• Category Archives: বিজয় নগর

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-বিজয়নগর ০৩ আসনে বিএনপির প্রচারণায় পুলিশের বাধা।

    Brahmanbaria Bnp 2 300x202 - ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-বিজয়নগর ০৩ আসনে বিএনপির প্রচারণায় পুলিশের বাধা।

     

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া -৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করে বলেছেন, বিজয়নগর উপজেলায় তাকে স্বাভাবিক প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে পুলিশ বাধা প্রদান করছে।


    শান্তিময় গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ধানের শীষে ভোট দিন- হাজী সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।ভিডিও সহ..

    received 929051717289923 - শান্তিময় গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে  ধানের শীষে ভোট দিন- হাজী সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।ভিডিও সহ..

    বিজয়নগর প্রতিনিধিঃ

     

    বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তিতাস পাড়ের আপামর জনসাধারণের প্রাণস্পর্শী জননন্দিত জননেতা ইঞ্জিঃ খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এর ধানের শীষের সমর্থনে বুধন্তী ইউনিয়নের কেনা গ্রামে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত উঠান বৈঠকটি বিজয়নগর


    বিজয়নগরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষত্গ্রিস্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন মোকতাদির চৌধুরী এম.পি

    47222110 263611161178654 3068886791646871552 n - বিজয়নগরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষত্গ্রিস্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন মোকতাদির চৌধুরী এম.পি

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগরে অগ্নিকাণ্ডে ১০টি দোকান পুড়ে ভস্মিভূত হাওয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অভাবনীয় উন্নয়নের রূপকার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এম.পি।
    আজ ৩০ নভেম্বর শুক্রবার দুপুরে তিনি বিজয়নগরের চান্দুরা বাজারে অগ্নিকান্ডে পুড়ে যাওয়া দোকানগুলো পরিদর্শন করেন।

    এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদেরকে সমবেদনা এবং সহযোগীতার আশ্বাস প্রদান করেন।

    এ সময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডঃ তানভীর ভূইয়া,বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহের নিগার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডঃ জহিরুল ইসলাম ভূইয়াসহ বিজয়নগর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ।

    উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত ৩টার দিকে বিজয়নগরের চান্দুরা বাজারে আগুনে পুড়ে কোটি টাকার মালামাল ক্ষতি হয়, এ সময় বাজারের ১০টি দোকান পুড়ে ভস্মিভুত হয়ে যায়।

    স্থানীয়রা জানান, কিভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এখন পর্যন্ত জানা যায়নি, ভোরে চান্দুরা বাজারের পূর্ব দিকে কয়েকটি দোকানে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয়রা নেভানোর চেষ্টা করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে মাধবপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে দু’টি ইউনিটের প্রায় ২ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।


    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বিএনপির মনোনয়নের দৌড়ে ৫২ জন।

    Brahmanbaria 1 1 - ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বিএনপির মনোনয়নের দৌড়ে ৫২ জন।

     

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন পেতে দৌড় ঝাঁপ শুরু করেছে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তাই দল থেকে মনোনয়ন ফরম ছাড়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৬টি সংসদীয় নির্বাচনী আসনের ৫২ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে সর্বাধিক ১৬জন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে একজন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর)

    একক প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ একে একরামুজ্জামান।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ)

    এ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বিএনপির ১০ জন প্রার্থী। তারা হলেন–-বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলহাজ উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মোহাম্মদ শামীম, সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু আসিফ আহমেদ, সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ড. আজিজ আহমেদ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এস.এন তরুন দে, সাবেক ছাত্রদল নেতা আহসান উদ্দিন শিপন ও বিএনপি নেতা জাবেদ আল হাসান স্বাধীন।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর)

    এ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ৩ জন। তারা হলেন– বিএনপির নির্বাহী কমিটির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, সাবেক ছাত্রদল নেতা ড. তৌফিকুল ইসলাম মিথিল ও অ্যাডভোকেট মিনা  বেগম মিনি,বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া)

    এ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ৮ জন। তারা হলেন- সাবেক সাংসদ ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মুশফিকুর রহমান, আখাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মুসলিম উদ্দিন,

    কেন্দ্রীয় কৃষকদল নেতা নাসির উদ্দিন হাজারী, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা শাকিল ওয়াহেদ সুমন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম,কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও যুক্তরাজ্য বিএনপি উপদেষ্টা নাসরুল্লাহ খাঁন জুনায়েদ, কানাডা প্রবাসী বিএনপি নেতা ক্যাপ্টেন (অবঃ) মারুফুর রহমান রাজু ও আমেরিকা প্রবাসী বিএনপি নেতা মামুনুর রশিদ মোহন।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর)

    এ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ১৬ জন। তারা হলেন–-কেন্দ্রীয় কৃষকদলের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক তকদির হোসেন মোঃ জসিম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান মঞ্জু, নবীনগর পৌরসভার মেয়র মাইন উদ্দিন, প্রয়াত সাবেক সাংসদ কাজি আনোয়ার হোসেনে ছেলে কাজি নাজমুল হোসেন তাপস, , কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন ভূঁইয়া শিশির, কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ সভাপতি সাঈদুল হক সাঈদ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু, উপজেলা মহিলা দলে সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর নাইলা, বিএনপি নেতা ফারুক আহমেদ, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল বাকী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, আলী আজ্জম জালাল, বিএনপি নেত্রী মোছেনা বেগম, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মদলের জেলার সহ সভাপতি জহিরুল ইসলাম খান, শহীদ জিয়া আইনজীবী পরিষদ নেতা অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ সরকার ।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬(বাঞ্ছারামপুর)

    এ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ১৪ জন। তারা হলেন–-সাবেক সাংসদ ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার, উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ভিপি আব্দুল মান্নান, উপজেলা বিএনপির সদস্য কৃষিবিদ মেহেদি হাসান পলাশ, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক ডাক্তার রফিকুল ইসলাম খোকন, মেজর (অবঃ) সাঈদুর রহমান সাঈদ, মোস্তাফিজুর রহমান,বোরহান উদ্দিন, হারেস মিয়া, যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি সহ দফতর সম্পাদক মোঃ সারওয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপি সিনিয়ার সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ফরিদ, গত উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির মনোনিত প্রার্থী মাহাবুব হাসান বাবু, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শহিদুল হক শহিদ ও দেওয়ান স্বপন।

    এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল হক খোকন বলেন, ‘নির্বাচনে একটি বড় দলে অনেকেই প্রার্থী হতে পারেন। শেষ পর্যন্ত দল যাকে মনোনয়ন পত্র দিবে, তার পক্ষেই দলীয় নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।


    বিজয়নগর থানা নামকরনের রূপকার জি,কে মঈনুদ্দিন মেনুর মৃত্যুতে ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের বিশেষ শোক।

    received 1044337515728204 - বিজয়নগর থানা নামকরনের রূপকার জি,কে মঈনুদ্দিন মেনুর মৃত্যুতে ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের বিশেষ শোক।

    বিজয়নগর প্রতিনিঃ

    গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য এবং বুধন্তী ইউনিয়ন বিএনপির সুযোগ্য সভাপতি জি,কে মঈনুদ্দিন মেনুর ইন্তেকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কৃতি সন্তান, কেন্দ্রীয়


    ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগরে ধানী জমিতে তরুনীর লাশ উদ্ধার।

    received 1652723534814642 - ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগরে ধানী জমিতে তরুনীর লাশ উদ্ধার।

    বিজয়নগর থেকে ফিরে-

    মাঈনুদ্দিন রুবেল 

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ধানের জমি থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে উপজেলার পত্তন এলাকায় একটি বিলের রোপনকৃত ধানের জমিতে একটি লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে


    বিজয়নগরে ২৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১৫টিতেই নেই শহীদ মিনার,কতৃপক্ষের নেই কোন দৃষ্টি।

    received 1647965748623754 - বিজয়নগরে ২৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২১৫টিতেই নেই শহীদ মিনার,কতৃপক্ষের নেই কোন দৃষ্টি।

    বিজয়নগর থেকে ফিরে….. 

    মাঈনুদ্দিন রুবেল

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিজয়নগর উপজেলায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। পুরো উপজেলায় ২৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শহীদ মিনার রয়েছে ১৮টি প্রতিষ্ঠানে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা


    বিজয়নগরে দেশীয় অস্ত্রসহ ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

    received 1642420639178265 - বিজয়নগরে দেশীয় অস্ত্রসহ ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

    মাঈনুদ্দিন রুবেল

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১.৩০টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইসলামপুর পুলিশ ফাড়িঁর ইনচার্জ মোঃ আতিকুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্সসহ ব্রা‏হ্মনবাড়িয়া পলিটেকনিকের সামনে ঢাকা- সিলেট মহাসড়কে


    বিজয়নগরে অটোরিকশা চাপায় স্কুলছাত্র নিহত।

    received 1642186385868357 picsay - বিজয়নগরে অটোরিকশা চাপায় স্কুলছাত্র নিহত।

    বিজয়নগর প্রতিনিধি :

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চাপায় তাসফি আহমেদ (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের সিঙ্গারবিল গ্রামে


    “তেঁতুল হুজুররা সঙ্গে থাকলে কিন্তু সোনার বাংলা হইব না”? ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুক্তিযোদ্ধা সহিদ।

    vasho 67 main pic 1170x660 - “তেঁতুল হুজুররা সঙ্গে থাকলে কিন্তু সোনার বাংলা হইব না”? ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুক্তিযোদ্ধা সহিদ।

    পজিটিভ অনলাইন ডেস্কঃ

    চম্পকনগর বাজারের পাশ দিয়েই চলে গেছে পূর্ব দিক বরাবর একটি পাকা রাস্তা। খানিক এগোতেই বদলে যেতে যায় আশপাশের দৃশ্য। লাল মাটির আঁকাবাঁকা পথ। মাটি আঁকড়ে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি কাঁঠাল গাছ। রাস্তার পাশের খেত পাকা ধানে ভরা; সোনালী রং লেগেছে তাতে, দমকা হাওয়ার ঝাপটায় মাঝেমধ্যেই তা নুয়ে পড়ছে জমির বুকে। পাখপাখালির কণ্ঠ ভেসে আসছে চারপাশ থেকে। এমন মনোহর দৃশ্যে বিভোর হয়ে একসময় আমরা পৌঁছে যাই গন্তব্যে।vasho 67 04 300x198 - “তেঁতুল হুজুররা সঙ্গে থাকলে কিন্তু সোনার বাংলা হইব না”? ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুক্তিযোদ্ধা সহিদ।
    গ্রামের নাম বিষ্ণুপুর। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার এ গ্রামেই বসবাস করছেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ল্যান্স নায়েক শহিদ উদ্দিন ভুইয়া। এ বীর মুক্তিযোদ্ধার কথা শুনি ঢাকায় বসবাসরত এ গ্রামেরই সন্তান সরকার জাবেদ ইকবালের মুখে। আগ্রহী হতে তিনিই আমাদের ঠিকানাটি দিয়ে সাহায্য করেন।
    ‘কমান্ডারের বাড়ি’ কোথায়?
    প্রশ্ন শুনেই বিষ্ণুপুরের মধ্যবয়সী এক যুবক আগ্রহ নিয়ে দেখিয়ে দেন উত্তর পাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা শহিদ উদ্দিনের বাড়ি। অতঃপর আমরা তাঁর মুখোমুখি হই।
    ফোরকান উল্লাহ ভুইয়া ও মালেকান্নেছার পঞ্চম সন্তান শহিদ উদ্দিন ভুইয়া। লেখাপড়ায় তাঁর হাতেখড়ি বিষ্ণুপুর প্রাইমারি স্কুলে। অতঃপর ষষ্ঠ শ্রেণিতে তিনি ভর্তি হন মিরাশানি পলিটেকনিক একাডেমি হাই স্কুলে। ওখান থেকেই তিনি মেট্রিক পাস করেন ১৯৬৪ সালে।vasho 67 01 300x200 - “তেঁতুল হুজুররা সঙ্গে থাকলে কিন্তু সোনার বাংলা হইব না”? ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুক্তিযোদ্ধা সহিদ।
    শৈশব ও কৈশোরের নানা ঘটনাপ্রবাহ আজও উদ্দিপ্ত করে শহিদ উদ্দিনকে। স্মৃতি হাতড়ে তিনি জানালেন সেসব দিনের কথা।
    “তহন ফুটবল খেলতাম। মেরাশানি হাই স্কুল টিমের গোলকিপার ছিলাম। বন্ধু আলিম, মন্নাফ, বশির উদ্দিন, আবুল কাশেমের কথা খুব মনে পড়ে। কাশেমের বাড়ি ছিল মুকুন্দপুর। একবার তার খুব অসুখ হয়। তহন এইটের ক্লাস মনিটর আমি। ক্লাস ভাইঙা একদিন ওরে দেখতে গেছিলাম। ফেরার পথে মুকুন্দপুর রেলস্টেশন থাইকা ট্রেন ধরি। আজমপুর স্টেশনে নামার সময় হ্যান্ডেলে ধইরা দৌঁড়াইয়া সামনের দিকে লাফ দিয়া নামি আমরা। কিন্তু মন্নাফ ডাইরেক্ট জাম্প দিয়াই চাকার নিচে পইরা যায়। আমি ওরে টাইনা তুলি। তা না হইলে ওইদিন ও মারা যাইত।

    “আব্দুর রহমান, শহিদ উদ্দিন, মইজুদ্দিন স্যাররে খুব ভয় করতাম। তহন শিক্ষকরা এইট-নাইন পইরাই লেহাপড়া শিখাইছে। এহন ডিগ্রি পাস শিক্ষকরাও ভালো কইরা পড়াইতে পারে না। তহন শাসন ছিল কড়া। এহন তো শাসনের সিসটেমই নাই।
    “আগে মানুষের মইধ্যে আন্তরিকতা ছিল। একের প্রতি অন্যের দরদও ছিল। এহন সেইডা লোপ পাইছে। সবাই খালি ‘ইয়ানফছি’, ‘ইয়ানফছি’ করে। তবে ভালো কিছু লোকের লাইগাই সমাজ টিকা থাকে। ভালো মানুষের সংখ্যাডাও তাই বাড়াইতে হইব।”
    মেট্রিকের পরেই শহিদ উদ্দিনের ইচ্ছা কলেজে পড়ার। কিন্তু তাঁর বাবা চান সে ব্যবসা করুক। এ নিয়ে মনোমালিন্য হয়। ফলে একদিন না বলেই তিনি ঘর ছাড়েন, চলে যান কুমিল্লায়। সেখানে লোকমুখে জানতে পারেন আর্মিতে লোক নেওয়ার খবর। কৌতূহলী হয়ে যান কান্দিরপাড় রিক্রুটিং অফিসে। বাকি ইতিহাস শুনি শহিদ উদ্দিনের জবানিতে:

    “গিয়া দেহি দুই-তিনশ লোক লুঙ্গি কাছা দিয়া খালি গায়ে দাঁড়াইয়া আছে। অফিসের বারান্দায় আমি। কী হয় দেখতাছি। এমন সময় ক্যাপ্টেন সাব আসেন। আমারে দেইখা কন, ‘তুমি ভর্তি হইবা।’
    আমি বললাম, ‘ভর্তি হইতে পারমু, স্যার।’
    উত্তর শুইনা উনি আমারে শার্ট-প্যান্ট খুলতে বলেন। আমি তো শরমে মরছি। বলি, ‘স্যার, প্যান্টও খুলতে হইবো!’vasho 67 03 300x201 - “তেঁতুল হুজুররা সঙ্গে থাকলে কিন্তু সোনার বাংলা হইব না”? ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুক্তিযোদ্ধা সহিদ।
    কথা শুইনা তিনিও মুচকি হাসলেন। এরপর হাইট, ওয়েট আর বডি চেক কইরাই স্ট্যাম্পের কালিতে পেনসিল দিয়া বুকে নাম্বার লেইখা দিলেন। বাছাইয়ের পর দেওয়া হয় চিটাগাং ইবিআরসিতে। তের-সাত-উনিশশ চৌষট্টিতে জয়েন করছি সৈনিক পোস্টে। আর্মি নম্বর ১৩১৮৪৯৬।”
    আগস্টের ৩১ তারিখে শহিদ উদ্দিনকে ট্রেনিংয়ের জন্য পাঠানো হয় পশ্চিম পাকিস্তানে, রিসালপুরে। এক বছর ট্রেনিং শেষে প্রথমে লাহোর ক্যান্টনমেন্টে এবং পরে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয় খ্যামকরন সেক্টরের ইঞ্জিনিয়ার কোরে। দায়িত্ব ছিল ব্রিজ ভাঙা, রাস্তাঘাট ভাঙা, মাইন লেইং অ্যান্ড লিফটিং, ওয়াটার সাপ্লাই প্রভৃতি। যুদ্ধবিরতির পর তাঁকে প্রথমে পোস্টিং দেওয়া হয় সোয়াদ গিলগেটে, ওয়ান ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটেলিয়ানে। অতঃপর তিনি কাজ করেন রাওয়ালপিন্ডিতে, ১০১ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটেলিয়ানে।
    সত্তরের শেষের দিকে তিন মাসের ছুটিতে শহিদ আসেন দেশে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১। ছুটি শেষ হওয়ায় ওইদিনই তিনি রিপোর্ট করেন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের কুর্মিটোলা ট্রানজিট ক্যাম্পে।
    দেশ তখন উত্তপ্ত, ব্যারাকের ভেতরে আপনারা কি দেখলেন?
    শহিদ উদ্দিন বলেন:
    “যহন পশ্চিম পাকিস্তানে ছিলাম নির্বাচনে তহন বঙ্গবন্ধু পাস করছে। পাঞ্জাবি সৈনিকেরা আমগো টিটকারি দিয়া কইত, ‘শহিদ উদ্দিন, আবিতো তেরা হাতমে পাওয়ার চালা গিয়া।’
    “প্রমোশনের বেলায় পাঞ্জাবিগো আগে দিত। আমগো লোকদের কম দিত। কুর্মিটোলায় ট্রানজিট ক্যাম্পে যখন ছিলাম তহন ভেতরেই দেহি কয়েকটা জায়গায় ট্রান্স করা। এক ব্যাটালিয়ানের ক্যান্টিন থেকে অন্য ব্যাটালিয়ানের ক্যান্টিনে গেলেই ওরা চেক করত। তহনই সন্দেহ করছি কিছু একটা ঘটব।”
    ৭ মার্চ ১৯৭১। বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিবেন রেসকোর্স ময়দানে। সিভিল ড্রেসে শহিদ উদ্দিন সহকর্মী বশিরকে নিয়ে শুনতে যান ঐতিহাসিক সে ভাষণ। এরপর কী ঘটল সে ইতিহাস জানালেন শহিদ উদ্দিন। তাঁর ভাষায়:
    “শেখ সাহেবরে দেখার কৌতুহল ছিল। গিয়া দেহি লাখো মানুষ। বঙ্গবন্ধু কইলেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দিব…আমি যদি হুকুম দিবার না পারি…’।
    “এরপরই তো সব ওলটপালট হইতে থাকে। অসহোযোগের কারণে আমগো রেশন বন্ধ হয়। তহন রেশন আসে পশ্চিম পাকিস্তান থাইকা, কার্গো বিমানে। একদিন এয়ারপোর্টে আমগো নিয়া যায় রেশনের মাল আনতে। দেহি পাকিস্তানি সেনারা ওগো পরিবারের লোকদের বিমান ভর্তি কইরা পাঠায়া দিতাছে। সন্দেহ হইল। স্টাফরোডে মধ্যরাতে তহন ট্যাংক নিয়া ওরা ঘুরাঘুরি করত। ট্রেন বন্ধ ছিল। ১৯ মার্চ তারিখে আমরা ট্রেন পাইলাম। আমি আর বশির তহন বাড়িত চইলা আসি।”

    সিএমএইচের ছাড়পত্র
    ঢাকায় গণহত্যার খবর শহিদরা পান রেডিওতে। মনে তখন অজানা শঙ্কা। কী ঘটবে কেউ জানে না। আর্মির লোক পাইলে পাকিস্তানি সেনারা তো এমনিই মেরে ফেলবে। শহিদ ট্রেইন্ড সোলজার। চুপ করে বসে থাকতেও পারে না। তাই লড়াই-ই একমাত্র পথ। কিন্ত অস্ত্র ছাড়া লড়বে কীভাবে?
    ৩১ মার্চ ১৯৭১। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে ফোর বেঙ্গল বেরিয়ে এসে অবস্থান নিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। ক্যাপ্টেন আইনুদ্দিন ছিলেন দায়িত্বে। খবর পেয়ে শহিদ উদ্দিনও জয়েন করেন ওখানে। এরপরই তিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য সন্মুখ যুদ্ধ করেন ২ নং সেক্টরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আখাউড়ার বিভিন্ন স্থানে।
    একটি অপারেশনের কথা জানালেন মুক্তিযোদ্ধা শহিদ উদ্দিন। তাঁর ভাষায়:
    “আমরা তহন আখাউড়ায়, ফকিরমোড়া ইরাপুরে পজিশনে। পাকিস্তানি সেনাগো পুরা ব্যাটেলিয়ান ছিল পশ্চিমে। দুপুরের দিকে দেখলাম ওরা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। খবরটি সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে দেই মেজর আব্দুস সালেক চৌধুরির কাছে। উনি সবাইরে পজিশনে যাইতে কইলেন। নির্দেশ দিলেন উনি ফায়ার ওপেন না করা পর্যন্ত কেউ যেন ফায়ার না করে। আমি পজিশন নিছি পুস্কুনির পাড়ে।
    “পাকিস্তানি সেনারা সোজা রাস্তায় ক্রলিং করে চইলা আসে রেঞ্জের ভিতরে। কিন্তু তবুও স্যার ফায়ার ওপেন করে না। চিন্তায় পইরা গেলাম! হঠাৎ ফায়ারের শব্দ। আমরাও গুলি চালাই। সামনের সারিতে থাকা পাকিস্তানি সেনারা মাডিত পইড়া যায়। তবুও ওরা কাবু হয় না। পেছন থাইকা বলে, ‘আগে বারো, আগে বারো’।vasho 67 02 300x251 - “তেঁতুল হুজুররা সঙ্গে থাকলে কিন্তু সোনার বাংলা হইব না”? ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুক্তিযোদ্ধা সহিদ।
    “প্রচণ্ড গোলাগুলি। এরপরই ওরা শেল মারতে থাকে। আমরা তহন টিকতে পারি না। সরে গিয়ে আশ্রয় লই ভারতের মনতলি স্কুলে। ওরা তহন আখাউড়া দখল করে। বাংলাদেশের পতাকা নামায়া পাকিস্তানি পতাকা ওড়ায়। খুব কষ্ট পাইছিলাম ওইদিন। আমগো কাছে পতাকাই ছিল সব।”
    এক অপারেশনে গুলিবিদ্ধ হন মুক্তিযোদ্ধা শহিদ উদ্দিন। পাকিস্তানি সেনাদের গুলি তাঁর বুকের বাম পাশে ঢুকে লাং ফুটো করে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। রক্তাক্ত ওইদিনের কথা মনে হলে আজও এ যোদ্ধার দুচোখ সিক্ত হয়।
    কী ঘটেছিল ওই দিনটিতে?
    খানিক নীরবতা। অতঃপর তিনি বলতে থাকেন রক্তাক্ত ওইদিনের আদ্যপান্ত:
    “মনতলি স্কুল থাইকা আমাগো পাঠায় কামথানা বিওপিতে। ওখানে শালদা নদীর উত্তর পাশে পাকিস্তানিরা পজিশনে ছিল। ওগো পজিশনে অর্তকিত হামলা করতে হইব। আমি, সউদ মিয়া, হামিদ, কালামসহ ছয়জন। তিনটা দলে ভাগ হইয়া ওগো বাংকারের সামনে গিয়া মুখোমুখি ফায়ার করমু। ওরা মনে করব এনিমি সামনে আছে। তহন উত্তর দিকের রেল লাইনের নিচ দিয়া একটা কালভার্ট হইয়া আমগো আরও ৩০-৩৫ জন পেছন দিক দিয়া ওগো বাংকার চার্জ করব। সন্ধ্যায় এইডাই পরিকল্পনা হয়।
    “৪ জুন ১৯৭১। রাত তহন সাড়ে ৩টা। মুখোমুখি হইয়াই আমরা ফায়ার করি। পাকিস্তানি সেনারা তহন টুইঞ্চ মর্টারের ফায়ার করে। সব গোলা গিয়া পড়ে আমগো পেছনে। প্রচণ্ড গোলাগুলি চলছে। আমি ছিলাম ধানখেতের আইলে। দুই পাশে সউদ মিয়া, আবুল কালাম আর হামিদ। পাকিস্তানিরা একটু উঁচুতে। হঠাৎ বুকে একটা ধাক্কা খাইলাম। তহনও কিছু বুঝি নাই। মনে হইছে বুকের ডান পাশে একটা গুঁতা লাগছে। ভাবছি লাঠির গুঁতা। কিছুক্ষণ পরেই আমগো লোকেরা পেছন থাইকা ওগো ওপর আক্রমণ করে। গোলাগুলি তহন শেষ। কোনো আওয়াজও নাই।
    “তহন আমরা আসি গৌরাংগোলা গ্রামের মসজিদের পাশে। খালি গা। বুক দিয়া রক্ত পড়তেছিল। গাও শিরশির করছে। জোকে ধরছে নি! আঙ্গুল দিয়া ধরতেই দেহি বুকের ভিতরে আঙ্গুল ঢুইকা যায়। তহনই বুঝছি গুলি খাইছি। মনে তহন মৃত্যুভয়!
    “এইহানে যদি মরি তাইলে তো ডেডবডিও কেউ পাইব না! এই ভাইবা এলএমজিডা হাতে নিয়া দৌড় দেই বর্ডারের দিকে। কিছুদূর যাওয়ার পরই চোখ ঝাপসা হইয়া আসে। একটা মাঠে পইরাই কলেমা পড়ি। মনে হইছে মারা যামু। গলা শুকাইয়া কাঠ। নিঃশ্বাসও নিতে কষ্ট হইতেছে। বুকের ওপর বাম হাতটা ছিল। সেইডা পেছনে নিতেই জমে থাকা পানির স্পর্শ পাই। ওই পানি মুখে দিতেই দমডা ফিরা আসে। আমি যে বাইচা থাকমু এইডা স্বপ্নেও ভাবি নাই ভাই। একাত্তরের পরে বোনাস লাইফ নিয়ে চলতাছি।”
    চিকিৎসা নিলেন কোথায়?
    “এক বাড়ির দরজার একটা পাল্লা খুইলা সহযোদ্ধারা আমারে তুইলা নেয়। গ্রামের এক ডাক্তার প্রথমে আমারে দেখে। জ্ঞান তহনও ছিল। উনি শুধু বললেন,‘আশা নাই’।
    তবুও কোরামিন আর একটা ইনজেকশন দিতেই শরীরটা গরম হইল। এরপরই আমারে নেওয়া হয় আগরতলা জিবি হাসপাতালে। রক্তে হাসপাতালের ফ্লোর ভাইসা গেছিল। অপারেশন থিয়েটারে ডাক্তার রতিন দত্তর হাত ধইরা হাউমাউ কইরা কাইন্দা কইছিলাম, ‘যদি মইরা যাই তাইলে আমার ডেডবডিটা বাংলাদেশে পাঠাইয়েন স্যার।’
    “উনি কিছু কইলেন না। আমার মুখের দিকে শুধু এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন। পাকিস্তানি সেনাগো গুলিটি আমার বুকের ডান পাশ বিদ্ধ করে লাং ফুটো কইরা দেয়। অপারেশনে লাংয়ের কিছু অংশ কাইট্টা ফেলতে হয়। তহন রক্তও লাগছিল। তৎকালীন এমপিএ লুৎফুল হাই সাচ্চু আমারে রক্ত দিছে। তাঁর রক্তেই আজ বাঁইচা আছি।”
    যে দেশের জন্য রক্ত দিলেন স্বপ্নের সে দেশ পেয়েছেন কি?
    মুক্তিযোদ্ধা শহিদ উদ্দিনের উত্তর:
    “পেলাম কোথায়? চাইছিলাম সুন্দর একটা দেশ। যেখানে হত্যা, রাহাজানি, অন্যায় থাকব না। খাই খাই থাকব না। কিন্তু সে দেশ তো হয় নাই। মানুষ একজনরে ভোট দিয়া চেয়ারম্যান করে। কিন্তু সে ভোটের মূল্যায়নই তো হয় না। বিচারে সে অন্যায়কে দমন করবে। এটাই তো হওয়ার কথা। আপনেরে বিচারের দায়িত্ব দিলাম। আপনি কিছু নিয়াটিয়া বিচার হালকা করে দিলেন। এইসব এহন গ্রামগঞ্জেও চলতাছে।”
    কী করা দরকার?
    “এক নম্বর কথা হইল সৎ থাকতে হইব। শুধু নেতাই না, সবাইকেই। আপনি অর্থলোভী হইবেন কিন্তু অন্যের সততা চাইবেন এইটা কিন্তু হইব না। ঠিকাদার উন্নয়নমূলক কাজ করে। দেখেন কত পারসেন্ট কাজ হয়। কত পারসেন্ট দিতে হয়। তাইলে ভালো কাজ হইব কেমনে? ন্যায়পরায়ণ হইতে হইবো। সঠিক বিচার করতে হইব। তা না হলে শত উন্নয়নেও দেশ এগোবে না।’
    স্বাধীনতা লাভের পর পাকিস্তান ফেরত বাঙালি সেনাদের নিয়ে সেনাবাহিনী গঠন প্রসঙ্গে এ যোদ্ধা অকপটে তুলে ধরেন নিজের মতামত:
    “যুদ্ধবিধস্ত দেশ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন শেখ মুজিব। পরিস্থিতিগত কারণে বাঙালি সেনারা পশ্চিম পাকিস্তানে আটকা পড়েছিল। তাই পাকিস্তান ফেরত বলেই কোনো বাঙালি সেনা দেশবিরোধী হবেন এই ভাবনাটা মোটেই ঠিক নয়। আমি মনে করি এইটা বঙ্গবন্ধুর বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত ছিল। বরং আগে সেনাবাহিনীতে তেমন রাজনীতি ছিল না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেনাবাহিনীতেও রাজনীতি ঢুকে গেছিল।”

    বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন জিয়াউর রহমান। তাঁর মন্ত্রিসভায় স্থান পায় যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকাররা। সরকারি প্রটোকল মেনে সে সময় রাজাকারদেরই স্যালুট দিতে হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা শহিদ উদ্দিনকে। সে সময়কার কষ্টের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন:
    “কষ্টের কথা বুঝাইতে পারমু না ভাই। অর্ডারের বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তহন ভাবতাম রক্ত দিয়া কেন পতাকা আনলাম! ওগো সালাম দিতে বুকটা তো ফাইটা যাইত।”
    ৪৬ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা বাড়ে কেন?
    মুচকি হেসে এই সূর্যসন্তান বলেন:
    “দায়ী তো আমরাই। এ ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আমি। যারা জীবনে কোনোদিন যুদ্ধের কথা কয় নাই এমন লোকও এহন কয় মুক্তিযুদ্ধ করছে। আমি ওগো ফরমে স্বাক্ষর দেই নাই। দেশের সাথে এমন গাদ্দারি করতে আমি পারমু না। এজন্য আমার বিরুদ্ধেই ওরা অভিযোগ দিছে। এহন অমুক্তিযোদ্ধাগো শক্তিই বেশি। সরকার কী মনে কইরা নতুন আবেদন নিতাছে, মাথায় ঢুকে না। যত সুযোগ দিবেন মুক্তিযোদ্ধাগো তালিকা তত ভুয়া হইবো। তাই এই তালিকা বন্ধ হওয়া উচিত।”
    হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আওয়ামী লীগের চেতনা কখনও মিলবে না বলে মনে করেন মুক্তিযোদ্ধা শহিদ উদ্দিন। হেফাজতের সঙ্গে সরকারের একধরনের আপসকে তিনি রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর বলে অভিহিত করেন।
    “প্রথম কইছেন, ‘তেঁতুল হুজুর’, ‘তেঁতুল হুজুর’। এহন মিল্লা যাইয়া কন, ‘মিষ্টি হুজুর’, ‘মিষ্টি হুজুর’। তাইলে তো হইব না। তেঁতুল হুজুররা সঙ্গে থাকলে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হইব না। প্রকাশ্য শক্রও ভালো। সর্তক হওয়া যায়। কিন্তু ওরা তো ভেতরে ঢুইকা সুযোগ পাইলেই ইঁন্দুরের মতো কাটব। তাই হুজুরগো ওপর নির্ভরশীলতা আমগো কমাইতে হইব।’
    দেশ কেমন চলছে?
    “শেখের মাইয়া ভালো উন্নতি করছে। আগে তো বিদুৎ পাইতাম না। এহন ঘরে ঘরে বিদুৎ। রাস্তাঘাটগুলা পাকা হইছে। যোগাযোগব্যবস্থাও উন্নত। কিন্তু ঘরে ঘরে মাদক ঢুকে গেছে। মদ, গাঁজা, ইয়াবায় আসক্ত হচ্ছে যুবকরা। মাদকের বিষয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর সিদ্ধান্ত নিলে দেশ আরও এগোবে।”
    শত সমস্যা কাটিয়ে নতুন প্রজন্মের হাত ধরেই এদেশ একদিন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হবে– এমনটাই বিশ্বাস যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ল্যান্স নায়েক শহিদ উদ্দিন ভুইয়ার। পাহাড়সম আশা নিয়ে তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন:
    “দেশপ্রেম মানুষের শক্তি। পতাকা তোমার পরিচয়। তোমার পরিচয়টাই তুমি সবার ওপরে তুলে ধরো। মাদক থেকে দূরে থেক। মনে রেখ তোমার ভবিষ্যৎ নষ্ট করতেই মাদকের সৃষ্টি।”
    সংক্ষিপ্ত তথ্য:
    নাম : যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ল্যান্স নায়েক শহিদ উদ্দিন ভুইয়া
    ছিলেন: সেনাবাহিনীর সৈনিক। আর্মি নম্বর ১৩১৮৪৯৬
    যুদ্ধ করেন: ২ নং সেক্টরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আখাউড়ার বিভিন্ন স্থানে
    যুদ্ধাহত: ৪ জুন ১৯৭১। শালদা নদীর উত্তর পাশ থেকে আসা পাকিস্তানি সেনাদের একটি গুলি তাঁর বুকের বাম পাশ দিয়ে ঢুকে লাং ফুটো করে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়।

     


    হরতাল উপেক্ষা করে বিজয় নগরে প্রাণি সম্পদ মন্ত্রীর হাসপাতাল উদ্ভোধন।

    pic - হরতাল উপেক্ষা করে বিজয় নগরে প্রাণি সম্পদ মন্ত্রীর হাসপাতাল উদ্ভোধন।

    বিজয়নগর পজিটিভ অনলাইন প্রতিনিধি ঃ

    আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল উদ্বোধন করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাড. ছায়েদুল হক।সকাল থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্হানে হরতাল