী নির্বাচনের সেতু পার হতে তাদের করুনা ভিক্ষা পাবার এক ধরনের ভন্ডামী ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ এই জনপ্রতিনিধি নামের লুটেরাদের কাছেই তো হাওর রক্ষা বাধের টাকা গুলো এসেছিলো। লোক দেখানো কাজ না করে যদি এই সকল ভন্ড জনপ্রতিনিধি নামের গরিবের রক্তচোষা জোক গুলো সঠিক পরিকল্পনা করে সময় মতো হাওর রক্ষা বাঁধ গুলোর নির্মানকাজ সমাপ্ত করতেন , এলাকার কৃষকদের সাথে নিয়ে তা রক্ষনাভেক্ষনের দ্বায়িত্ব নিতেন তাহলে প্রতিবছর আমাদের কৃষকের স্বপ্ন এভাবে বানের পানিতে ভেষে যেতো না। প্রতিবছর আমাদের শুনতে হতোনা গ্রামের অসহায় কৃষক-কৃষানীদের বুকফাটা আর্তনাদ ।

    সব হারিয়ে নিঃশ্ব হাওর পারের মানুষ গুলোর কান্নায় যখন আকাশ-বাতাশ ভারি হয়ে উঠে তখন এই অঞ্চলের এমপি,মন্ত্রী, থেকে শুরু করে স্থানীয় অনেক ভন্ড জনপ্রতিনিধি , ক্ষমতাসীন দলের মাঝারি নেতা, পাতিনেতা এবং জেলা উপজেলার দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের পোয়া বারো। বানের পানিতে সব হারানো এই মানুষ গুলো কে পূঁজি করে ঐ সকল ভন্ডদের শুরু হয় আরেক নতুন ব্যাবসা । ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি ভাবে বরাদ্দ কৃত সাহায্যের টাকা, চাল, গম, আটা, ময়দা, থেকে শুরু করে কৃষকের জন্য কৃষি ঋণের অধিকাংশ-ই ভক্ষন করে ঐ সকল চোর বটপার। ফলে বৃষ্টি ও জলজ্যোত্স্নার নৈসর্গিক দৃশ্য হাওর পারের মানুষের জীবনে অভিশাপ হয়ে দেখা দেয় প্রায় প্রতিটি বছর।

    সময় এসেছে দলমত নির্বিশেষে সুনামগঞ্জের সকল রাজনৈতিক দলের দেশপ্রেমিক নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে দেশের এবং প্রবাসের সচেতন মহল এই এলাকার কৃষকের কথা একটু বিবেক দিয়ে চিন্তা করা। অকাল বন্যা থেক ফসল রক্ষার জন্য পরিকল্পিত ভাবে স্থায়ী সমাধানের জন্য আওয়াজ তোলা।

    যেমন :—-
    ১। সিলেট বিভাগের প্রতিটি নদী শুকিয়ে তার নাব্যতা হারিয়েছে অনেক আগেই । সুরমা কুশিয়ারা সহ সকল নদী খাল গুলো পরিকল্পিত ভাবে দ্রুত খননের ব্যবস্থা করা।

    ২। পরিকল্পিত ভাবে সঠিক সময়ে হাওর রক্ষা বাঁধ গুলো নির্মান করা।

    ৩। প্রতিটি বাঁধে পানি সহনশীল জাতের গাছ গাছালি লাগিয়ে তা রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা।

    ৪। হাওর রক্ষা বাঁধ গুলোর যে সকল পয়েন্ট পানিতে তলিয়ে যাবার বেশি আশংকা , প্রয়োজনে এলাকার সচেতন মহল সর্বস্থরের জনগন কে সাথে নিয়ে সেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে রক্ষণাবক্ষণের জন্য চৈত্র মাসের আগেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

    ৫। ধান কাটার পর হাওর গুলো তে পানি প্রবাহের জন্য বাঁধ গুলোর বিভিন্ন পয়েন্টে পরিকল্পিত ব্যবস্থা রাখা।

    আমি মনে করি যদি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বনে সঠিক সময়ে পরিকল্পনা করে ফসল রক্ষার জন্য স্থায়ী একটা সমাধানের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে ভাটি বাংলা নামের এই সুনামগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চল হয়ে উঠতে পারে সমস্ত বাংলাদেশের জন্য এক সোনার ডিম পাড়া হাঁস।

    {বি:দ্র:— বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে এগিয়ে আসা রাষ্ট্রের যেমন দ্বায়িত্ব। তেমনি মানবিক দ্বায়িত্ব সামর্থ্যবানদেরও এগিয়ে আসা। আসুন আমরা যার যার অবস্থান থেকে আমাদের দ্বায়িত্ব টুকু পালন করে মানবিক বিপর্যয় থেকে এই অঞ্চল কে রক্ষা করি।}

    ——নিক্সন চৌধুরী
    যুক্তরাজ্য প্রবাসী।