• Category Archives: খেলাধুলা

    তামিম নেই, অপেক্ষা সাকিবের

    7340245129c0c543a77be99246c4e5e7 5beec806e7c4a - তামিম নেই, অপেক্ষা সাকিবের

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ টেস্ট দল ঘোষণা হবে আজ’, গত তিন দিন এটাই বারবার শোনা গেছে। আজও দল ঘোষণা হয়নি। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল অবশ্য বললেন, কাল হয়তো দল দিয়ে দেবেন। এই দলে যে তামিম থাকছেন না, অনেকটাই নিশ্চিত। নির্বাচকদের অপেক্ষা এখন সাকিবকে ঘিরে
    জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিন থেকেই শোনা যাচ্ছে যেকোনো সময় দেওয়া হতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দল। গত কয়েকটা দিন খেলা শেষে দেখা গেছে, দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন ও হাবিবুল বাশার লম্বা বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ দলের কোচ স্টিভ রোডসের সঙ্গে। মিটিংটা যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের স্কোয়াড নিয়ে, না বললেও চলছে। তা দলটা দিচ্ছেন কখন, মিনহাজুলকে জিজ্ঞেস করলেই বলেছেন, ‘এই তো দিয়ে দেব’। ‘আজ দিচ্ছি’, ‘কাল দিচ্ছি’ বলে আজও নির্বাচকেরা ঘোষণা করেননি বাংলাদেশ দল।

    দল অনেকটাই তৈরি। তবুও কেন টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা করতে দেরি হচ্ছে নির্বাচকদের। জানা গেল, নির্বাচকদের অপেক্ষাটা আসলে সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের জন্য। এশিয়া কাপে হাতে চোট পাওয়া তামিম অনেকটাই সেরে উঠেছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট দিয়ে ফেরার আশাও করেছিলেন। কিন্তু সিরিজের আগ মুহূর্তে পেলেন পাঁজরে ব্যথা। ২২ নভেম্বর ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে শুরু চট্টগ্রাম টেস্টে যে তামিমকে পাওয়া যাচ্ছে না, অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। আগামী ১০-১২ দিনে বাঁহাতি ওপেনার সেরে উঠলে হয়তো ৩০ নভেম্বর শুরু ঢাকা টেস্ট দিয়ে ফিরবেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।

    তামিমের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়ে গেলেও নির্বাচকেরা অপেক্ষা করছেন সাকিবের জন্য। চোট থেকে ফিরে গত বুধবার থেকে ব্যাটিং অনুশীলন শুরু করেছেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট খেলার মতো ফিট কি না, কালও নিশ্চিত করতে পারেননি সাকিব। কেমন অনুভব করছেন, ফিজিওর রিপোর্ট কী বলে, এসবের ওপর নির্ভর করছে তাঁর ফেরা। টেস্ট দল নিয়ে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল প্রথম আলোকে বললেন, ‘আমাদের কোনো তাড়াহুড়ো নেই। মাত্রই একটা সিরিজ শেষ হলো। আশা করি কাল টেস্ট দল ঘোষণা করতে পারব। তামিমের খেলা অনেকটাই অনিশ্চিত। সাকিবেরটা এখনো বলা যাচ্ছে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আমাদের টেস্ট দল হয়তো কালই জানতে পারবেন।’

    রুবেল হোসেনের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে কাল সকালে চট্টগ্রামে যাচ্ছে বিসিবি একাদশ। উইন্ডিজ অবশ্য এরই মধ্যে জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু করে দিয়েছে অনুশীলন।


    দেখে নিন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সূচি

    b1878441558d17c5ed81cc6d2ba4b296 5beed21988b11 - দেখে নিন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সূচি

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    ভারত থেকে দুদিন আগেই বাংলাদেশে চলে এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এক মাসের বাংলাদেশ সফরে উইন্ডিজ খেলবে দুটি টেস্ট, তিন ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টি।
    জিম্বাবুয়ে সিরিজ শেষ, এবার বাংলাদেশ তৈরি হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে। দুই টেস্টের প্রথমটি শুরু ২২ নভেম্বরে, চট্টগ্রামে। শেষটি ঢাকায়। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটি মিরপুরে, শেষটি সিলেটে। একই ভেন্যুতে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ। শেষ দুটি টি-টোয়েন্টি হবে মিরপুরে। গত জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট সিরিজে খারাপ খেললেও বাংলাদেশ দুর্দান্ত খেলে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে। সীমিত ওভারের দুটি সিরিজই জেতে বাংলাদেশ। এবার দেশের মাঠে টেস্ট সিরিজেও ভালো করে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে জুলাইয়ের হারের প্রতিশোধ নিতে চাইবে বাংলাদেশ।

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সূচি

    তারিখ খেলা ভেন্যু
    ২২–২৬ নভেম্বর ১ম টেস্ট চট্টগ্রাম
    ৩০ নভে.–৪ ডিসে. ২য় টেস্ট মিরপুর
    ৯ ডিসেম্বর ১ম ওয়ানডে মিরপুর
    ১১ ডিসেম্বর ২য় ওয়ানডে মিরপুর
    ১৪ ডিসেম্বর ৩য় ওয়ানডে সিলেট
    ১৭ ডিসেম্বর ১ম টি–টোয়েন্টি সিলেট
    ২০ ডিসেম্বর ২য় টি–টোয়েন্টি মিরপুর
    ২২ ডিসেম্বর ৩য় টি–টোয়েন্টি মিরপুর


    সকালই বলে দেবে দিনটা কেমন হবে ক্রীড়া প্রতিবেদক,

    11b7218adba7e1cff3edc603df0a1ff0 5bec2c09d9164 - সকালই বলে দেবে দিনটা কেমন হবে ক্রীড়া প্রতিবেদক,

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    মর্নিং শোজ দ্য ডে। আগামীকাল সকালের সেশনটা বলে দেবে কী হতে যাচ্ছে এই ম্যাচের ভাগ্যে। বাংলাদেশ আশাবাদী, জিম্বাবুয়েকে অলআউট করে দিতে পারবে তারা। আর জিম্বাবুয়ে আশাবাদী, ঠিকভাবে সামলে নিতে পারবে বাংলাদেশকে।
    ৫৬/৩, ৬২/২, ১০০/৩, ৭৮/৪— ভাগ করার অঙ্ক নয়; এগুলো মিরপুর টেস্টের প্রথম চার দিনে সকালের সেশনের হিসাব। চার দিনে সকালে উইকেট পড়েছে ১২টি। এ সময় ব্যাটসম্যানরা ওভারে আড়াইয়ের নিচে রান করেছেন। গড়ে ২৪.৬৭ রানে একটি করে উইকেট পড়েছে সকালের সেশনে। এই টেস্ট কোন পথে যাচ্ছে তা নিয়ে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে থাকলেও এক বিষয়ে একমত। সকালের সেশনটাই ঠিক করে দেবে ম্যাচের গতিপথ।

    শুধু সংবাদ সম্মেলনে আগে এসেছেন বলে নয়, জিম্বাবুয়ে কোচ লালচাঁদ রাজপুতের অভিজ্ঞতারও একটা মূল্য আছে। তাই তাঁর বিশ্লেষণটা শোনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলছেন, ‘দিনের প্রথম ঘণ্টাটা হবে মূল চাবি। ব্রেন্ডন আর শন উইলিয়ামস যদি সেটা পার করে দিতে পারে, তাহলে চাপটা বাংলাদেশের ওপরে চলে যাবে।’

    তাঁর পরে সংবাদ সম্মেলনে আসা মেহেদী মিরাজও সকালের সেশনের কথা বললেন জোর দিয়ে, ‘এখনো পর্যন্ত ম্যাচটা আমাদের দিকেই আছে। আমরা সাড়ে চার শর মতো লক্ষ্য দিয়েছি। ওদের দুই উইকেট শিকার করেছি। কাল একটা দিন আছে, তিনটা সেশন আছে। আমাদের বোলাররা যদি ভালো লেংথে বল করতে পারে, তাহলে ম্যাচটা আমাদের দিকেই আছে।’

    কিন্তু এখন পর্যন্ত মিরপুরের উইকেটকে দেখে মনে হচ্ছে না সেই অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের জন্য বানানো উইকেটের রেসিপিতে বানানো। চতুর্থ দিনেও স্পিনাররা পর্যাপ্ত টার্ন পাচ্ছে না। একটা-দুটো বল হঠাৎ উঁচু-নিচু হচ্ছে, কিন্তু তা বিপদ জাগানিয়া নয়। সতর্ক থাকলেই হলো।
    মিরাজ বলছেন, ‘উইকেটে কিন্তু তেমন অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটছে না। দুই-একটা ডেলিভারিতে একটু আন-ইভেন (উঁচু-নিচু) কিছু হয়। আমাদের বোলারদের ভালো জায়গায় বল করতে হবে। কারণ উইকেট চার দিন শেষেও সে রকম নিচু বল আসছে না। দুই-একটা ছাড়া। ফলে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। বোলারদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। কষ্ট করতে হবে কালকের দিনটা। আশা করছি বোলাররা যারা আছে তারা শতভাগ চেষ্টা করবে উইকেটের জন্য।’
    রাজপুত তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনে ছিলেন ওপেনার। স্পিনটা করতেন হঠাৎ। তবে ৫৬ বছর বয়সে কম অভিজ্ঞতা তো আর হলো না। রাজপুত বলছেন, ‘তাইজুল হয়তো অনেক উইকেট পাচ্ছে, কিন্তু ওর উইকেটগুলোও যদি দেখেন, এমন নয় সেগুলো সে খুব বেশি বল টার্ন করিয়ে পেয়েছে। বেশির ভাগই ছিল আর্ম বল। এটা নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা হয়েছে। আমাদের প্রতিটা বল ধরে ধরে খেলতে হবে। কোন বলটা লাফাবে, কোনটা নিচে আসবে এটা ভেবে খেলার দরকার নেই। যে বলটা আসবে, চেষ্টা করতে হবে ব্যাট যেন বলের কাছাকাছি থাকে। যত কাছে থাকবে, বলের টার্ন আপনি তত কমিয়ে ফেলতে পারবেন। এতে করে তাইজুলের ভেতরে ঢোকা বলগুলোও সামলানো যাবে। প্রথম ইনিংসে ওকে আমরা ভুলভাবে খেলে উইকেট দিয়ে এসেছি। দ্বিতীয় ইনিংসে ভুলগুলো শোধরাতে হবে।’


    মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে মিরাজও যে কারণে সেজদা দিলেন

    4687b27aa44da77087f978a0cb0d4716 5bec3a516e340 - মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে মিরাজও যে কারণে সেজদা দিলেন

     

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    সেঞ্চুরির পর সেজদা দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। তা তিনি দিতেই পারেন। কিন্তু সেঞ্চুরি কিংবা ফিফটি না করা মিরাজ কেন মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে সেজদা দিয়েছেন, সেটিই বিশদ বলেছেন সংবাদ সম্মেলনে।

    ৮ বছর পর টেস্টে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। দেশের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো সেঞ্চুরি পেয়েছেন। মাহমুদউল্লাহ শূন্যে লাফ দিলেন। গ্লাভস-হেলমেট খুলে সেজদাও দিলেন। সেঞ্চুরি প্রাপ্তির আনন্দে অনেক ব্যাটসম্যান এভাবে উদ্‌যাপন করে থাকেন। মাহমুদউল্লাহও করেছেন। কিন্তু সবাই অবাক চোখে দেখল, ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ককে দেখে সেজদা দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজও।

    অথচ মিরাজের তখন সেঞ্চুরি দূরে থাক, ফিফটিও হয়নি। তবুও মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেজদা দিয়েছেন। কেন দিয়েছেন, সেটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে, ‘আমাদের ব্যাটসম্যানরা অনেক দিন ধরে রান করতে পারছিল না। এই টেস্টে আমাদের অনেক প্রাপ্তি ছিল। মুশফিক ভাই ডাবল সেঞ্চুরি করলেন, মুমিনুল ভাই দেড় শ করলেন। রিয়াদ ভাই (মাহমুদউল্লাহ) সেঞ্চুরি করেছেন, মিঠুন ভাই ফিফটি করেছেন। আমিও একটা ফিফটি করেছি (প্রথম ইনিংসে)। খুব ভালো লেগেছে যে ব্যাটসম্যানরা রানে ফিরেছে। ব্যাটসম্যানরা দাপট দেখিয়েছে। এটা দলের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটসম্যানরা যদি দাপট দেখায় তাহলে দল ভালো খেলে। এ খুশিতেই আসলে সেজদা দেওয়া। খুব ভালো লাগছে। নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। তাই রিয়াদ ভাইয়ের সঙ্গে সেজদা দিয়েছি।’

    ব্যাটিং ভালো হলেও মিরাজ একটু পিছিয়ে পড়েছেন বোলিংয়ে। না, বোলিং একেবারে খারাপ হচ্ছে, সেটি নয়। তবে টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখার পর উইকেটশিকারি বোলার হিসেবেই তাঁকে দেখা গেছে। স্পিন আক্রমণে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে অন্যতম ভরসা হিসেবে নিজের দায়িত্বটা পালন করেন। এই সিরিজে বোলিংয়ে মিরাজকে কিছুটা ম্লান দেখাচ্ছে তাইজুল ইসলামের কাছে। বাঁহাতি স্পিনার যেখানে টানা তিন ইনিংসে ৫ উইকেট পেলেন, মিরাজের উইকেট সংখ্যা দুই অঙ্কও ছাড়ায়নি।

    বোলিংয়ে তাইজুলকে ছাপিয়ে যেতে না পেরে মোটেও চিন্তিত নন মিরাজ। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন, এ প্রশ্নে উত্তরটা দিলেন বেশ রসিয়ে, ‘সব সময় এক-দুজন ভালো করে, দাপট দেখায়। তাইজুল ভাই দারুণ বোলিং করেছেন, প্রথম টেস্ট থেকেই। তিনি ভালো বোলিং করছেন বলেই উইকেটগুলো তাঁর পাওনা। ভালো জায়গায় বোলিং করছেন, উইকেট পাচ্ছেন। আমি তাঁকে সহায়তা করে যাচ্ছি। এখন দুজনই যদি ভালো বোলিং করি তাহলে তো ওরা অল্প রানে আউট হয়ে যাবে! দিন শেষে একজন ভালো করবে, একজন সহায়তা করবে। তবে কাল আমার ও তাইজুল ভাইয়ের ভালো একটা সুযোগ আছে।’


    ফুটবলে অর্থের ছড়াছড়ি ‘পছন্দ নয়’ এমবাপ্পের

    b44afca73ce6b47f874543eb1373649f 5beabc2488ed5 - ফুটবলে অর্থের ছড়াছড়ি ‘পছন্দ নয়’ এমবাপ্পের

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    দুই দিন আগেই এমবাপ্পে তাঁর ক্লাব পিএসজির কাছ থেকে কী কী সুযোগ-সুবিধা চান, তার একটা গোপন নথি ফাঁস হয়েছে। দুই দিন পরেই পুরোদস্তুর ভালো ছেলে হয়ে এমবাপ্পে জানালেন, ফুটবলে অঢেল অর্থের এই ঝনঝনানি তাঁর বড্ড অপছন্দ
    ফুটবল লিকসের গোপন নথিপত্র ফাঁসের তালিকা থেকে বাদ যাননি ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেও। দুই দিন আগেই বিস্ফোরক এক প্রতিবেদনে ফাঁস হয়েছে কোনো কোনো সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে রিয়াল মাদ্রিদের মতো দলের প্রস্তাব ফিরিয়েছেন এই ফরাসি তারকা। কিন্তু সুইডেনের আরটিএস চ্যানেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকার দিতে বসে পুরো ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে সুবোধ হয়ে গেলেন তিনি। ফুটবল অঢেল অর্থের ঝনঝনানি নাকি একেবারেই পছন্দ নয় তাঁর।

    নিজে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান বলেই এই অর্থের ছড়াছড়ি তাঁর পছন্দ নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনোভাবেই এটি পরিবর্তন করতে পারবেন না, ‘আমি একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, তাই ফুটবলে এই অতিরিক্ত অর্থের ছড়াছড়ির ব্যাপারটা আমার কাছে দৃষ্টিকটু বলে মনে হয়। আমি বিপ্লবী নই, তাই আমি চাইলেও ফুটবলের এই সংস্কৃতিটা বদলাতে পারব না, তাই নিজের অবস্থানে থেকে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে আমাকে। ফুটবল দুনিয়াটাই এখন এ রকম হয়ে গেছে।’
    মোনাকো থেকে গত মৌসুমেই ১৮০ মিলিয়ন ইউরোতে পিএসজিতে যোগ দেন এমবাপ্পে। ফরাসি তারকাকে দলে টানার চেষ্টা করেছিল রিয়াল মাদ্রিদও। তখন জানা গিয়েছিল, রিয়ালও নাকি ১৮০ মিলিয়ান ইউরোতেই নিতে চায় তাঁকে। কিন্তু ফুটবল লিকস জানাচ্ছে, রিয়াল আসলে এমবাপ্পের জন্য আরও উদারহস্ত হতে চেয়েছিল, খরচ করতে চেয়েছিল ২১৪ মিলিয়ন ইউরো! এমবাপ্পে কিছু বাড়তি সুযোগ-সুবিধা নিয়েই পিএসজিতে থেকে যান। বেতন নিচ্ছেন ১০ মিলিয়ন ইউরো। রিয়ালে সেটি নাকি ৭ মিলিয়ন টপকাতো না। এমবাপ্পের দাবি ছিল, ব্যালন ডি’অর জিতলে তাঁকে নেইমারের সমান বেতন দিতে হবে। সে অঙ্কটা ৩০ মিলিয়ন ইউরো। কিন্তু তাঁর সে প্রস্তাব অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছে পিএসজি। এ ছাড়া বছরে ব্যক্তিগত বিমানে ৫০ ঘণ্টা ওড়ার সুবিধা চেয়েছিলেন এমবাপ্পে। এ দাবিও মানেনি পিএসজি। তবে একজন বাটলার, একজন চালক ও নিরাপত্তারক্ষীর বেতন দিতে রাজি হয়েছে পিএসজি।
    সেই এমবাপ্পের গলায় এখন ভিন্ন সুর!


    দেশের শততম সেঞ্চুরিতে তিন ‘ম’ আর তারিখের কাকতাল!

    4f85a38ec0f4ebcadd409c51fb44ebc9 5be936b233172 - দেশের শততম সেঞ্চুরিতে তিন ‘ম’ আর তারিখের কাকতাল!

     

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাল বাংলাদেশের শততম সেঞ্চুরিটি এনে দিয়েছেন মুমিনুল হক

    ১ থেকে ৫০, তারপর ১০০—এই তিন মাইলফলকেই জড়িয়ে তিন ‘ম’।
    এক লহমায় কথাটি বোঝা কঠিন। কিন্তু যদি তিনটি নাম বলা হয়—মেহরাব হোসেন, মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক…ক্রিকেটপ্রেমীরা এবার হয়তো ধরে ফেলেছেন। হ্যাঁ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি মেহরাবের। সেই যে ১৯৯৯ সালে ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ১৪ বছর পর গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫০তম সেঞ্চুরিটি তুলে নিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। এর পাঁচ বছর পর কাল মুমিনুল এনে দিলেন শততম সেঞ্চুরি।

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অভিষেক ১৯৮৬ সালে, ওয়ানডে দিয়ে। প্রথম সেঞ্চুরির জন্য অভিষেকের পর ১৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ওই যে ১৯৯৯ সালে মেরিল ইন্টারন্যাশনাল কাপে মেহরাবের সেঞ্চুরিটি। কাল সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই এল শততম সেঞ্চুরি। এই ১০০ সেঞ্চুরি পেতে ক্রিকেটের সব সংস্করণ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ৫৪৪ ম্যাচ খেলতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এই পথে বাংলাদেশের পেছনে শুধুই জিম্বাবুয়ে। শততম সেঞ্চুরি পেতে জিম্বাবুয়েকে খেলতে হয়েছে ৫৭১ ম্যাচ। এতে সবচেয়ে দ্রুততম ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের লেগেছে মাত্র ৯১ ম্যাচ।

    টেস্ট আঙিনায় বাংলাদেশ এখনো বড় দল হয়ে উঠতে পারেনি। কিন্তু মুশফিকের সেঞ্চুরিসহ এই ১০১ সেঞ্চুরির মধ্যে টেস্ট থেকেই তিন অঙ্কের ইনিংস এসেছে সবচেয়ে বেশি। কাল টেস্ট আঙিনায় সেঞ্চুরির ‘ফিফটি’ এনে দেন মুমিনুল। পরে সংখ্যাটা ৫১-তে উন্নীত করেন মুশফিক। ওয়ানডেতে ‘ফিফটি’র দেখা পেতে আর এক সেঞ্চুরি চাই বাংলাদেশের—মানে ৪৯টি সেঞ্চুরি। আর টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরিসংখ্যা একটি—২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে তামিম ইকবালের ১০৩*।

    বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরিটি তুলে নিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম।বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরিটি তুলে নিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম।এই ১০১ সেঞ্চুরির মধ্যে খুব স্বাভাবিকভাবেই ঘরের মাঠে বাংলাদেশ দলের সেঞ্চুরিসংখ্যা বেশি। ঘরের মাঠে ৫৩ সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা। এ তুলনায় প্রতিপক্ষের মাঠে সংখ্যাটা একেবারে কম না—৩৬ সেঞ্চুরি। আর নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ১২ সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের প্রিয় প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে, প্রিয় ভেন্যু শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরিসংখ্যা ২৩ আর শেরেবাংলায় সেঞ্চুরিসংখ্যা ২২।

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেকের এই ৩২ বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি পেয়েছেন ২০১৪ সালে। সে বছর সর্বোচ্চ ১৩টি সেঞ্চুরি পেয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৯৯ সালে প্রথম সেঞ্চুরির মুখ দেখার পর শুধু একটি বছর বাংলাদেশ কোনো সেঞ্চুরির দেখা পায়নি—২০০২ সাল। আর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই তিন দশকেরও বেশি সময়ে বাংলাদেশের মোট ২৬ ক্রিকেটার সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২০টি সেঞ্চুরি তামিমের (টেস্টে ৮টি, ওয়ানডেতে ১১টি ও টি-টোয়েন্টিতে ১টি)। তিন সংস্করণ মিলিয়ে সমান ১২টি করে সেঞ্চুরি সাকিব ও মুশফিকের। ৯টি মোহাম্মদ আশরাফুলের আর ৭টি করে সেঞ্চুরি ইমরুল ও মুমিনুলের। এর মধ্যে মুমিনুলের সব কটি সেঞ্চুরিই টেস্টে।

    জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যেহেতু টেস্ট সংস্করণে শততম সেঞ্চুরিটি এসেছে, তাই প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির প্রসঙ্গ উঠে আসবেই। আর এই সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অমরত্ব পেয়েছেন আমিনুল ইসলাম। ভারতের বিপক্ষে ২০০০ সালে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে ১৪৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন আমিনুল। সেই দিনটি ছিল ১১ নভেম্বর। আচ্ছা, কাল যেন কত তারিখ ছিল!


    ইতিহাসের ছাত্র মুশফিকের আরেক ইতিহাস

    c31d06fce657f31682502b0d85513b6a 5be9481e4402f - ইতিহাসের ছাত্র মুশফিকের আরেক ইতিহাস

     

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে তো বটেই, টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করে ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ফেললেন মুশফিক।

    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। ইতিহাসের ছাত্র মুশফিকুর রহিম এখন একই বিদ্যাপীঠ থেকে এমফিল করছেন। তাঁর ইচ্ছা, ভবিষ্যতে পিএইচডিও করবেন। পিএইচডির বিষয় অনেকটা ঠিক হয়ে আছে। মুশফিক গবেষণা করতে চান উপমহাদেশের ক্রিকেট ইতিহাস নিয়ে।

    ইতিহাস শাস্ত্রে ভালো দখল আছে। মুশফিক ২২ গজেও ইতিহাস রচনা করতে সিদ্ধহস্ত। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। ২০১৩ সালের মার্চে গল টেস্টের পর আবারও ‘ডাবলে’র দেখা পেলেন মুশফিক। আজ ঢাকা টেস্টে করা এই ডাবল সেঞ্চুরিটার তাৎপর্য অন্য রকম। মুশফিক বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবেই শুধু নন, টেস্টে ক্রিকেটে প্রথম উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করলেন। স্বীকৃত উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মাত্র আটজনের আছে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড। এ তালিকায় আছেন ইমতিয়াজ আহমেদ, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার, কুমার সাঙ্গাকারা, মহেন্দ্র সিং ধোনি, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, তসলিম আরিফ, ব্রেন্ডন কুরুপ্পু ও মুশফিক। আজ আরেকটি ডাবল সেঞ্চুরি করে মুশফিক নিজেকে নিয়ে গেলেন এই তালিকার সবার ওপরে।

    মুশফিকের ডাবল সেঞ্চুরিটা হলোও একটু নাটুকে কায়দায়। চা বিরতির আগের ওভারের দ্বিতীয় বলে তাঁর বিপক্ষে কট বিহাইন্ডের আবেদন করে জিম্বাবুয়ে। মুশফিকের উইকেটটি পেতে রিভিউ পর্যন্ত নেয় জিম্বাবুইয়ানরা। টিভি আম্পায়ার রড টাকার আল্ট্রাএজ দেখে-টেখে জানিয়ে দিলেন, মুশফিক এগিয়ে যেতে পারেন। যখন এগিয়ে যাবেন, তখনই আবার চা বিরতি। যেন রোমাঞ্চকর, মজার কোনো নাটক-সিনেমা দেখতে বসেছেন। যখনই নায়কের বড় কোনো চাওয়া পূরণ হতে যাচ্ছে, তখনই শুরু বিজ্ঞাপন বিরতি। এই বিরতি যেন শেষ হতে চায় না। ২০ মিনিটের চা বিরতিটাই আজ ২০ ঘণ্টা মনে হলো।

    সেই অপেক্ষা শেষ হলো, চা বিরতির ৪ ওভার পর। চা বিরতির পর মুশফিক মাঠে পা রাখতেই দর্শকদের করতালি। ১ রান করে যখন ‘মুশি’ এগিয়ে যাচ্ছেন ডাবলের দিকে, দর্শকেরা দারুণ খুশি! সেই খুশি দ্বিগুণ হয়ে গেল যখন মুশি সিকান্দার রাজাকে পুল করে এক রান নিয়ে পূর্ণ করলেন ডাবল সেঞ্চুরি। দুই হাত ওপরের দিকে উঁচিয়ে, শূন্যে চুমু ছুড়ে, ‘হৃদয় চিহ্ন’ এঁকে, সবুজ ঘাসে কপাল ছুঁইয়ে মুশফিক স্মরণীয় করে রাখলেন তাঁর অনন্য অর্জন।

    ২০০৫ সালের মে মাসে লর্ডসে অভিষেকের পর ১৩ বছরের ক্যারিয়ারে কখনো মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তিন অঙ্ক ছোঁয়া হয়নি মুশফিকের। ঢাকার টেস্টের আগে যে পাঁচটি সেঞ্চুরি পেয়েছেন, চারটিই বিদেশে, প্রতিকূল কন্ডিশনে। এই চার সেঞ্চুরি দুটি আবার ১৫০ পেরোনো। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই টেস্ট দিয়ে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম তিন অঙ্কের দেখা পেয়েছেন। সেই তিন অঙ্ক এমনই উজ্জ্বল, এমনই জ্বলজ্বলে টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে, যেটির মহিমা অন্য রকম।

    কাল সকালে দলের ঘোরতর বিপর্যয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছেন। ৫৬৪ মিনিট উইকেটে থেকে, ৪০৭ বল খেলে ডাবল সেঞ্চুরি করে দলকে নিয়ে গেছেন ভালো অবস্থানে। মুশফিক যখন ডাবল সেঞ্চুরি করছেন, ড্রেসিংরুমে তখন দেখা গেল সাকিব আল হাসানকে। টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২১৭ রানের রেকর্ডটা এই বাঁহাতি অলরাউন্ডারের। ‘দর্শক’ হিসেবে মাঠে আসা সাকিব নিজ চোখেই দেখলেন রেকর্ডটা কীভাবে নিজের করে নিচ্ছেন, কীভাবে ইতিহাসের পর ইতিহাস লিখে চলেছেন ইতিহাসের ছাত্র মুশফিক!


    সিটি ২১: ০ ইউনাইটেড!

    2c0e722b45d6c325b3633b8a49f3aa7f 5be822d9d55b2 - সিটি ২১: ০ ইউনাইটেড!

     

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    ‘ফার্গি টাইম’, স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়া এক শব্দ। ফার্গুসনের ব্যক্তিত্বের কারণে ম্যাচের যোগ করা সময়ে হয় বাড়তি সময় পেত ইউনাইটেড; অথবা দল কোনো না–কোনো ভাবে ম্যাচের ফল দলের জন্য ইতিবাচক করে ফেলতেন খেলোয়াড়েরা। অনেক দিন পর দুধের স্বাদে ঘোল মেটানোর মতো করে তেমন একটা স্বাদ পেয়েছে রেড ডেভিলসরা। জুভেন্টাসকে তাদের মাঠে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। সেটাও ম্যাচের শেষ ৫ মিনিটে দুই গোল করে।

    ইউরোপিয়ান ফুটবলে পিছিয়ে পড়ার পর ইউনাইটেডের এভাবে শেষ মুহূর্তে জেতার স্মৃতিতে ধুলো জমেছে। ১৯৯৯ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালেই শেষ এমন কিছু হয়েছিল। সেই হারানো স্মৃতি ফেরার পর ইউনাইটেড সমর্থকেরা আরেকটি স্বাদ ফিরে পেতে চাইছেন। প্রতিপক্ষকে গোল বন্যায় ভাসানোর স্বাদ। ফার্গুসনের যুগে দলগুলিকে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলার যে আনন্দ পেত রেড ডেভিলরা সেটা যে আর পাচ্ছে না তারা।

    একসময় ইপসউইচকে ৯-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া কিংবা নটিংহাম ফরেস্টকে তাদেরই মাঠে ৮ গোল দেওয়ার কীর্তি গড়েছে ইউনাইটেড। আর্সেনালকেও ৮-২ গোলে হারানোর ঘটনাটি মাত্র ৭ বছরের পুরোনো। বর্তমানে সে দলই প্রিমিয়ার লিগে সাড়ে পাঁচ বছর ধরে প্রতিপক্ষকে কখনো ৫ গোল দিতে পারেনি, ভাবা যায়! আরও পরিষ্কারভাবে বললে, ফার্গুসন চলে যাওয়ার পর থেকেই ইউনাইটেডের গোলবন্যার দিন শেষ হয়ে গেছে। এ সময়েই ম্যানচেস্টার সিটি ২১ বার প্রতিপক্ষকে ম্যাচে ৫ বা এর বেশি গোল দিয়েছে। লিভারপুল এমন কাণ্ড করেছে ১২ বার। টটেনহাম কিংবা আর্সেনালও কম যায়নি। দুই লন্ডন প্রতিবেশী কাজটা করেছে ৯ ও ৮ বার। সার্জিও আগুয়েরো নিজেই তো একা এ কাজটা করেছেন। ২০১৫ সালে নিউক্যাসলের বিপক্ষে ২০ মিনিটের মধ্যে ৫ গোল দিয়েছিলেন সিটি ফরোয়ার্ড।

    অথচ প্রিমিয়ার লিগের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে গোলে ভাসানোর দায়িত্বটা নিজেদের কাঁধে যেচে নিয়েছিল ইউনাইটেড। গত শতকের শেষ দশকে লিগে ১৬ বার ম্যাচে অন্তত ৫ গোল দিয়েছে ইউনাইটেড। একমাত্র লিভারপুল এ কাজে তাদের ধারেকাছে ছিল (১২বার)। এ শতাব্দীতেও নিজেদের প্রাধান্য ধরে রেখেছে ইউনাইটেড। ফার্গুসনের অধীনে (২০০০ থেকে ২০১৩ সাল) ২৮ বার এ কাজ করেছে তারা। আর্সেনালও অবশ্য এ কাজে সিদ্ধহস্ত হয়ে উঠেছিল এ সময়ে। আর্সেন ওয়েঙ্গারের দলও এ সময় প্রতিপক্ষকে অন্তত ৫ গোল দিয়েছে ২৮ বার। রোমান আব্রামোভিচের ছোঁয়ায় পরাশক্তিতে রূপ নেওয়া চেলসি এ কাজ করেছে ২৩ বার। এরপরই ছিল লিভারপুল (১৫) ও সিটি (১৪)।

    সেই ইউনাইটেড এখন আর প্রতিপক্ষকে গোল বন্যায় ভাসায় না। সর্বশেষ ইউনাইটেড এক ম্যাচে ৫ গোল করেছিল ২০১৩ সালে। ফার্গুসনের অধীনে দলের শেষ ম্যাচে! ওয়েস্টব্রমের বিপক্ষে ৫-৫ স্কোরলাইনের সে অবিশ্বাস্য ম্যাচের স্মৃতি ইউনাইটেডের জন্য সান্ত্বনা হয়ে আছে। সাড়ে পাঁচ বছর পুরোনো সে ম্যাচের রেকর্ড যে আজও হচ্ছে না, এটা প্রায় নিশ্চিত। একে তো সিটির মাঠে পেপ গার্দিওলার বিপক্ষে নামবে ইউনাইটেড। তার ওপর দলটির দায়িত্বে আছেন মরিনহো। যার অধীনে লিগে এ মৌসুমে ১১ ম্যাচে মাত্র ১৯ গোল করেছে ইউনাইটেড। উল্টো সিটির পাঁচ গোলের রেকর্ড আরও এক ম্যাচ বাড়ে কি না সে আলোচনা চলছে!


    মুমিনুল কেন ‘লাঞ্চ’ করেন না?

    de2b1ca3fb3dc1b5081f01d5a60c0023 5be828bb9eeb1 - মুমিনুল কেন ‘লাঞ্চ’ করেন না?

     

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    মুমিনুল হকের অপেক্ষায় সবাই। দিনের খেলা শেষে জিম্বাবুয়ে দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসেছেন কাইল জার্ভিস। জিম্বাবুইয়ান পেসারের সংবাদ সম্মেলন শেষ দুই মিনিটেই! ‘জার্ভিসের কাছে কী এত শোনার আছে’— এ ভাবনায় হয়তো সবার অপেক্ষা মুমিনুলের জন্য। দিনের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখটা যে তিনিই।

    ২৬ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের সামনে যখন আরও একটি বিপর্যয়ের চোখরাঙানি, মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে মুমিনুল গড়েন প্রতিরোধের দেয়াল। উচ্চতায় বাংলাদেশের দুই ব্যাটসম্যান ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি হতে পারেন। শুরুর ধাক্কার পর দুজন যে প্রতিরোধের দেয়ালটা গড়ে তুললেন, সেটির উচ্চতা ইঞ্চি-ফুটে পরিমাপ করা যায় না। ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জোড়া সেঞ্চুরির পর টানা আট ইনিংসে ভালো করতে পারেননি মুমিনুল। রানের ক্ষুধাটা ক্রমেই বাড়ছিল তাঁর। সেই ক্ষুধা তিনি আজ ভালোভাবে মিটিয়েছেন, বিশেষ করে লাঞ্চের পরের সেশনে। প্রথম সেশনে করেছেন ৬৪ বলে ২৫ রান। দ্বিতীয় সেশনে অনেক আক্রমণাত্মক, ৮৬ বলে ৭৭। সেঞ্চুরি করেছেন ১৫০ বলে।
    জেনে অবাক হতে পারেন, টেস্টে ব্যাটিং করতে করতে যদি লাঞ্চ বিরতি পান, মুমিনুল মুখে তোলেন না কিছুই। লাঞ্চে কেন কিছু খান না, ড্রেসিংরুম থেকে আজ সংবাদ সম্মেলনে আসার পথে সেটির ব্যাখ্যা তিনি দেন না। শুধু বলেন, ‘এতেই আমি বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করি।’

    লাঞ্চে কিছু খেয়ে পেটের ক্ষুধা নিবারণের চেয়ে মুমিনুলের কাছে বড় হয়ে ওঠে রানের ক্ষুধা মেটানো। পাঁচ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে সেটি তিনি প্রায়ই মেটান। এ কারণে টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তাঁর পরিসংখ্যানটাই সবচেয়ে উজ্জ্বল। আজ পেয়েছেন সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ ৮ সেঞ্চুরি করে তামিম ইকবাল সবার ওপরে। এও মনে রাখতে হবে, তামিমের ৮ সেঞ্চুরি করতে লেগেছে ১১ বছর। এমনও হতে পারে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টেই সেঞ্চুরি সংখ্যায় তামিমকে ছুঁয়ে ফেলেছেন মুমিনুল।

    এই উজ্জ্বল পরিসংখ্যানের বিপরীতে কিছু আফসোসের গল্পও আছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে যেমন ছিলেন, মুমিনুল যদি সেই ছন্দটা ধারাবাহিক ধরে রাখতেন, নিশ্চিত এত দিনে টেস্টে অনেক রেকর্ড নিজের করে নিতেন। অবশ্য মুমিনুল প্রায়ই বলেন, রেকর্ডের জন্য তিনি খেলেন না। আজও খেলেননি, ‘রেকর্ড নিয়ে তেমন চিন্তা করি না। আমি আর মুশি (মুশফিক) ভাই যখন ব্যাটিং করছিলাম, তখন লক্ষ্য ছিল সেশন ধরে সেশন ব্যাটিং করার। একটা সেশন নিজেদের করে নেওয়া আমাদের অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওই সময় ওদের বোলাররা খুব ভালো বোলিং করছিল। এখনো ভালো করছে। যে কন্ডিশন, যে উইকেট ছিল, অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল (রান করা)। আমরা সেশন ধরে ধরে খেলার চেষ্টা করেছিলাম, রেকর্ড নিয়ে ভাবিনি। সেশন ধরে ধরে খেললে আপনার সেঞ্চুরি হবে, দেড় শ হবে, দিন শেষে রেকর্ডও হবে।’

    রেকর্ড নিয়ে না ভাবলেও যে ৩১ টেস্টে খেলেছেন, একেবারে কম অর্জন নেই তাঁর। আজ যেমন তামিমকে টপকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটা নিজের করে নিয়েছেন। এ নিয়ে তিনবার ১৫০ পেরোনো ইনিংস খেলেছেন, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ। ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রামে ১৮১, গত ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৭৬ আর আজ ১৬১। আচ্ছা, মুমিনুল ডাবল সেঞ্চুরি হবে কবে?

    অদ্ভুত এক উত্তরই দিলেন বাঁহাতি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান, ‘আমার দল কোনো দিন যদি সাড়ে তিন শ, চার শ তাড়া করতে খেলে, তখন হয়তো ডাবল সেঞ্চুরি হতে পারে! আমার দুই শ, দেড় শ করা খেলা তো এটা না। এটা হলো দলের খেলা। দলের যখন দরকার হবে, তখন আসবে।’ বোঝা গেল উত্তরটা দিয়েছেন রসিকতার সুরে। পরক্ষণে সিরিয়াস ভঙ্গিতে বলেন, ‘এটা যত দেরিতে হবে আমার (রানের) খিদে তত বাড়বে। হয়ে গেলে খিদে তো মিটে গেল!’

    মুমিনুল কেন লাঞ্চ করেন না, সেটির উত্তর না বলুন। কেন ডাবল সেঞ্চুরি হচ্ছে না, একটা উত্তর তো পাওয়া গেল!


    সাকিব-মাশরাফির মতো রাজনীতিতে এসেছেন যে ক্রিকেটারেরা

    a29db2cdd1302da5991603db8929ae40 5be6e4b73c81b - সাকিব-মাশরাফির মতো রাজনীতিতে এসেছেন যে ক্রিকেটারেরা

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    মাশরাফি-সাকিবের ক্রিকেট অঙ্গনকে চমকে দেওয়ার দিনে একটু দেখে নেওয়া যাক উপমহাদেশে অন্য ক্রিকেটারদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার কেমন চলছে
    আজ দিনটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বিশেষ এক দিন। আজই ক্রিকেটের কুলীন সদস্য হওয়ার ১৮ বছর পূর্ণ হলো বাংলাদেশের। আবার আগামীকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ। সে জিম্বাবুয়ে যাদের কাছে দেশের মাটিতে সিরিজ খোয়ানোর স্বাদটা এখন ১৭ বছর পুরোনো। পুরা দিনটাই আজ গমগম করার কথা ক্রিকেট আর টেস্ট নিয়ে। কিন্তু সাকিব আল হাসান আর মাশরাফি বিন মুর্তজা সেটা হতে দেননি।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি ও অন্য দুই সংস্করণের নেতা সাকিব। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, তাঁরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহের জন্য আগামীকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ধানমন্ডি কার্যালয়ে আসবেন। আজ শনিবার দুপুরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা আবু নাসের প্রথম আলোকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। সাকিব নিজেই আজ প্রথম আলোকে তাঁর নির্বাচন করার আগ্রহের কথা জানিয়ে বলেছেন, মাগুরা-১ আসনের জন্য তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।

    ক্রিকেটারদের রাজনীতিতে যোগ দেওয়া নতুন কিছু নয়। ইংলিশ ক্রিকেটারদের (বিশেষ করে ‘ভদ্রলোক’) তো এক সময় হরহামেশাই দেখা যেত রাজনীতিতে। সিবি ফ্রাইয়ের মতো কিংবদন্তিও আছেন এ তালিকায়। তবে উপমহাদেশে এ চর্চা একটু কম। বিশেষ করে তারকা ক্রিকেটারদের মধ্যে রাজনীতিতে সাফল্য খুব কমই পেয়েছেন। বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান এ ক্ষেত্রে উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। প্রথম কোনো ক্রিকেটার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন ইমরান।

    মাশরাফি-সাকিবের বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনকে চমকে দেওয়ার দিনে একটু দেখে নেওয়া যাক উপমহাদেশে অন্য ক্রিকেটারদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার কেমন চলছে

    মনসুর আলী খান পতৌদি
    সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক পতৌদিকে ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক বলে ভাবা হয়। মনসুর আলী ১৯৯১ সালে কংগ্রেসের অধীনে ভোপাল থেকে সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে হেরে যাওয়ায় রাজনীতির ক্যারিয়ার সেখানেই শেষ হয় নবাব সাহেবের।

    নভজোৎ সিং সিধু
    ইদানীং টিভিতেই বেশি চমক দেখালেও সাবেক ভারতীয় ওপেনারের ক্যারিয়ারটা কিন্তু জমজমাট ছিল। ১৯ বছরের ক্যারিয়ার শেষে ২০০৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপির হয়ে অমৃতসর থেকে সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পেয়েছিলেন সিধু। ২০১৬ সালে পাঞ্জাব থেকে রাজ্যসভায় তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয় কিন্তু সিধু সেবার দল থেকে পদত্যাগ করেন। ২০১৭ সালে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে অমৃতসর থেকেই আবার নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন সিধু।

    বিনোদ কাম্বলি
    শচীন টেন্ডুলকারের স্কুলবন্ধুর ক্রিকেট ক্যারিয়ার অকালেই শেষ হয়েছিল। অভিনয়ে কিছুদিন সময় পার করে পরে রাজনীতিকেই আশ্রয় মেনেছেন কাম্বলি। লোক ভারতীতে যোগ দেওয়া কাম্বলিকে দলের সহসভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ২০০৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লোক ভারতীর হয়ে মুম্বাইয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন কাম্বলি। ক্রিকেট ক্যারিয়ারের মতোই রাজনীতিতেও অনুজ্জ্বল কাম্বলি নির্বাচনে হেরেছিলেন।

    শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বদলে দেওয়া এ দুজন এখন পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ। ফাইল ছবিশ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বদলে দেওয়া এ দুজন এখন পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ। ফাইল ছবিঅর্জুনা রানাতুঙ্গা
    শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটকে বদলে দিয়েছেন বিশ্বকাপ জেতা এই অধিনায়ক। অবসর নেওয়ার পর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের অনেক পদেই দেখা গেছে তাঁকে। রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ ২০০১ সালে। শ্রীলঙ্কান ফ্রিডম পার্টিতে যোগ দিয়ে ২০০১ সালের সংসদীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন রানাতুঙ্গা। এর পর থেকেই সক্রিয় রাজনীতিক হিসেবেই ব্যস্ত । সাবেক শিল্প, পর্যটন ও বিনিয়োগ প্রচারের উপমন্ত্রী হিসেবে কাজ করা রানাতুঙ্গা বর্তমানে বন্দরমন্ত্রী।

    সনাথ জয়াসুরিয়া
    ওয়ানডে ক্রিকেটের ইনিংসের শুরুটা বদলে দেওয়া সনাথ জয়াসুরিয়া এত দিন অনন্য ছিলেন। সাকিব ও মাশরাফির আগে তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি খেলোয়াড়ি জীবনেই সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নিয়েছেন। ২০১০ সালেই রাজনীতিতে এসেছেন জয়াসুরিয়া। মাতারা জেলা থেকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন মাতারা হারিকেন। মাহিন্দা রাজাপক্ষের সরকারের অধীনে উপমন্ত্রী ছিলেন জয়াসুরিয়া।

    মোহাম্মদ


    সেমিফাইনালে শেখ রাসেল

    1be0393cc01537fd6e5582eb2bc92888 5be6f1e0a6178 - সেমিফাইনালে শেখ রাসেল

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    চট্টগ্রাম আবাহনীকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে শেখ রাসেল। বসুন্ধরা কিংস ও বিজেএমসির মধ্যকার জয়ী দলের বিপক্ষে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে তারা
    বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠ যেন মোমোদুহ বাহর জন্য আতঙ্কের এক নাম! শেষ মৌসুমে শেখ জামালের জার্সিতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে মাথায় আঘাত পেয়ে আইসিইউতে যেতে হয়েছিল গাম্বিয়ান এই স্ট্রাইকারকে। দল বদল করে চট্টগ্রাম আবাহনীতে নাম লিখিয়েছেন, কিন্তু দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়েনি। আজ আবার মাথায় আঘাত পেয়ে মাঠ থেকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর দল চট্টগ্রাম আবাহনীও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে ফেডারেশন কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে। একমাত্র গোলটি করেছেন নাইজেরিয়ান রাফায়েল অনব্রো।

    খাতা–কলমে চট্টগ্রামের দল থেকে বেশ এগিয়ে শেখ রাসেল। বল দখলের লড়াই ও আক্রমণেও এগিয়ে ছিলেন সাইফুল বারি টিটুর শিষ্যরা। তবে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল নিয়েও ট্যাকটিকসের জোরে টিটুর সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু। রক্ষণভাগের ওপর জোর দিয়ে কাউন্টার অ্যাটাক ও সেটপিসে বেশ কয়েকবার পরীক্ষাও নিয়েছে বর্তমান রানার্সআপরা। কিন্তু রাফায়েলের গোলটা মীমাংসা করে দিয়েছে সেমিফাইনাল খেলবে কারা।

    উজবেকিস্তানের আজিজভ আলিশার, ব্রাজিলের অ্যালেক্স রাফায়েল ও নাইজেরিয়ার রাফায়েলকে নিয়ে রাসেলের দুর্দান্ত আক্রমণভাগ। এদের পেছনে জ্বালানি হিসেবে জাতীয় দলের উদীয়মান ফরোয়ার্ড বিপলু আহমেদ। বিল্ডআপ খেলে ঝড়ের গতিতে আক্রমণে উঠেছে তারা। কিন্তু অ্যাটাকিং থার্ডে চট্টগ্রাম হোল্ডিং মিডফিল্ডার কিরগিজ ড্যানিয়েল ট্যাগোর সামনে থামছিল সব আক্রমণ।

    দ্বিতীয়ার্ধে ট্যাকটিকসে পরিবর্তন আনেন টিটু। মাঝখানে রাফায়েলের সঙ্গে খেলতে থাকা আজিজভকে নিয়ে আসা হয় উইংয়ে। এই জুটির রসায়নেই খুলেছে গোলের মুখ। বাম প্রান্তে আজিজভকে বল দিয়ে গোলমুখে মুভ করেন রাফায়েল। উজবেক ফরোয়ার্ডের ক্রস প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করলে ফিরতি বলে জটলা থেকে দূরের পোস্টে বল পাঠান রাফায়েল। ৪৭ মিনিটের এই গোলটিই করে দিয়েছে ম্যাচের মীমাংসা।

    যদিও ৬৬ মিনিটে গোলের সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করেছেন বিপলু। রাফায়লের ছোট থ্রু নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর তরুণ এই উইঙ্গারের সামনে ছিলেন শুধু গোলরক্ষক নেহাল। কোনো পরীক্ষাই নিতে পারলেন না, তালগোল পাকিয়ে তুলে দিয়েছেন হাতে।

    বিপলুর এই গোল মিসের খেসারতের দেওয়ার সুযোগ ছিল মোমোদুহর। কিন্তু ৭১ মিনিটে চট্টগ্রাম ডিফেন্ডার এলিসন উদোকার সঙ্গে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছে তাঁকে। মোমোদুহবিহীন আবাহনী সমতায় ফেরার মতো কোনো সুযোগই সৃষ্টি করতে পারেনি।