• Category Archives: আন্তর্জাতিক

    রিয়াদে আশুগঞ্জ উপজেলা প্রবাসী কমিউনিটির পুনর্মিলনী

    082257 bangladesh pratidin bdp ashuganj - রিয়াদে আশুগঞ্জ উপজেলা প্রবাসী কমিউনিটির পুনর্মিলনী

    পজটিভ ডেস্ক ;

    সৌদি আরবের রিয়াদে প্রবাসী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা কমিউনিটির পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা শুক্রবার স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে ফারুক আহমেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    প্রবাসী আশুগঞ্জ কমিউনিটির

    টাঙ্গাইলের ৮টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলে ৮২ জন

    Tangail nominatio 1 - টাঙ্গাইলের ৮টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলে ৮২ জন

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের ৮টি আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগসহ ৮২ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন থেকে শুরু করে শেষ দিনে বুধবার পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলা রিটানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলামের কার্যালয়সহ নিজ এলাকায় সহকারী রিটানিং অফিসারের কার্যালয়ে তারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

    এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৯জন, বিএনপির ১৫জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ৯জন, জাতীয় পার্টির ৫জন, ইসলামী আন্দোলনের ৮জন, স্বতন্ত্র ৯জনসহ অন্যান্য দলের মোট ৮২ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

    উৎসবমূখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

    জেলা রিটার্নিং অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    জেলার বিভিন্ন আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ারা হলেন—

    Tangail nomination 2 - টাঙ্গাইলের ৮টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলে ৮২ জন

    টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ি) ঃ

    এ আসনে ৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরা হলেন— ড. আব্দুর রাজ্জাক (আওয়ামী লীগ), ফকির মাহবুব আনাম স্বপন ও সরকার শহীদ (বিএনপি), আশরাফ আলী (ইসলামী আন্দোলন), সালামত হোসাইন খান (জাকের পার্টি), আবু মিল্লাত হোসেন (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি), ফারুক আহমেদ (কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ), খন্দকার আনোয়ারুল হক (স্বতন্ত্র)।

    টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) ঃ 

    আসনে ৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরা হলেন- তানভীর হাসান ছোট মনির ও খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল (আওয়ামী লীগ), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও শামছুল আলম তোফা (বিএনপি), এনামুল হক মঞ্জু (জাকের পার্টি), জাহিদ হোসেন খান (কমিউনিষ্ট পার্টি), রফিকুল ইসলাম (কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ), এসএম শামসুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মনিরুল ইসলাম (বিকল্প ধারা)।

    টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) ঃ

    এ আসনে ৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরা হলেন-  আতাউর রহমান খান (আওয়ামী লীগ), লুৎফর রহমান খান আজাদ ও মাঈনুল ইসলাম (বিএনপি), আব্দুর রশিদ (কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ), মাওলানা রেজাউল করিম (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), আবু হানিফ (বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন), আতাউর রহমান খান বড় ভাই (বিএনএফ), খলিলুর রহমান (জাকের পার্টি), এসএম চাঁন মিয়া (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি)।

    টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) ঃ

    এ আসনে ১৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরা হলেন- হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী (আওয়ামী লীগ), লুৎফর রহমান মতিন, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম, বেনজীর আহমেদ (বিএনপি), বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকী, ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী (কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ), মোস্তাক হোসেন রতন (জাতীয় পার্টি), সাদেক সিদ্দিকী (জাতীয় পার্টি-জেপি), মির্জা আবু সাঈদ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), এসএম আবু মোস্তফা (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল), মোন্তাজ উদ্দিন (বাংলাদেশ জাকের পার্টি), আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, আবুল কাশেম ও বাকির হোসেন (স্বতন্ত্র)।

    টাঙ্গাইল-৫ (টাঙ্গাইল সদর) ঃ

    এ আসনে ১১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরা হলেন- ছানোয়ার হোসেন (আওয়ামী লীগ), মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান ও ছাইদুল হক ছাদু (বিএনপি), মুরাদ সিদ্দিকী, আবুল কাশেম (স্বতন্ত্র), পীরজাদা শফিউল্লাহ আল মুনির (জাতীয় পার্টি), খন্দকার সানোয়ার হোসেন (ইসলামী আন্দোলন), সৈয়দ খালেকুজ্জামান মোস্তফা (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ), হাবিবুর রহমান খোকা বীর প্রতিক (কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ), আবু তাহের (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি), শামীম আল মামুন (বিএনএফ)।

    টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) ঃ

    আসনে ১১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরা হলেন- আহসানুল ইসলাম টিটু (আওয়ামী লীগ), অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী ও নুর মোহাম্মদ খান (বিএনপি), আখিনুর মিয়া (ইসলামী আন্দোলন), এম আশরাফুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), আনোয়ার হোসেন (বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন), সুলতান মাহমুদ (বিএনএফ), মাসুকুল হক মুরাদ (ওয়ার্কার্স পার্টি), সৈয়দ নাভেদ হোসেন (জাসদ), মামুনুর রহমান (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি), রবিউল আওয়াল (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল)।

    টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) ঃ

    আসনে ৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরা হলেন- একাব্বর হোসেন (আওয়ামী লীগ), আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী ও সাঈদ সোহরাব (বিএনপি), সৈয়দ মজিবুর রহমান (খেলাফত মজলিশ), রুপা রায় চৌধুরী (প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল), জহিরুল ইসলাম (জাতীয় পার্টি), গোলাম নওজব পাওয়ার চৌধুরী (ওয়ার্কার্স পার্টি), লিপি বেগম (কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ), শাহিনুর ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন)।

    টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) ঃ

    এ আসনে ১০ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরা হলেন- জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের (আওয়ামী লীগ), বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও তার মেয়ে কুড়ি সিদ্দিকী, হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা (কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ), কাজী আশরাফ সিদ্দিকী, রেজাউল করিম (জাতীয় পার্টি), মাওলানা আব্দুল লতিফ মিয়া (ইসলামী আন্দোলন), লিয়াকত আলী, শহিদুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), শফি সরকার (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি)।

    poriborton.com


    ৭৫৫ কোটি টাকায় বিক্রি হকনির চিত্রকর্ম!

    8dae0b8ce46f08cb3b3e8e68ddde7de8 5bee9c751a495 - ৭৫৫ কোটি টাকায় বিক্রি হকনির চিত্রকর্ম!

     

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    ৪৬ বছর আগে যে চিত্রকর্মটি ১৮ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল, সেটাই পাঁচ হাজার গুণের চেয়েও বেশি দামে এখন বিক্রি হলো! জীবন্ত কিংবদন্তি চিত্রকর ডেভিড হকনির একটি চিত্রকর্ম নিলামে রেকর্ড ৯০ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রামানে চিত্রকর্মটির দাম পড়েছে ৭৫৫ কোটি ৮৭ লাখ ৪২ হাজার টাকা।
    গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ক্রিস্টিস নামের নিলাম প্রতিষ্ঠান ‘পোর্ট্রেট অব এন আর্টিস্ট (পুল উইথ টু ফিগারস)’ নামের চিত্রকর্মটি এই দামে বিক্রি করে। কোনো জীবিত চিত্রকরের চিত্রকর্ম এত দামে বিক্রি হওয়ার ক্ষেত্রে এটা রেকর্ড।
    মজার ব্যাপার হলো, ১৯৭২ সালে এই ছবি ব্রিটিশ চিত্রকর ডেভিড হকনি তাঁর পরিবেশকের মাধ্যমে মাত্র ১৮ হাজার ডলারে বিক্রি করেছিলেন। নানা হাত ঘুরে সেই ছবিই এখন এত দামে বিক্রি হলো।চিত্রকর্মটি দেখছেন দর্শকেরা। ছবি: টুইটারচিত্রকর্মটি দেখছেন দর্শকেরা। ছবি: টুইটারসিএনএনের খবরে বলা হয়, এই ছবির স্মৃতি এখনো তিক্ত মধুর ৮১ বছর বয়সী ডেভিড হকনির কাছে। গত বছর হলিউড হিলসে তাঁর স্টুডিওতে সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই ছবি নিয়ে কথা বলেছিলেন। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,‘ওই সময় আমি ভেবেছিলাম, এটা যথেষ্ট অর্থ। অথচ ছয় মাসের মধ্যে ওই ছবি ৫০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল।’ বিক্রির পরপরই তাঁর মার্কিন পরিবেশক অ্যান্ড্রে ইমেরিক বুঝতে পেরেছিলেন, অনেক কম দামে ওটা বিক্রি করা হয়ে গেছে। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। চিত্রকর্মের বাজারে এমন ঘটনা হরহামেশাই ঘটে।

    চিত্রকর্মটির ব্যাপারে সিএনএনকে হকনি বলেছিলেন, স্টুডিওতে দুর্ঘটনাবশত তাঁর দুটি চিত্রকর্ম একটি আরেকটির ওপর পড়ে যাওয়া থেকে এই চিত্রকর্মটি করতে উৎসাহিত হন তিনি। ওই চিত্রকর্ম দুটোর একটি ছিল মার্কিন শিল্পী পিটার স্লেজেনজারের প্রতিকৃতি ও আরেকটি ছিল একজন সাঁতারুর। ওই দুটো ভাবনাকে এক করে তিনি এই চিত্রকর্মটি করেন। তিনি জানান, দুজন ব্যক্তির ভিন্ন ভঙ্গি তাঁকে এতটাই আপ্লুত করে যে তিনি দ্রুত ছবিটি আঁকা শুরু করেন।চিত্রকর ডেভিড হকনি। ছবি: টুইটারচিত্রকর ডেভিড হকনি। ছবি: টুইটারচিত্রকর্মটি আঁকার শুরুতে হকনি ছয় মাস সময় নেন, চূড়ান্ত করেন মাত্র দুই সপ্তাহে। ১৯৭২ সালের মে মাসে নিউইয়র্কের একটি প্রদর্শনীতে চিত্রকর্মটি দেওয়ার জন্য তিনি দ্রুত কাজ শেষ করেন।

    প্রকৃত দামের চেয়ে পাঁচ হাজার গুণের চেয়েও বেশি দামে চিত্রকর্ম বিক্রি হলে চিত্রকরের কেমন লাগে, তা সহজেই অনুমেয়। ক্রিস্টিস মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, চিত্রকর্মটি এত দামে বিক্রি হলেও চিত্রকর আর্থিকভাবে লাভবান হবেন না। চিত্রকর্মটি কে কিনেছেন, তা জানায়নি ক্রিস্টিস।


    গণহত্যায় দোষী দুই খেমাররুজ নেতা

    d724ea881b57ad2e538d3d1ce10eec8b 5beea14b37746 - গণহত্যায় দোষী দুই খেমাররুজ নেতা

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    কম্বোডিয়ার খেমাররুজ শাসনামলের শীর্ষ দুই নেতাকে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। দেশের রোমহর্ষক ‘কিলিং ফিল্ডস’ যুগের চার দশক পরও দুই শীর্ষ খেমাররুজ নেতাকে অভিযুক্ত করা হলো। প্রায় ৪০ বছর আগে বর্বর গণহত্যার দায়ে আজ শুক্রবার তাঁদের আদালতে দোষী সাব্যস্ত করার হয়েছে বলে এএফপির এক খবরে বলা হয়েছে।

    অভিযুক্ত ওই দুজন হলেন খেমাররুজের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান খিউ সামফান (৮৭) ও ‘ব্রাদার নাম্বার টু’ নামে পরিচিত নুয়ান চিয়া (৯২)। কম্বোডিয়ার নিন্দিত খেমাররুজ শাসনামলের জীবিত নেতাদের মধ্যে নিওন চিয়াই সবচেয়ে বয়স্ক। এ ছাড়া ওই আমলের আরেক শীর্ষ নেতা খিউ সামফানের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।

    কম্বোডিয়ায় সত্তরের দশকের খেমাররুজ সরকারের ওই শাসন আমলকে বর্বর শাসনামল বলা হয়। এর নেতৃত্বে ছিলেন ব্রাদার নাম্বার ওয়ান বলে পরিচিত পল পট। লাখ লাখ কম্বোডীয়কে হত্যা বা ক্রীতদাসে পরিণত করার কর্মকাণ্ডের হোতা ছিলেন তিনি।

    আজ শুক্রবার আদালতের দেওয়া রুলে ওই গণহত্যার বিষয়টি প্রথম স্বীকার করে নেওয়া হলো।

    মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা খিউ সামফান ও নুয়ান চিয়ার বিরুদ্ধে ২০১১ সালে গণহত্যার মামলার বিচার শুরু করেন জাতিসংঘ-সমর্থিত কম্বোডিয়ান ট্রাইব্যুনাল। ১৯৭৫ সালের এপ্রিল মাসে নমপেনে বর্বরতা চালানোর অভিযোগে ওই দুজনকে ২০১৪ সালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

    মার্ক্সবাদী নেতা পল পটের নেতৃত্বে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত কম্বোডিয়াকে শাসন করেছিল খেমাররুজ। এই সময় শহরের লাখ লাখ মানুষকে গ্রামাঞ্চলে পাঠিয়ে কৃষিকাজ করতে বাধ্য করে শাসকগোষ্ঠী। গণহত্যা, নির্যাতন, অনাহার, রোগ-জরা ও অতি শ্রমের কারণে প্রায় ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। ষাটের দশকে কম্বোডিয়ায় খেমাররুজের উত্থান। শুরুতে এটা ছিল কমিউনিস্ট পার্টি অব কম্পুচিয়ার (কম্বোডিয়ার কমিউনিস্টদের ব্যবহার করা নাম) সশস্ত্র শাখা।

    ১৯৭০ সালে ডানপন্থীদের সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপ্রধান প্রিন্স নরোদম সিহানুক উৎখাত হওয়ার পর পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। খেমাররুজ তখন সিহানুকের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট করে। পাঁচ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলাকালে খেমাররুজ প্রথমে ধীরে ধীরে দেশের গ্রামাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ পোক্ত করে। চূড়ান্তভাবে ১৯৭৫ সালে রাজধানী নমপেন তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

    খেমাররুজ নেতা পল পট ক্ষমতায় আসার পর কম্বোডিয়াকে কৃষিনির্ভর ‘ইউটোপিয়া’ রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার মিশন শুরু করেন। তিনি ঘোষণা দেন, দেশ ‘শূন্য বছর’ থেকে ফের যাত্রা শুরু করবে। তিনি দেশের জনগণকে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে শহরগুলো খালি করার উদ্যোগ নেন। তিনি মুদ্রার ব্যবহার, ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং ধর্মপালন নিষিদ্ধ করেন। প্রতিষ্ঠা করেন গ্রামীণ যৌথ খামার।

    শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির লাখ লাখ মানুষকে বিশেষ কেন্দ্রে নিয়ে নির্যাতন ও হত্যা করা হতো। এর মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত কেন্দ্রটির নাম ছিল এস-২১ কারাগার, যার অবস্থান ছিল নমপেনে।

    খেমাররুজের চূড়ান্তভাবে পতন হয় ১৯৭৯ সালে। ভিয়েতনামের সঙ্গে সীমান্তে একের পর এক সংঘাতের পর ওই বছর ভিয়েতনামের সেনারা কম্বোডিয়া আক্রমণ করলে খেমাররুজের শীর্ষস্থানীয় নেতারা গা ঢাকা দেন। ধীরে ধীরে সংগঠনটি দুর্বল হয়ে পড়ে।


    ম্যার্কেলও বললেন ইউরোপীয় সেনাবাহিনীর কথা

    da823bdcd7638e39d7fc63fbd9d7dcb6 5bec1285aec0b - ম্যার্কেলও বললেন ইউরোপীয় সেনাবাহিনীর কথা

     

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    ইউরোপীয় ইউনিয়নকে নিয়ে নতুন স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের কথা বলছেন জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। বুধবার ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গ শহরে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের এক বিশেষ অধিবেশনে একক ইউরোপীয় সেনাবাহিনী গড়ার কথা বলেছেন ম্যার্কেল। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নে মৌলিক সংস্কার করার দিকেও গুরুত্ব দেন তিনি।

    ইউরোপীয় পার্লামেন্টে আগামীর ইউরোপকে নিয়ে আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে নিজের ভাবনার কথা বলেছেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল। তিনি বলেন, ইউরোপীয় সেনাবাহিনী ন্যাটো জোটের প্রতিদ্বন্দ্বী হবে না, বরং ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে আগামী দিনে যেন আর কোনো জাতিগত যুদ্ধ না হয়, সেই বিষয়ে ও বিশ্বশান্তির প্রক্রিয়ায়ই ভূমিকা রাখবে। ইউরোপের যেসব দেশে জাতীয়তাবাদী ও কট্টরপন্থীদের উত্থান বাড়ছে, সংস্কারের মাধ্যমে তা ঠেকানোর কথাও জানান তিনি।

    ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে আরও সংহতি, সৌহার্দ্য গড়ে তুলতে এবং আরও মানবিক হওয়ার জন্য পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান জার্মানির চ্যান্সেলর।

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ গত শনিবার প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শত বছর পূর্ণ উপলক্ষে স্মরণসভার এক দিন আগেই পুনরায় ইউরোপীয় ঐক্য, সংহতি ও শান্তির পাশাপাশি ইউরোপীয় সেনাবাহিনী গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। জার্মানি বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে দীর্ঘ সময় নিলেও তারা এখন একক ইউরোপীয় সেনাবাহিনী গড়ে তোলার বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করছে।

    জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের ভাষণের প্রশংসা করে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জাঁ-ক্লদ জাঙ্কার বলেন, তিনি (ম্যার্কেল) তাঁর দেশের সীমান্ত খুলে দিয়ে যেভাবে শরণার্থীদের গ্রহণ করার বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ইতিহাস তা স্মরণ করবে।

    প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে নির্বাচিত ইইউ পার্লামেন্টের মেয়াদ শিগগিরই শেষ হবে। পাঁচ বছর মেয়াদি ইইউ পার্লামেন্টের আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০১৯ সালের ২৬ মে।


    ৪১৭ কোটি টাকার গোলাপি হীরা!

    fc0e7a0980db38e3cf15a20f4b1115a0 5bebfc89b0d6a - ৪১৭ কোটি টাকার গোলাপি হীরা!

     

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় নিলামে গোলাপি রঙের বড়সড় একটি হীরার দাম ৫০ মিলিয়ন ডলার উঠেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর দাম ৪১৭ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। গতকাল ক্রিস্টি’স নিলাম প্রতিষ্ঠানে পাঁচ মিনিটের নিলামে ১৮ দশমিক ৯৬ ক্যারেটের গোলাপি রঙের হীরের খণ্ডটির এই দাম ওঠে। ক্যারেটের হিসাবে বিক্রির দিক দিয়ে এই দাম আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

    সিএনএনের খবরে জানানো হয়, গতকাল ক্রিস্টি’স নামের নিলাম প্রতিষ্ঠানে পাঁচ মিনিটের নিলামে ১৮ দশমিক ৯৬ ক্যারেটের গোলাপি রঙের হীরা খণ্ডটির এই দাম ওঠে। ক্যারেট হিসেবে বিক্রির দিক দিয়ে এই দাম আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

    ক্রিস্টি’স ইন্টারন্যাশনালের অলংকার বিভাগের প্রধান রাহুল কাদাকিয়া বলেন, হীরাটি যুক্তরাষ্ট্রের বিলাসবহুল ব্র্যান্ড হ্যারি উইনস্টন কিনে নিয়েছে। তারা গোলাপি হীরাটির নতুন নাম দিয়েছে ‘উইনস্টন পিংক লিগেসি’।
    কাদাকিয়া জানান, এটা খুবই বিশেষ ধরনের হীরা। গোলাপি হীরার আকার ও রঙে এটা সবচেয়ে ভালোগুলোর একটি। এই হীরার ক্যারেটপ্রতি দাম বিক্রির দিক দিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে।

    প্রতি ক্যারেট ২ দশমিক ৬৩৭ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়ে নতুন রেকর্ড করেছে এই হীরাটি। ছবি: ক্রিস্টি’সের সৌজন্যেপ্রতি ক্যারেট ২ দশমিক ৬৩৭ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়ে নতুন রেকর্ড করেছে এই হীরাটি। ছবি: ক্রিস্টি’সের সৌজন্যে‘পিংক লিগেসি’কে রঙের উজ্জ্বলতার দিক দিয়ে সর্বোচ্চ মানের বলা হচ্ছে। লাখের মধ্যে একটি এমন মানের হীরা পাওয়া যায়। এই হীরাটি আকারের দিক দিয়েও বিরল। ১০ ক্যারেটের বেশি হীরার কথা প্রায় শোনাই যায় না।
    এই হীরার সবশেষ মালিক কে ছিলেন, তা জানে না ক্রিস্টি’স। তবে এটা একসময় ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ওপেনহেইমের পরিবারে ছিল। তিন প্রজন্ম পর্যন্ত ওই পরিবার ডি বিয়ার্স নামে হীরার খনির প্রতিষ্ঠান চালিয়েছে। ২০১১ সালে তাঁরা প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁদের অংশীদারত্ব বিক্রি করে দেন।

    গোলাপি হীরার মধ্যে এর আগে গত বছরের এপ্রিলে ৫৯ দশমিক ৬ ক্যারেটের ‘পিংক স্টার’ নামের একটি হীরা সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়। হংকংয়ে সোদাবাই’সের নিলামে সেটির দাম উঠেছিল ৭১ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫৯৪ কোটি ২১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা)।
    এরপর গত বছরের নভেম্বরে হংকংয়ে ক্রিস্টি’সের নিলামে ১৫ ক্যারেটের ‘পিংক প্রমিজ’ বিক্রি হয় সাড়ে ৩২ মিলিয়ন ডলারে। ওই হীরাটি ওই সময় ক্যারেটপ্রতি রেকর্ড দামে বিক্রি হয়। প্রতি ক্যারেটের দাম পড়ে ২ দশমিক ১৭৬ মিলিয়ন ডলার (১৮ কোটি ১৬ লাখ টাকার বেশি)। আর ‘পিংক লিগেসি’ সেই রেকর্ড ভেঙে এবার প্রতি ক্যারেট ২ দশমিক ৬৩৭ মিলিয়ন ডলারে (২২ কোটি ৭৭ হাজার টাকার বেশি) বিক্রি হয়েছে।


    মনিবের জন্য কুকুরের ৮০ দিন অপেক্ষা

    7c363a53747b2d760a5f75759439c994 5bea50f9d392a - মনিবের জন্য কুকুরের ৮০ দিন অপেক্ষা

     

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    মনিবের মৃত্যুর পর ৮০ দিনের বেশি তাঁর পথচেয়ে ব্যস্ত সড়কে অপেক্ষায় থেকেছে এক অনুগত কুকুর। বিষয়টি সিনেমাটিক মনে হলেও এমন ঘটনাই ঘটেছে চীনের হোহত শহরে।

    মনিবের অপেক্ষায় থাকা সেই কুকুরের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের হোহত শহরে দুই রাস্তার মাঝখানে সড়ক বিভাজকের পাশে অপেক্ষা করে পোষা কুকুরটি। এর ভিডিও দেশটির জনপ্রিয় সিনা উইবো মাইক্রোব্লগে পোস্ট করা হলে ১৪ লাখবার দেখা হয়।

    চীনের পিয়ার ভিডিও ওয়েবসাইটের বরাত দিয়ে বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, গত ২১ আগস্ট মনিবের মৃত্যুর পর থেকে কুকুরটিকে প্রতিদিন সেখানে দেখা যায়।

    প্রথমে অনেকে ভেবেছিলেন, কুকুরটি রাস্তা পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল। তাই তাকে রাস্তা পার করতে সহায়তার জন্য লোকজন চেষ্টাও করে। কিন্তু তখন কুকুরটি দূরে সরে যায়। ৮০ দিন পেরিয়ে গেলে স্থানীয় মানুষ কুকুরটিকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

    গত ২১ আগস্ট মনিবের মৃত্যুর পর থেকে অপেক্ষায় থাকে পোষা কুকুরটি। ছবি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নেওয়াগত ২১ আগস্ট মনিবের মৃত্যুর পর থেকে অপেক্ষায় থাকে পোষা কুকুরটি। ছবি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নেওয়াএক ট্যাক্সিচালক বলেন, প্রায়ই তিনি ছোট ওই কুকুরকে খাবার দিয়েছেন। যখন তিনি রাস্তা পার করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তখন সে দূরে সরে গেছে। তিনি বলেন, ছোট কুকুরটি স্রেফ নিরাপত্তারক্ষীর মতো দাঁড়িয়ে ছিল। প্রতিদিন সব সময় কুকুরটিকে সড়কে দেখা গেছে। কুকুর ও মনিবের মধ্যে সম্পর্ক সত্যিই গভীর ছিল।

    চলতি বছরের শুরুর দিকে পিয়ার ভিডিও ওয়েবসাইটে পোস্ট করা এ রকম একটি ভিডিও আলোচনায় এসেছিল। ওই ভিডিওর মাধ্যমে জানা যায়, একটি বয়স্ক কুকুর তাঁর মনিবের কাজ থেকে ফেরার অপেক্ষায় একটি ট্রেনস্টেশনের বাইরে অপেক্ষা করেছিল।

    কুকুর ও মনিবসংক্রান্ত ১৯২০ সালে জাপানে ঘটনাটি জগদ্বিখ্যাত। টোকিওর একটি রেলস্টেশনে প্রতিদিন একটি কুকুরের সঙ্গে তাঁর মনিবের সাক্ষাৎ হতো। তবে সেই মনিবের মৃত্যুর নয় বছর পেরিয়ে গেলেও সেই কুকুর তাঁর অপেক্ষায় থেকেছে। পরে কুকুরটি মারা গেলে তার স্মরণে টোকিওর শিবুয়া রেলস্টেশনের বাইরে ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়।


    জাপানি ছেলের ভার্চ্যুয়াল বউ

    611c1efb42086b90ba159749ac6bca6e 5bea64bf141ff - জাপানি ছেলের ভার্চ্যুয়াল বউ

     

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    আকিহিকো কন্দোর বিয়ের দিন তাঁর মায়ের মুখে কোনো হাসি নেই। পাত্রীকে মেনে নিতে পারছেন না তিনি। মুখ গোমড়া করে ঘুরছেন। কোনো অতিথিও আসেনি বিয়েতে। পুরো অনুষ্ঠানই যেন নিষ্প্রাণ। কেবল আনন্দে ঝলমল করছেন আকিহিকো কন্দো। সারা জীবনের সাধনায় মনের মানুষ খুঁজে পেয়েছেন তিনি।

    ৩৫ বছরের আকিহিকো, জাপানের বাসিন্দা, মৃদুভাষী। মায়ের কষ্ট তিনি ভালোই বুঝতে পারছেন। একজন মায়ের পক্ষে ভার্চ্যুয়াল জগতের কোনো চরিত্রকে ছেলের বউ হিসেবে মনে নেওয়া বেশ কঠিন—এটা তিনি মানেন। কিন্তু ১৬ বছরের অ্যানিমেডেট গায়িকা হাতসুনে মিকুকে খুব ভালোবাসেন তিনি। তিনি আশা করছেন, আত্মীয়স্বজন খুশি না হলেও খুব সুখেই কাটবে তাঁদের দিন।

    অনুষ্ঠানে সব মিলিয়ে ৪০ জন অতিথি ছিলেন। হলোগ্রাফিক চরিত্র মিকুর ছোট পুতুল ভার্সন রাখা ছিল অনুষ্ঠানে। এটি আসলে বিড়ালের সমান আকৃতির একটি পুতুল। আকিহিকো বলেন, আমি কখনো তার সঙ্গে প্রতারণা করব না। আমি তার সঙ্গে সারাটা জীবন সুখেই কাটাব।

    গত মার্চে আকিহিকো তাঁর ডেস্কটপে ২ হাজার ৮ ডলার খরচ করে হলোগ্রাম চরিত্র মিকুকে কেনেন। এরপর থেকে কম্পিউটারের এই চরিত্রের সঙ্গে গল্প করা, সুখ–দুঃখের কথা বলে আসছেন তিনি। মিকুর মতো চরিত্রগুলো মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। মিকুর পুতুল ভার্সন কাছে রাখতেন তিনি। এরপর বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

    মিকুকে তৈরি করেছে গেটবক্স নামের একটি কোম্পানি। আকিহিকোর আবেদনের পর ‘ম্যারেজ সার্টিফিকেট’ ইস্যু করেন তাঁরা। ওই সার্টিফিকেটে এক মানুষ ও একজন ভার্চ্যুয়াল চরিত্রের ‘ডাইমেনশনের বাইরে’ গিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তবে এই বিয়ের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। আকিহিকো চাইলেই অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারেন। তবে মিকুকে ভীষণভাবে ভালোবাসেন আকিহিকো। তাকে নিয়ে বিয়ের আংটিও কিনতে যান তিনি।

    বিয়ের পর বেশ সুখেই আছেন এই দম্পতি। প্রতিদিন সকালে আকিহিকোর ঘুম ভাঙায় ভার্চ্যুয়াল নারী মিকু। একটি স্কুলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সকালে অফিসে যান। বিকেলে বাসায় ফিরলে ঘরের আলো জ্বালায় মিকু। প্রদত্ত বুদ্ধিমত্তায় আকিহিকোর সঙ্গে গল্পও করতে পারে সে।

    আসলে বেশ কয়েক বছর ধরে বিয়ের বিষয়ে অনাগ্রহ তৈরি হচ্ছে জাপানের মানুষের। ভার্চ্যুয়াল চরিত্র তৈরির কোম্পানি গেটওয়ে জানিয়েছে, ‘বৈচিত্র্যময় ডাইমেনশনের এই বিয়ের জন্য ৩ হাজার ৭০০ ‘ম্যারেজ সার্টিফিকেটের’ আবেদন পেয়েছে তারা।

    ১৯৮০ সালে যেখানে জাপানে প্রতি ৫০ জনে একজন বিয়ে করতেন না, সেখানে এখন প্রতি চারজনে একজন বিয়ে করেন না। সামাজিক, মানসিক নানা কারণে নারী-পুরুষ উভয়েরই বিয়ের প্রতি অনীহা তৈরি হয়েছে।

    বিয়েতে ভয় পেলেও ভালোবাসা খোঁজেন তাঁরা। আকিহিকো চাইতেন কাউকে ভালোবাসতে। স্কুলের এই চাকরির আগে অন্য একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন আকিহিকো। সেখানে এক নারী তাঁকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করতেন, যা তাঁর মনে নারীর প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরি করে। ভেবেছিলেন, আর কখনই বিয়ে করবেন না। তবে মিকু তাঁর জীবন পাল্টে দিয়েছে। মিকুকে নিয়ে সুখী হবেন—এমনটাই মনে করেন তিনি। তিনি মনে করেন, সবার উচিত সব ভালোবাসা, সব খুশিকে সম্মান করা।


    শ্রীলঙ্কায় পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ

    6d080908d40a92e99ea5243f43164530 5be925612733d - শ্রীলঙ্কায় পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ

     

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছে দেশটির প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দল। আজ সোমবার এক পিটিশনে তারা ওই ঘোষণা বাতিল করে পার্লামেন্ট পুনর্বহালের আবেদন করেছে।

    বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের অংশীদার দল তিনটি সর্বোচ্চ আদালতকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে রনিল বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করাকেও অবৈধ ঘোষণার আবেদন করেছে। গত ২৬ অক্টোবর সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করে মাহিন্দা রাজাপক্ষেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকে সাংবিধানিক সংকটের মধ্যে পড়েছে দেশটি। আগামী ৫ জানুয়ারি দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

    মাহিন্দা রাজাপক্ষে। ছবি: এএফপিমাহিন্দা রাজাপক্ষে। ছবি: এএফপিএর আগে গতকাল রোববার বিক্রমাসিংহের দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) প্রেসিডেন্টের এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবে বলে জানিয়েছিল। বিক্রমাসিংহের মন্ত্রিপরিষদের অর্থমন্ত্রী মঙ্গলা সামারাবিরা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আদালতে লড়াই করব, পার্লামেন্টে লড়াই করব এবং নির্বাচনে লড়াই করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০১৫ সালে সিরিসেনাকে আমরা সমর্থন দিয়েছিলাম এই আশায় যে তিনি এ দেশের নেলসন ম্যান্ডেলা হবেন, কিন্তু তিনি নিজেকে “বিশ্বাসঘাতক” হিসেবে দেখিয়েছেন। তিনি ম্যান্ডেলা হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুগাবে (জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে) হয়েছেন।’

    শ্রীলঙ্কার সংবিধানের ১৯তম সংশোধনী অনুসারে, পার্লামেন্টে ভোটাভুটি ছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে প্রেসিডেন্ট বরখাস্ত করতে পারবেন না। আর পার্লামেন্টে ভোট হলে বিক্রমাসিংহেকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো যাবে না। কারণ, সিরিসেনার দল ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স (ইউপিএফএ) ও রাজাপক্ষের দল শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির মিলিত আসনের সংখ্যা ৯৫ এবং বিক্রমাসিংহের দল ইউএনপির আসনসংখ্যা ১০৬। সমর্থন বেশি থাকায় ভোটাভুটিতে বিক্রমাসিংহের পক্ষে ভোট বেশি পড়বে।

    রনিল বিক্রমাসিংহে। ছবি: এএফপিরনিল বিক্রমাসিংহে। ছবি: এএফপিএর আগে ২০১৫ সালে দীর্ঘ সময় ধরে প্রেসিডেন্ট পদে থাকা রাজাপক্ষেকে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন সিরিসেনা। ওই সময় সিরিসেনার জোটে ছিলেন বিক্রমাসিংহে। তবে সিরিসেনা ও বিক্রমাসিংহে জোটের মধ্যে নানা সময়েই মতবিরোধ দেখা দেয়। সবশেষ ভারতকে একটি বন্দর লিজ দেওয়ার ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে এই দুজনের মধ্যে চরম মতবিরোধ দেখা দেয়।

    সিরিসেনার পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। কলম্বোয় বিদেশি দূতাবাসগুলো সিরিসেনার এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে নিন্দা জানিয়েছে।


    ১ ভোটেরও কমে নির্বাচনে হার-জিত!

    24b69dde6f50a0a1f1f6d4d70b2d38a5 5be8fd62ba70c - ১ ভোটেরও কমে নির্বাচনে হার-জিত!

     

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    নির্বাচনে জিততে হলে কত ভোটের ব্যবধান প্রয়োজন হয়? যদি সংখ্যার হিসাব তোলেন, তবে তাত্ত্বিকভাবে বলাই যায়, এক ভোটেও তো জয়-পরাজয় নির্ধারিত হতে পারে! সংখ্যার হিসাবে আসলেই এটি হয়। বিশ্বের গণতান্ত্রিক ভোটাভুটির ইতিহাসে এক ভোটে জয়-পরাজয়ের অনেক ঘটনাই ঘটেছে। আবার কখনো কখনো দেখা গেছে, কোনো নির্বাচনী আসনে দুই প্রার্থীই সমান ভোট পেয়েছেন! নির্বাচনের এমন কিছু হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ঘটনা নিয়েই সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন:

    ১. ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া রাজ্যে হাউস অব ডেলিগেটস নির্বাচনে প্রথমে মাত্র এক ভোটে জয়ী হয়েছিলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শেলি সাইমন্ডস। পরে নির্বাচনের এই ফলাফল আদালতে গড়ায়। তখন আইনসভার অচলাবস্থা মেটাতে ভোটে জয়ী হলেও রিপাবলিকান প্রার্থীর কাছে হার স্বীকার করে নেন শেলি। এতে হাউস অব ডেলিগেটসে অল্প ব্যবধানে এগিয়ে যায় রিপাবলিকানরা।

    ২. ২০০৮ সালে ভারতের রাজস্থানে রাজ্যসভার নির্বাচনে একটি আসনে মাত্র এক ভোটে হেরে গিয়েছিলেন সি পি জোশি নামের এক প্রার্থী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রকাশ, চূড়ান্ত ফলাফলে সি পি জোশির প্রতিদ্বন্দ্বী কল্যাণ সিং পেয়েছিলেন ৬২ হাজার ২১৬টি ভোট। জোশির ভাগ্যে জুটেছিল ৬২ হাজার ২১৫টি ভোট। পরে জানা গিয়েছিল, জোশির মা ও স্ত্রী নাকি ভোট দিতে পারেননি! বুঝুন এবার, একটি ভোটের কত দাম।

    ৩. ১৯১০ সালে নিউইয়র্কের কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট বাফেলোর নির্বাচনে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদলীয় প্রার্থী চার্লস বি স্মিথ মাত্র এক ভোটে হারিয়েছিলেন রিপাবলিকান ডি আলভা এস আলেকজান্ডারকে। স্মিথ পেয়েছিলেন ২০ হাজার ৬৮৫টি ভোট। অন্যদিকে, আলেকজান্ডার পেয়েছিলেন ২০ হাজার ৬৮৪টি ভোট। পরে ভোটের এই ফলাফল পুনর্গণনা করা হয়। এতে স্মিথ আরও কিছু ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিলেন।

    ৪. যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনেও ১৯১০ সালে এমন ঘটনা ঘটেছিল। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, ওই বছরের জানুয়ারিতে দেশটির এক্সিটার শহরের পার্লামেন্ট আসনে নির্বাচন হয়েছিল। প্রথমবারের ভোট গণনার পর কনজারভেটিভ পার্টির হেনরি ডিউক ৪ ভোটে হেরে গিয়েছিলেন লিবারেল হ্যারল্ড সেইন্ট মোরের কাছে। কিন্তু ভোট পুনর্গণনার পর ডিউক ১ ভোটে জিতে যান। এর ফলে হাউস অব কমন্সে নিজের আসন ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন হেনরি ডিউক। তিনি পেয়েছিলেন ৪ হাজার ৭৭৭ ভোট। অন্যদিকে, মোর পেয়েছিলেন ৪ হাজার ৭৭৬টি ভোট।

    ৫. ২০১৩ সালে ফিলিপাইনের ওরিয়েন্টাল মিনদোরো প্রদেশে মেয়র নির্বাচন হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফিলিপাইন স্টারের খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচনে দুই দলের দুই প্রার্থী সমান সমান ভোট পেয়েছিলেন। নাসিওনালিস্তা পার্টি–সমর্থিত প্রার্থী সালভাদর পি ও লিবারেল পার্টির মারভিক ফেরারেন—দুজনেরই প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ২৩৬। মজার বিষয় হলো, ওই অবস্থায় ধাতব মুদ্রা দিয়ে টস করে জয়ী নির্বাচন করা হয়েছিল! জিতে গিয়েছিলেন মারভিক। পরে অবশ্য এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক হয়েছিল।

    ৬. ২০০০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখেছিল মার্কিন জনগণ। ওই বছর রিপাবলিকান পার্টি থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন জর্জ ডব্লিউ বুশ জুনিয়র এবং ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে ছিলেন আল গোর। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট আল গোর পপুলার ভোটে জিতলেও ইলেক্টোরাল ভোটে হেরে গিয়েছিলেন। নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, সবচেয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল ফ্লোরিডা রাজ্যে। সেখানকার স্থানীয় নির্বাচনে মোট ভোটের ১ শতাংশেরও কম ব্যবধানে আল গোরকে হারিয়েছিলেন বুশ। সংখ্যার হিসাবে ব্যবধান ছিল ৫৩৭ ভোট। কিন্তু শতাংশের হিসাবে তা ছিল ১-এরও কম।

    ৭. কানাডার কুইবেক প্রদেশের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে ১০ বছরের ব্যবধানে দুবার দুই পক্ষের ভোটে টাই হয়েছিল। প্রথম ঘটনাটি ঘটে ১৯৯৪ সালে। সেবার কুইবেক প্রদেশের একটি আসনে প্রধান দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই ১৬ হাজার ৫৩৬টি করে ভোট পেয়েছিলেন। সিবিসি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে আরেক আসনে ওই দুই দলের প্রার্থীর মধ্যেই ফের টাই হয়। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সেবার ১১ হাজার ৮৫২টি করে ভোট পেয়েছিলেন। দুই ঘটনায়ই পুনর্বার ভোট নিয়ে জটিলতার অবসান হয়েছিল।


    যাঁর হাত ধরে এসেছিল প্লাস্টিক সার্জারি

    c77f742291fa23e533793b9b10dec6b2 5be7e53d51945 - যাঁর হাত ধরে এসেছিল প্লাস্টিক সার্জারি

     

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ছিল ভয়াবহ। সামরিক-বেসামরিক মিলিয়ে ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ হতাহত হয়। চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ মানবতার জন্য ভীষণ পীড়াদায়ক ছিল। তবে এই সময়েই চিকিৎসার নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়।

    দ্য ইনকোয়ারারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষ দুই বছরে চিকিৎসকদের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে অনেকেই মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান। যুদ্ধ শেষে ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৪৮৭ ব্রিটিশ সেনা বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পান। তাঁদের বেশির ভাগই শেল বিস্ফোরণে আহত হয়েছিলেন। বিশ্বযুদ্ধে অনেকে মুখে আঘাত পান। ১৬ শতাংশের আঘাত ছিল গুরুতর। মুখের আঘাতের চিকিৎসায় আগে খুব বেশি কিছু করার ছিল না। যাঁদের মুখে আঘাত লেগেছিল, তাঁদের দেখতে বীভৎস লাগত। তাঁদের দেখতে, শ্বাস নিতে ও খেতে নানা সমস্যা হতো।

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নিউজিল্যান্ডের হ্যারল্ড গিলিস নামের এক তরুণ ইএনটি (ইয়ার, নোজ ও থ্রোট) সার্জন মুখে আঘাত পাওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসায় প্রচেষ্টা শুরু করেন। তাঁর মনে হয়, এ ক্ষেত্রে বিশেষ কাজ করার প্রয়োজন আছে। সময়টাও তাঁর পক্ষে ছিল। সামরিক মেডিকেল নেতৃত্বও এই ধরনের আঘাত বা ক্ষত চিকিৎসায় বিশেষ সেন্টার স্থাপনের গুরুত্ব বুঝতে পারে।

    ১৯১৬ সালের জানুয়ারিতে গিলিসকে মুখের আঘাত চিকিৎসায় কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। অ্যাল্ডারসটে কেমব্রিজ মিলিটারি হাসপাতালে ব্রিটেনের প্রথম প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপন করা হয়। গিলিস ভাবছিলেন, শ দুয়েক রোগী আসতে পারে। কিন্তু শুরুতেই দুই হাজারের বেশি রোগী চলে আসে। এর বাইরে মুখ পুড়ে যাওয়া নাবিক ও বিমানসেনাদের চিকিৎসা দিতে হয় তাঁকে।

    গিলিস তাঁর উদ্ভাবিত প্লাস্টিক সার্জারিকে ‘অদ্ভুত নতুন শিল্পকর্ম’ বলে উল্লেখ করেন। পরীক্ষা ও প্রয়োগ পর্যায়ে আরও নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন তিনি। অবশ্য এ ধরনের কিছু পদ্ধতি আগে ভারতে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে গিলিসের উদ্ভাবন করা একটি উল্লেখযোগ্য পদ্ধতি হলো টিউব পেডিকল স্কিন গ্রাফটিং। এতে টিউব পদ্ধতিতে শরীরের কোনো অংশ থেকে চামড়া নিয়ে তা ক্ষতস্থানে প্রতিস্থাপন করা হয়।

    প্লাস্টিক সার্জারির ক্ষেত্রে গিলিসের হাতে প্রথম রোগী হিসেবে আসেন ওয়াল্টার ইও নামের এক ওয়ারেন্ট অফিসার। ১৯১৬ সালে জুটল্যান্ড যুদ্ধে মুখে আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। এতে তাঁর চোখের পাতাসহ মুখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁর মুখে স্ক্রিন গ্রাফটিং করা হয়। চোখে পাতাও বসানো হয়। তবে এর ফল একেবারে নিখুঁত ছিল না। এই পদ্ধতি আরও অনেক রোগীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন গিলিস।

    অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আরও বড় জায়গার দরকার ছিল গিলিসের। গিলিস তখন লন্ডনের কুইন ম্যারি হাসপাতালে বিশেষ ইউনিটের নকশা করেন। সেখানে ৩২০টি বেড ছিল। বছর শেষে সেখানে ৬০০ বেড দাঁড়ায়। মোট ১১ হাজার ৭৫২টি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। যুদ্ধ শেষে সেই ইউনিটে ১৯২০ থেকে ১৯২৫ সালের মধ্যে আট হাজারের বেশি সামরিক ব্যক্তি চিকিৎসা নেন। ১৯২৯ সালে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়।

    গিলিস গলফ খেলোয়াড় ও হাস্যরসিক হিসেবে পরিচিত হলেও ১৯১৪ সালের আগ পর্যন্ত খুব বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেননি। যখন যুদ্ধ শুরু হলো, তখন তাঁর বয়স ৩২ বছর। এ সময় তিনি রয়েল আর্মি মেডিকেল করপোরেশনে যোগ দেন। ইউমেরাক্সে ৮৩ ডাবলিন হাসপাতালে পাঠানো হয় তাঁকে। সেখানে তিনি চার্লস ভালাদিয়ার নামের এক দন্ত চিকিৎসকের তদারকে ছিলেন। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের ত্বক ও হাড়ের চিকিৎসা নিয়ে কাজ করছিলেন চার্লস।

    ‘ব্যাটল অব সোম’নামে পরিচিত যুদ্ধে অনেকেই মুখে আঘাত পান। পারস্যের চিকিৎসকদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে গিলিস বিশেষ প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট তৈরির পক্ষে কথা বলেন। ওই সময় অনেকেই তাঁকে প্রচলিত সিনথেটিক উপাদান ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তবে গিলিস তাঁর স্কিন গ্রাফটিং ব্যবহারের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। তিনি তাঁর উদ্ভাবনের নাম দেন টিউব পেডিকেল। এটাই পরে রিকনস্ট্রাকশন সার্জারির মৌলিক কৌশল হয়ে ওঠে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পাশাপাশি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও এই পদ্ধতি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

    গিলিস তাঁর কাজের জন্য প্লাস্টিক সার্জারির জনক বলে পরিচিতি পান। ১৯৩০ সালে নাইটহুড উপাধি পান তিনি।