• Category Archives: মতামত

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী কে এই ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ?

    received 272192196972539 - ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী কে এই ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ?

    ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা হল ৫২’ এর সিপাহশালার অলি আহাদের সুযোগ্য একমাত্র কন্যা। ১৯৪৯ সালে ঢাকার রোজ গার্ডেনে বসে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করা হয়। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি, মাওলানা আব্দুর রহিম তর্কবাগীশকে


    ১০০ বছর পরও রেশ রয়ে গেছে!

    c9e574c2ec7e86f3eed6fc9a609e1002 5bee957fd884a - ১০০ বছর পরও রেশ রয়ে গেছে!

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    ‘অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান’ রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকারী আর্চ ডিউক ফ্রানজ ফার্দিনান্দ সারায়েভোর রাস্তায় সস্ত্রীক গুপ্তহত্যায় নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার সূত্র ধরে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল বটে; তবে ঐতিহাসিকেরা


    ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কী নেই

    064875b97a969f3e7b4422890d5c7de0 5ba4850c15d70 - ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কী নেই

     

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    প্রথমেই তিনটি কথা বলি। এক. আমি আইনজ্ঞ নই, তথ্যপ্রযুক্তি অঙ্গনের কর্মী। দুই. এই লেখার মতামতের সম্পূর্ণ দায় আমার। তিন. পাঠক ও নীতিনির্ধারকদের বোঝার স্বার্থে কিছু টেকনিক্যাল ধারণা সহজভাবে ও উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করব।

    বাংলাদেশ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮-এর কিছু ধারা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলছে। আমার ভাবনা, যতটা না এই আইনে কী আছে তা নিয়ে, তার চেয়ে বেশি এই আইনে কী নেই, তা নিয়ে। বলা হয়েছে, এই আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করা। কিন্তু


    ট্রান্সকমের ৪ প্রতিষ্ঠান পেল কর কার্ড

    c859f8f6f52c2fbb1d1de7a13851e7db 5bea61021fdb5 - ট্রান্সকমের ৪ প্রতিষ্ঠান পেল কর কার্ড

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    • ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান ঢাকা সিটির অন্যতম সেরা করদাতা
    • সাংবাদিক শ্রেণিতে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার সম্পাদক তৃতীয়বারের মতো কর কার্ড পেলেন
    • গতবারও ট্রান্সকমের তিন প্রতিষ্ঠান কর কার্ড পেয়েছিল

    ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান এবার ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় অন্যতম সেরা করদাতা সম্মাননা পেয়েছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ সম্মাননা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে কর দেওয়ার জন্য গতবার লতিফুর রহমান ও তাঁর পরিবারকে


    দিল্লির দূষণে ব্যবসার সম্ভাবনা সৃষ্টি

    bfce48b1292d4fae6c34798cddb563c2 5bea983faccc9 - দিল্লির দূষণে ব্যবসার সম্ভাবনা সৃষ্টি

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    বায়ুদূষণ মোকাবিলায় এগিয়ে আসছে একাধিক সংস্থা
    • দূষণ প্রতিরোধে তৈরি করা নানা পণ্যের বাজার বাড়ছে
    • ওষুধের দোকান থেকে অনলাইনে এসব পণ্যের বিক্রি বাড়ছে
    • বায়ুদূষণ মোকাবিলায় জন্ম হচ্ছে ছোট ছোট উদ্ভাবনী শিল্পের

    কথায় বলে, সংকট থেকেই নতুন সম্ভাবনার জন্ম হয়। ভারতের রাজধানী দিল্লির ভয়ংকর বায়ুদূষণ জন্ম দিচ্ছে নতুন নতুন উদ্ভাবনী ক্ষমতার। দেশের বিদ্যুৎ-সংকট যেভাবে জন্ম দিয়েছিল জেনারেটর-ইনভার্টার শিল্পের, ঠিক সেভাবেই বায়ুদূষণ মোকাবিলায়


    আমি কেন ‘মি টু’র প্রলয় চাই

    7423e632e15ff2c649f2cdf23482041f 5be90c46eee1c - আমি কেন ‘মি টু’র প্রলয় চাই

    পজিটিভ ডেস্কঃ

     

    মেয়ে হয়ে জন্ম নিয়ে ৫৬ বছর পার করলাম। # মি টুতে একাত্ম না হওয়ার কোনো সুযোগ তো আমার নেই।

    তখন আমার বয়স ১০ কি ১১ হবে। শরীরে বদল আসছে, তবে নারীজীবনে প্রবেশের সূচনা তখনো হয়নি। বদল বুঝি কি বুঝি না। নিজের শরীর নিয়ে অস্বস্তি আর লজ্জার অনুভূতির কথা মনে আছে। সে সময় ওই বয়সের শিশুকে যৌনশিক্ষা দেওয়ার কথা কেউ ভাবত না।

    সেদিন বুকের কাছে কুঁচির ঘের লাগানো প্রিয় ফ্রকটা পরে কাকুর বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। সন্ধ্যার মুখে কাকু আমাকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে বেরোলেন। পথে তিনি নিউমার্কেটের মাছবাজারে ঢুকলেন। আমি তাঁর পেছন পেছন হাঁটছি।

    হঠাৎ পেছন থেকে একটা হাত আমার গায়ে থাবা দিল। সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে তাকিয়ে ঘাড়ের কাছে যাকে দেখেছিলাম, তার মাথার ঝাঁকাসহ মুখটা এখনো আমার মনে আছে। আমি কিন্তু তখন চিৎকার দিইনি। কাকুর কাছে ছুটে গিয়েছি কিন্তু তাঁকে কিছুই বলতে পারিনি।

    সাংঘাতিক ভয় পেয়েছিলাম, পুরো শরীরটাই যেন মুচড়ে গিয়েছিল, মনটা কুঁকড়ে ছোট হয়ে গিয়েছিল। বাড়ি ফিরেও আমি কাউকে কিছু বলতে পারিনি। ওই জামাটা আর পরতে ঘেন্না হতো। মাছবাজারের ঘোলাটে আলো আর আঁশটে গন্ধের সঙ্গে লোকটার মুখের হাসি আমার মনে গেঁথে গিয়েছে। কিন্তু ওই বয়সে আমার মনের মধ্যে কীভাবে ঢুকে গিয়েছিল এই বোধ যে, এ কথা কাউকে বলা যাবে না?

    এরই এক-দুই বছর পরে আমার স্বল্প পরিচিত এক ‘কাকা’র ওপর দায়িত্ব পড়েছিল আমাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার। তিনি তখন একা থাকতেন।

    আমার ভাইসম ছোট্ট একটি ছেলেও ছিল আমাদের সঙ্গে রিকশায়। ‘কাকা’ তাকে তাঁর বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

    রিকশায় ‘কাকা’ আমাকে শক্ত করে পাশে ধরে রাখলেন। আমার কাঁধের ওপর দিয়ে তাঁর হাত আমার গায়ে নেমে লেগে ছিল। আমি শুধু ভাবছিলাম কখন বাসায় পৌঁছাব। তিনি আমাকে অনেকবার বলছিলেন তাঁর সঙ্গে তাঁর বাড়ি ঘুরে যেতে। আমি ঘাড় গোঁজ করে বলে গিয়েছি, বাসায় যাব। তিনি আর জোরাজুরি করেননি। আমার অস্বস্তি, ভয় আর খারাপ লাগার কথা সেদিনও আমি কাউকে বলিনি।

    এই ‘কাকা’ আজ স্বনামধন্য ব্যক্তি। তাঁর নাম কাগজে পড়লে, কখনো তাঁকে দেখলে বারবার আমার সেই ভয়াবহ রিকশাযাত্রার কথা মনে পড়ে যায়। বড় হতে হতে অনেকবার ঘটনাটি ভেবেছি। আমার ছোট্ট সেই ভাইটির সম্ভাব্য ঝুঁকির কথাও মনে জেগেছে। যৌনপীড়ন প্রসঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে আলাপে একবার-দুবার ছাড়া ‘কাকা’র পরিচয় কিন্তু আমি প্রকাশ করিনি।

    আজও করব না। কেন? ৪৬ বছর আগের সেই ঘটনার কোনো প্রমাণ আমার কাছে তো নেই। ঘটনা নিয়ে টানাহেঁচড়া করলে তিনি বলতে পারেন, আমি ভুল বুঝেছিলাম। সবচেয়ে বড় কথা, আমার সেই ভাইটির যদি কোনো খারাপ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে, সে না চাইলে আমি তার ক্ষত খুঁচিয়ে দিতে পারি না। ভাইটির সঙ্গে এ নিয়ে আলাপও কখনো করিনি মূলত একই কারণে।

    কিন্তু আমি আর কখনো সেই ‘কাকা’ ডাকের মানুষটির ধারেকাছে ঘেঁষিনি। এ লেখা পড়লে তিনি হয়তো নিজেকে চিনতে পারবেন। হয়তো ভয়ও পাবেন।

    আমার বয়স যখন ১৪, মা আর বড় খালার সঙ্গে গুলিস্তানে বাসে ওঠার সময় ভিড়ের মধ্যে একটা লোক খুব খারাপভাবে আমার গায়ে হাত দিয়েছিল। সে কথাটাও আমি মা-খালাকে বলিনি। তবে আমি আর বাসে চড়তে চাইতাম না।

    আজ ভাবছি, ছোটবেলায় কেন আমি এ অভিজ্ঞতাগুলোর কথা মা-বাবাকে বলতে পারিনি। বয়ঃসন্ধিতে নিজের শরীর তখন আমার কাছে অচেনা হয়ে যাচ্ছে। সবগুলো ব্যাপার বুঝতামও না পুরোপুরি। শরীর, শরীরের ভালো লাগা আর খারাপ লাগা, শরীরের অপমান—সবকিছুই একান্ত নিজস্ব গোপনীয় বলে বোধ হতো। সংকোচ হতো।

    আমরা কিন্তু খুব সুরক্ষিত পরিবেশে বড় হয়েছি। মা–বাবা, খালা-মামা-চাচা-ফুফু, ভাইবোনদের নিরাপদ একটা বলয়ে। গভীর ভালোবাসা, বিশ্বাস আর নিরাপত্তার ঘেরাটোপের মধ্যে। আমাদের অভিভাবকেরা আমাদের খুব কাছের বন্ধু ছিলেন। আমাদের কথা তাঁরা বিশ্বাস করতেন। আমাদের ওপর তাঁদের আস্থা ছিল। আমি যদি তখন এসব এবং আরও দু-চারটি অস্বস্তির কথা তাঁদের বলতাম, তাঁরা আমার কথাকে নিশ্চয় গুরুত্ব দিতেন। এ ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হতেন। আমার এবং আরও অনেকের সুরক্ষা হয়তো নিশ্চিত হতো।

    মা–বাবা ছিলেন আমার নিরাপত্তার মূল খুঁটি। বৃহত্তর পরিবারের পরিবেশেও সুরক্ষা ছিল। কিন্তু বড় হওয়ার পর বোনদের একান্ত আলাপে জেনেছি, এই পরিবেশেও মা–বাবার প্রত্যক্ষ নিবিড় চোখের ছায়ায় যারা বড় হয়নি, তাদের ঝুঁকির অভিজ্ঞতা বেশি। এসব কথা কাউকে বলতে পারে, এমন ভাবতেও তাদের কখনো মনে সাহস হয়নি।

    নিজের ঘটনাগুলোর প্রভাব আমি কাটিয়ে উঠেছি। আত্মবিশ্বাস আর আত্মশক্তিতে স্থিত হয়েছি। বড় হওয়ার পর আমার সজ্ঞান সম্মতি অথবা আকর্ষণের দোলাচল ছাড়া কেউ আমার শরীরের ওপর জোর খাটাতে পারেনি। অনেকগুলো বছর একা একা সারা দেশ ঘুরে কাজ করেছি। উটকো আপদ কখনো যে আসেনি, তা বলব না। তবে তৎক্ষণাৎ ঘুরে দাঁড়িয়ে সেটার মোকাবিলা করতে পেরেছি।

    কিন্তু নিরাপত্তার জোরালো ছায়া যাদের ছিল না, তেমন অনেককে দেখেছি, এমন অভিজ্ঞতা নিজের ওপর বিশ্বাসের জায়গাটিকেই নষ্ট করে দিতে পারে। শিশু বয়সে মুখ ফুটে কথা বলতে যে ভরসা লাগে, বড় বয়সেও তেমন ভরসার জায়গা তৈরি না হলে কথা বলা যায় না। একজন-দুজন করে কথা বলতে থাকলে কথা বলার সাহস তৈরি হয়।

    আমার মেয়ের বয়স ১০ হওয়ার আগেই তাকে আমি শরীর এবং শরীরের ভালো-মন্দ লাগা আর ঝুঁকিগুলো চিনতে শেখাতে চেষ্টা করেছি। তাকে আমি নিরাপত্তাবেষ্টনীতে বন্দী করে বড় করতে চাই না। নিজেকে নিরাপদ রাখার উপায় শেখাতে চেয়েছি। আর খোলাখুলি কথা বলার ভরসা-পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছি।

    তারপরও কিন্তু নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, তার ছোট্ট জীবনের সবগুলো বিপদের কথা সে আমাকে না-ও জানাতে পারে। আর এখানেই আমার ভয়।

    আমাদের মেয়ে ও ছেলেশিশুরা যেন নির্ভয়ে এমন অভিজ্ঞতার কথা বলতে পারে, সেই ক্ষেত্র তৈরি করতে পারাটা আমাদের বড় কাজ। সেই ক্ষেত্রটি তৈরি করার জন্যই আমার কাছে ‘মি টু’ এত গুরুত্বপূর্ণ। এ আন্দোলনে আমি পুরুষকেও পাশে চাই।

    তা ছাড়া, জীবনের এসব কদর্য সত্যের উন্মোচন একা মেয়েদের বিষয় না। আমি চাই, পুরুষেরাও এই উন্মোচনে যোগ দিতে সাহসী হোন, নিঃসংকোচ হোন। যৌননিপীড়কেরা শিশু-নারী-পুরুষনির্বিশেষে দুর্বল অবস্থানের ব্যক্তিকে খোঁজে। সমাজব্যাপী দৃষ্টিভঙ্গি আর পরিস্থিতির কারণে মেয়েরা আজন্ম দুর্বল অবস্থানে। কিন্তু পুরুষেরাও ছোটবেলা আর বড়বেলার অভিজ্ঞতা খুঁজে দেখুন না কেন?

    গায়ের জোরে বা অবস্থানের জোরে ঘরে ও বাইরে যৌন হয়রানি-নিপীড়নের ঘটনা যে কত ব্যাপক, এ কথাটা খোলা আলোয় আসা খুব দরকার। এ সত্য অকপটে স্বীকার করা দরকার। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কঠোর নীতিমালা দরকার। কথায় অথবা আচরণে আমাদের কেউ হেনস্তা-নিপীড়ন করলে আমরা যেন উল্টো দোষারোপের ভয় না করে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিকারের পথ খুঁজতে পারি। আমাদের যেন অনেক বছর পর কথাগুলো প্রকাশ করে প্রমাণ-অপ্রমাণের ঘোলাজলে নাকানি-চুবানি খেতে না হয়।

    এখন পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকজন বাংলাদেশের ‘মি টু’তে অংশ নিয়েছেন। আমি আশাবাদী, তাঁদের দৃষ্টান্ত আরও অনেককে সাহসী করবে। একবার বাঁধ ভেঙে গেলে কথার ঢল নামবে। পূর্ব-সংস্কারের (প্রেজুডিস) বশে কথাগুলো উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। আবার কথার তোড়ে স্বার্থান্বেষী, অন্যায্য বা মিথ্যা অভিযোগ ওঠার ঝুঁকিও মনে রাখতে হবে। তবে তেমন কি খুব বেশি হবে?

    অভিযুক্ত ব্যক্তির মতোই স্বনামা অভিযোগকারীর মানসম্মান-বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি অবশ্যম্ভাবী। কেচ্ছা, কাদা-ছোড়াছুড়ির শিকার হতে হবে। ভুক্তভোগীর থাকবে ক্ষত খুঁড়ে তোলার যন্ত্রণা। ক্ষেত্রবিশেষে পাল্টা আক্রমণ শুধু কথাতেও আটকে থাকবে না।

    অভিযুক্ত ব্যক্তির অবশ্যই আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার থাকতে হবে। কেবল ‘মি টু’র পরিসরে বিচার হতে পারে না। তবে অনেক ক্ষেত্রেই প্রমাণ বা অপ্রমাণ কোনোটারই সুযোগ থাকবে না। সুতরাং শাস্তি বা প্রতিকার অনিশ্চিত হতে পারে।

    কিন্তু তাতে কি ‘মি টু’ অর্থহীন চর্চা হয়ে যাবে? এ অপরাধের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে একে অন্যকে সাহসী করে তোলাটাই এ আন্দোলনের বড় অর্জন। গোপনীয়তার ঢাল অপরাধীজনকে সাহসী করে, সুরক্ষা দেয়।

    ‘মি টু’র প্রলয় অনিবার্য ও অপ্রতিরোধ্য হোক। লজ্জা অপরাধীর। অপরাধের শিকার হয়েছি, এটা প্রকাশ করার মধ্যে দোষ-লজ্জা নেই। এই চেতনা আর দৃষ্টিভঙ্গি গড়তে হলে এ প্রলয় লাগবেই। প্রলয়ের পথ ধরে আমি নিঃসংকোচে আমার কথা বলতে সাহসী হব। আমার সাহস আমার সন্তানকে সে কথা শুনতে ও বুঝতে এবং নিজের কথা বলতে সাহসী করবে।

    লিঙ্গভিত্তিক পরিচয় এবং ধর্ম-বর্ণ-জাতি-মতবিশ্বাস নির্বিশেষে সব মানুষকে সমান মূল্য, অধিকার আর মর্যাদা দেওয়ার শিক্ষা শুরু হতে হয় একেবারে শিশুকাল থেকে। নতুন পৃথিবী, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়াটা হচ্ছে গোড়ার কথা। ‘মি টু’র প্রলয় সেটারই একটা পথমাত্র, তার বেশি কিছু না। কমও না।


    বহুরূপী ফ্যাসিবাদে আক্রান্ত গণতন্ত্র

    e2aeb829775f676825fcd50aa4824528 5be92201d361b - বহুরূপী ফ্যাসিবাদে আক্রান্ত গণতন্ত্র

     

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    ফ্যাসিজম শব্দটিকে অমরত্ব দিয়েছেন ইতালির লৌহমানব বেনিতো মুসোলিনি। নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা দিয়ে মুসোলিনির সঙ্গে আরও অনেক শাসকই নিজেদের যুক্ত করেছেন। জার্মানির হিটলার, স্পেনের ফ্রাংকো, চিলির পিনোচেট বা ইন্দোনেশিয়ার সুহার্তো। অথবা লিবিয়ার গাদ্দাফি, ইরাকের সাদ্দাম, মিসরের হোসনি মোবারক বা হাল আমলে তুরস্ক, ইরান, চীন, মার্কিন বা সৌদি শাসকেরাও কম যান না। জনগণের অধিকার সংকুচিত করা, ভোটাধিকার রহিত করা, বাক্‌স্বাধীনতা হরণ, যখন-তখন জেলে পোরা, রাষ্ট্রীয় মদদে গুম, খুন, অপহরণ—এসব শাসনের নিত্যঘটনা।

    নির্মম শাসকদের নিষ্ঠুরতার বিবরণ আমরা ইতিহাসে পাই। প্রাচীনকালেও এই ধরনের শাসক ছিলেন নিশ্চয়ই। মিসরীয় সভ্যতার ফারাওদের যেসব ঘটনার বিবরণ ঐতিহাসিক বর্ণনায় পাওয়া যায়, তা থেকে বোঝা যায়, সাধারণ নাগরিকদের নির্যাতন-অত্যাচার কম করা হয়নি। মেসোপটেমীয় সভ্যতায়ও একই নমুনা পাওয়া যায়। আমরা প্রাচীন সভ্যতাগুলোর শৌর্য–বীর্যের গাথা পাঠ করি। বিত্তবৈভবের গল্প শুনি। কিন্তু এর পেছনে নাগরিকের দীর্ঘশ্বাস শুনতে পাই না।

    লরেন্স ব্রিট ফ্যাসিজমের ১৪টি বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করে আলোচনা করেছেন। ব্রিটের আলোচনাকে বিবেচনায় নিলে ফ্যাসিজম শাসকদের এমন এক চরিত্র প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত চারপাশে বিদ্যমান। ফ্যাসিজমের ইতিহাসকে মোটাদাগে তিন ভাগে বিভক্ত করা যায়। প্রাচীনকাল থেকে আধুনিক রাষ্ট্র জাতিরাষ্ট্র গঠনের সময় পর্যন্ত প্রথম ধাপ। এই ধাপে রাজতন্ত্র, সামন্ততন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার জন্য শাসকেরা ফ্যাসিস্ট চরিত্র ধারণ করতেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সময়কে আরেকটি ধাপে বিবেচনা করা যায়। এ সময়ে জাতীয় নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের শক্তি অর্জন, দখলকে কেন্দ্র করে ফ্যাসিস্ট শাসকেরা সক্রিয় ছিলেন। এরপর ফ্যাসিজম ভিন্ন ধারণা নিয়ে আবির্ভূত হয়। নব্য ফ্যাসিস্টরা বলতে শুরু করেন, উন্নয়নের জন্য দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন। ফ্যাসিস্ট শাসকেরা সমালোচকদের দেশবিরোধী, রাষ্ট্রবিরোধী, উন্নয়নবিরোধী বলে দমন–নিপীড়ন করেন শক্ত হাতে। তাঁরা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের চেয়ে নাগরিকদের মধ্যে বিভাজনকে উসকে দেন। কারণ, বিভাজিত সমাজকে সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

    এসব রাষ্ট্র রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদকে সামনে তুলে ধরে। এই জাতীয়তাবাদ পুঁজিতন্ত্রের ফসল। জাতীয়তাবাদ পশ্চিমের ধারণা। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে এই জাতীয়তাবাদী ধারণা থেকে পশ্চিম ইউরোপ বের হয়েছে। এখানেই পশ্চিম ইউরোপ সফল। পশ্চিম ইউরোপে এটা কীভাবে সম্ভব হলো? জাতীয়তাবাদের নামে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ফ্যাসিবাদ কায়েমের অভিজ্ঞতা থেকে কোটি প্রাণের বিনিময়ে তারা শিখেছে। প্রকৃতপক্ষে অধিকতর গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো টিকে আছে। অন্তত নাগরিক হিসেবে সমঅধিকার ওই সব রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চরিত্রকে নিশ্চিত করেছে। তারপরও দেখা যায়, শরণার্থীদের প্রতিপক্ষ হিসেবে ফ্যাসিবাদীরা সেখানেও মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। পূর্ব ইউরোপের পোল্যান্ড-হাঙ্গেরিতেও দেখা দিয়েছে উগ্র জাতীয়তাবাদের উপসর্গ।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচুর্য আছে। সোভিয়েত ইউনিয়নেও ছিল। চীনেও তা। কিন্তু ক্ষমতা বিকেন্দ্রীভূত না। এশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকার দেশগুলো কেন্দ্রীভূত ক্ষমতাভিত্তিক শাসনের ধারণা থেকে বের হতে পারেনি। আধুনিক অনেক রাষ্ট্রের ব্যর্থতা হচ্ছে নাগরিককে ক্ষমতাহীন করে এরা সর্বসময় ক্ষমতা রাষ্ট্রের হাতে নিয়ে নিয়েছে। (পশ্চিম ইউরোপ কিছুটা ব্যতিক্রম এ কারণে যে তারা ফ্যাসিবাদের বীভৎস অভিজ্ঞতার শিক্ষাটা নিতে পেরেছে।) আইনি অর্থে সব নাগরিকের সমান অধিকার দিলেও বাস্তবে তা নেই। এখানে যিনিই ক্ষমতায় যান, তিনিই ফ্যাসিস্ট চরিত্র ধারণ করেন। রাশিয়ার নৈরাষ্ট্রবাদী বিপ্লবী মিখাইল বুকানিন বলেছিলেন, ভালো লোক ক্ষমতায় গিয়েও দুর্নীতিবাজ হয়ে যায়। ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের মতে, ফরাসি বিপ্লবের পরই রুশোর সামাজিক চুক্তির ধারণা সন্ত্রাসের শাসনে পরিণত হয়। তা শেষ পর্যন্ত নেপোলিয়নীয় স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দেয়। সোভিয়েত আমলেও বলশেভিক বিপ্লবের উত্তরসূরিরা জনমত দমন করেছিল, বাক্‌স্বাধীনতাকে হরণ করেছিল। এসবের মূলে ছিল জাতীয় নিরাপত্তার জিকির।

    গোষ্ঠীবদ্ধ জীবনযাপনের শুরু থেকেই ফ্যাসিস্ট শাসন সময়ে সময়ে রূপ বদল করে ফিরে এসেছে। ফ্যাসিবাদের বর্তমান রূপ হচ্ছে উন্নয়ন মডেল। এই মডেল নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের কথা বলে অধিকতর উন্নয়নের ধোঁকা দেয়। ইতিহাসের অনেক ফ্যাসিস্ট শাসকই নির্বাচিত ছিলেন। কিন্তু পরে তাঁরা নির্বাচনকে স্রেফ এক জালিয়াতির অনুষ্ঠানে পরিণত করেন। হয় এঁদের অধীনে নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীই থাকে না বা ব্যাপক কারচুপি হয়। কারচুপি, দুর্নীতি ও অপশাসনকে ধামাচাপা দেওয়া জন্য বাক্‌স্বাধীনতা স্তব্ধ করতে নিত্যনতুন আইন প্রণয়ন করেন। তাঁরা যত্রতত্র ‘উন্নয়নবিরোধী’ শক্র দেখতে পান। যেকোনো কিছুকেই মনে করেন ষড়যন্ত্র। কখনো কখনো ধর্মকেও ব্যবহার করেন। ধনিক শ্রেণিকে অবারিত লুটপাটের সুবিধা করে দেওয়া হয়। অবাধ দুর্নীতির কারণে ঘন ঘন ব্যাংক, বিমা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান মূলধন হারিয়ে দেউলিয়া হয়ে যায়। ঋণখেলাপিরা মুক্তি পায়। নাগরিক সেবার চেয়ে ব্যবসায়ী স্বার্থে বড় বড় অবকাঠামো বানানোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    চীন, তুরস্ক, মিয়ানমার, ভারত ও আমেরিকা উন্নয়নকে আঁকড়ে ধরা ফ্যাসিজমের বড় উদাহরণ। আমেরিকায় গণতন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। আমেরিকান মডেল কাজ করছে না। আমেরিকা নাগরিক অধিকার অনেক বেশি খর্ব হয়েছে। যেমন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি আইন। আমেরিকার যে মডেল মানবাধিকারকে ঘিরে বিকশিত হয়েছিল, তা পুনরায় কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকেই ফিরে গিয়েছে। চীনও উন্নয়নের কথা বলে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করছে। ভারত স্বাধীনতার পর মোটামুটি গণতন্ত্রের পথে থাকলেও বর্তমানে ক্রমেই ফ্যাসিস্ট চরিত্র পরিগ্রহ করছে। মিয়ানমারেও চরম ফ্যাসিস্ট শাসন চলছে। সেখানে কোনো নাগরিক অধিকার নেই। রোহিঙ্গাদের ওপর দমন, নিপীড়ন ও দেশছাড়া করার পর আর নতুন করে কিছু বলার নেই। ইরানেও চলছে সীমিত গণতন্ত্র। তুরস্কে বিরোধী দলের কোনো স্থান নেই। কোথাও উন্নয়ন, কোথাও ধর্মের দোহাই দিয়ে চলছে ফ্যাসিস্ট শাসন।

    বিভিন্ন দোহাই দিয়ে ফ্যাসিজম বারবার ফিরে আসে। ইতালিয়ান দার্শনিক উমবার্তো ইকোর মতে, ফ্যাসিজম নতুন নতুন ছদ্মবেশ নিয়ে ফিরে আসে। এখন যেমন উন্নয়ন মডেলের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। সঙ্গে থাকছে জাতীয়তাবাদ, ইতিহাসের গৌরব এবং সংস্কৃতি ও প্রগতির বড়াই। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আড়ালে ফ্যাসিবাদকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

    তবে কি আধুনিক রাষ্ট্র কাগুজে দলিল হিসেবেই রইল? পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোয় রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব অনেকাংশেই কম। কিন্তু আমেরিকান বা চায়নিজ পুঁজিবাদ কোনো সমাধান হাজির করতে পারেনি; বরং যেকোনো মূল্যে পুঁজির সঞ্চালন ঠিক রাখার দিকে নজর দিয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে যখনই কর্তৃত্ববাদী শাসনে কোনো দেশ চলে যায়, তখনই পুঁজির জোগান কমে যায়। তাই সমাজ নিজ উদ্যোগেই কর্তৃত্ববাদীকে ছুড়ে ফেলবে। সমাজ যে আইন, সংবিধান, রাষ্ট্র, প্রথা, রীতি তৈরি করে, তা ফ্যাসিস্ট শাসনে তাদের বিরুদ্ধেই পরিচালিত হয়। তাই এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহও শুরু হয়। সব পাল্টে ফেলে। বদলে দেয়। এ কারণেই ইউরোপে ফ্যাসিস্ট শাসকেরা টিকে থাকতে পারেনি।

    শিল্পবিপ্লবোত্তর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কাঠামো কোনো সমাধান দিতে পারেনি। সোভিয়েত ইউনিয়নসহ পূর্ব ইউরোপে মার্ক্সবাদের সঠিক প্রয়োগ হয়নি। চীনের মাওবাদ ফ্যাসিস্টদের পাকাপোক্ত করেছে। আমেরিকানরাও ব্যর্থ। তবে বিশ্বব্যবস্থার নতুন কাঠামো কী হবে? আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। চীনা পুঁজিবাদ ও আমেরিকান পুঁজিবাদের লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফয়সালা এখনো হয়নি। এদের মধ্যে চূড়ান্ত ফয়সালা হলেই বিশ্বব্যবস্থায় নতুন এক কাঠামো দেখতে পাব।

    ভারতীয় লেখিকা অরুন্ধতী রায় তাঁর ‘কাম সেপ্টেম্বর’ শীর্ষক বক্তৃতায় বলেছিলেন, কান পাতলেই তিনি সেই অনাগত বিশ্বের নিশ্বাস শুনতে পান। নিশ্চয়ই গুম, খুন, দমন, নিপীড়ন, যুদ্ধ, হামলা, উচ্ছেদ, দখলের অবসান ঘটবে। ফ্যাসিজম যতভাবেই ফিরে আসুক, তা টিকে থাকতে পারে না। খুব গভীরভাবে কান পাতলে সেই সব মুক্তিকামী মানুষেরও জেগে ওঠার শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। খালি ঠাহর করে একটু কান পাততে হবে। অবশ্য ফ্যাসিস্ট শাসক ও তাঁর সমর্থকেরা তা কখনোই শুনতে পান না। ক্ষমতার মোহে তাঁরা বধির।

    ড. মারুফ মল্লিক: ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো, ইনস্টিটিউট অব অরিয়েন্ট অ্যান্ড এশিয়ান স্টাডিজ, ইউনিভার্সিটি অব বন। 


    অতি ধনীদের ব্যাংক লুটের সংস্কৃতি

    e9ce2b27ca40046af695c6cf626f9036 5be931a6f1198 - অতি ধনীদের ব্যাংক লুটের সংস্কৃতি

    পজিটিভ ডেস্কঃ

     

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা ‘ওয়েলথ এক্স’–এর প্রতিবেদন ওয়ার্ল্ড আলট্রা ওয়েলথ রিপোর্ট-২০১৮ মোতাবেক ২০১২ সাল থেকে ২০১৭—এ পাঁচ বছরে অতি ধনী লোকের সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিশ্বের সব বড় অর্থনীতির দেশকে পেছনে ফেলে ১ নম্বর স্থানটি দখল করেছে বাংলাদেশ। ওই পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ধনকুবেরের সংখ্যা বেড়েছে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ হারে। এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে অতি ধনী লোকের সংখ্যা ২৫৫। এ দেশে ধনী লোকেরা যেভাবে নিজেদের আয় ও ধনসম্পদ লুকানোতে পারদর্শী, তাতে হয়তো অতি ধনীর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—১৮৭০ থেকে ১৯১৪ সালের পুঁজিবাদী বিকাশে ‘রবার ব্যারন’দের (Robber Baron) ভূমিকার সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-উত্তর ৪৭ বছরের রাঘববোয়াল পুঁজি লুটেরাদের অবিশ্বাস্য ধনসম্পদ আহরণের পদ্ধতির বিস্ময়কর মিল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ‘রবার ব্যারন’ বলা হতো শুধু সেই সব ব্যবসায়ী–শিল্পপতিকে, যাঁরা ‘সফল’ হয়েছেন অনৈতিক পন্থায়। সৎ পন্থায় সফলতা অর্জনকারী ব্যবসায়ী–শিল্পপতিদের এই অভিধা দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অধিকাংশ ধনকুবেরের ক্ষেত্রে অর্থনীতি ও রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন এবং ক্ষমতাসীন শাসকমহলের পৃষ্ঠপোষকতার ব্যাপারটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

     যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃস্থানীয় ‘রবার ব্যারন’ ছিলেন জন ডি রকফেলার, কর্নেলিয়াস ভ্যান্ডারবিল্ট, অ্যান্ড্রু কার্নেগি, অ্যান্ড্রু মেলন, জন জ্যাকব অ্যাস্টর, জে কুক, জেমস বুখানান ডিউক, জে পি মর্গান, হেনরি মরিসন ফ্ল্যাগলার, জন সি অসগুড,


    ‘আপনি ইলেকশনের কতা কচ্চেন?’

    389986215d6d67c65dae7f767f9512ba 5be7d6a1427bb - ‘আপনি ইলেকশনের কতা কচ্চেন?’

     

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    গ্রামের ছেলেমেয়েরা হাইস্কুলে যাচ্ছে। হোঁচট খেলাম তাদের একটা দলের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে। ২৪ জনের কেউই বলতে পারল না রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের নাম। ইচ্ছা ছিল রাষ্ট্রপতির রসিকতার গলি ধরে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা জমাব। কিন্তু সে আশার গুড়ে বালি পড়ল। দেশের গদিনশিন রাষ্ট্রপতির নাম জানা না-জানা দিয়ে কোনো কিছু মাপা যায় না। তারপরও একজনও জানবে না, তা কী করে হয়? ওদের একজনও এবার ভোটার না। সামনের ভোটে তারা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে না বলায় হেসে ফেলে কয়জন। বলে, ভোটার লিস্টে নাম না থাকলেও ভোটের কাজ করা যায়। ভোটকেন্দ্রে যাওয়া যায়, এমনকি ভোটও দেওয়া যায়। শুধু দরকার একটা মার্কা। সে রকম মার্কা বুকে সাঁটা থাকলে কে কাকে ঠেকায়?

    কার্তিকের যমুনা তখন শুকিয়ে কাঠ, আরও শুকাবে। গেল শ্রাবণের শেষে যমুনা সেতুর পাশে পুর্নবাসনের ঘাট থেকে নৌকায় যে চরে দু-আড়াই ঘণ্টায় যাওয়া যেত, এখন সেখানে লাগে চার-পাঁচ ঘণ্টা। দু-তিন ঘণ্টার শ্যালো নৌকায়, তারপর হাঁটা বা খেতের আইল এবং মোটরবাইকে। জায়গাটা চৌহালী উপজেলার ঘোরজান ইউনিয়নের তেঘোরি গ্রাম। সেখানে পরিবর্তন বেশ ‘দৃশ্যমান’। দেশের এক কারবারি প্রতিষ্ঠান এই দুর্গম চরের মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছে। সোলার প্যানেল বসিয়ে বাড়ি বাড়ি সংযোগ দিচ্ছে। বাজারটাও বেশ জমজমাট, রাত অবধি মানুষের আনাগোনা। কেক পাওয়া যায় চায়ের দোকানে। চাষের মুরগি, চাষের মাছ গ্রাসকাপ সহজেই মেলে। হাটবারের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয় না। ভারত থেকে আসা কারবারি কনসালট্যান্টরা বানের দেশের চরের মানুষদের শেখাচ্ছে বানের সঙ্গে বসবাসের তরিকা। জানা জিনিস নতুন মোড়কে বাজারজাত হচ্ছে।

    ছেলেরা নদী পেরিয়ে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে যায় পড়তে, মেয়েরা চরেরই স্কুলে। দু-একজন কলেজেও যাচ্ছে। কাকডাকা ভোরে হাঁটতে বেরিয়ে বাজারে চায়ের দোকানের জটলায় দেখি খদ্দেররা ডিশ টিভিতে মশগুল। খবর দেখছে ঢাকার। এখানে এখন আর কেউ আর হুলিয়া মাথায় করে ঢাকা থেকে পালিয়ে আসা ছাত্রটির কাছে রাজধানীর খবর শোনার জন্য ছুটে আসে না। নির্মলেন্দু গ‌ুণের ‘হুলিয়া’ কবিতার ‘ন্যাপকর্মী ইয়াসিন’, ‘রসুলপুরের অদিত্য’, ‘আমতলার আব্বাস’—কেউ আর নেই। কবিদের কতজন এখন পদক গায়ে মঞ্চে বসে জিরা-পানি পান করেন! চায়ের দোকানে বসলেই ডিশ টিভি সব বলে দেয়। চুপচাপ বসে থাকা মালেক মিয়ার মুখে কথা ফোটে, ‘না না, সবটা কয় না, বুঝে নিবার লাগে বাকিটা।’

    এক চোখে ছানি নিয়ে টিভি দেখেন মালেক মিয়া। অন্য চোখের ছানি কাটা হলেও ঝাপসা ভাবটা কাটেনি। চক্ষুশিবিরের ডাক্তারের হয়তো তাড়া ছিল। মালেক বলেন, ফ্রি কোনো কিছুই ভালো হয় না। চোখ বন্ধ করেই টিভি দেখেন মালেক। শুনতে পান সবটাই। খবর রাখেন সংলাপের, তাঁর ভাষায় ওটা সংলাপ না, সালিস। বলেন, ‘সালিসি করবা নিজের ভিটায়, না হয় অন্য কারও ভিটায় কিংবা বারোয়ারি গাছতলা হাটের মধ্যে করো। তোমার সঙ্গে আমার কাইজ্জা, মতের অমিল, লেনাদেনার হিসাব মেলে না, ভুলে ভরা হিসাবের খাতা। এসবের সুরাহা করতেই তো সালিস-আলাপ-বৈঠক।’

    সংলাপের নিয়ম নিয়ে আস্তে আস্তে নিজের কথা বলতে থাকেন তিনি, ‘তাই যার কাছে খাতা, তার বাড়িতে বসে সালিস হয় না। দাওয়াত দিলেও হয় না। হিসাবের খাতাওয়ালার বাড়িতে হিসাব মেলানোর বৈঠকে গিয়েছ তো সব শেষ। খাতা খোলার আগেই তিনি একথা-সেকথা বলবেন, পান-সুপারি সাদা পাতা দিয়ে কোন হাটের পান-সুপারি কেমন স্বাদ, এসব কথা ওঠাবেন। খামাখা সুড়সুড়ি-কাতুকুতু দেবেন। বউ-ছেলে-মেয়ের কথা তুলবেন। টীকা–টিপ্পনী কেটে তোমার মেজাজের বারোটা বাজাবে। তোমাকে এসব সহ্য করে হে হে করতে হবে, কারণ আলাপের ভিটাটা তার আর তুমি “অন্যের ভিটা”য়। আসল কথা, যাওয়ার আগেই বেলা শেষ হয়ে যাবে, তারপর আবার দিনক্ষণ ঠিক করা লাগবে।’

    ভাষা মতিনের বাড়ি ছিল এই চৌহালীতে—এখনকার মানুষ এখনো তাঁকে ছাত্র মতিন বলে। ছাত্র মতিনের সঙ্গে মালেক মিয়ার বয়সের তফাত ১০–১২ বছরের কম নয়। হুলিয়া মাথায় করে অনেকবার চৌহালীর নানা চরে আশ্রয় নিয়েছেন ভাষা মতিন। তখন মুরাদপুর ঘাট ছিল, এখন সেসব নদীর তলায়। মুরাদপুর ঘাট থেকে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে নৌকায় অনেকবার ছাত্র মতিনকে এদিক–সেদিক নিয়ে গেছেন তখনকার কিশোর মালেক। শহরের শিক্ষিত মানুষের সঙ্গে মালেকের যোগাযোগ এটুকুই।

    স্কুলে যাননি লোকটা। শহর বলতে শুধু দেখেছেন সিরাজগঞ্জ আর টাঙ্গাইল। সত্তর পার করা এই মানুষ সংলাপ, সালিস, বৈঠক সম্পর্কে এমন সহজ বিশ্লেষণ দেন কীভাবে? কীভাবে আগাম বলে দেন সংলাপের ভবিষ্যৎ। বলেন, ‘একটা কেতাবই পড়েছি জীবনে, সে কেতাবের নাম জীবনকেতাব। ওটা পড়তে চশমা লাগে না। জজ–ব্যারিস্টার হতে হয় না। ফল না পাকতে দিলে তার বীজে গাছ হয় না। তোমারা বিছন (বীজ) নষ্ট কোরো না।’এই মারফতি কথার মর্ম বোঝার সাধ্য নেই। সন্ধ্যা নেমে আসে, পা চালিয়ে ঘাটের দিকে যাই। নৌকা থেকে দূরে কয়েক কিশোরের জটলা, মাঝি তেল ঢালে ইঞ্জিনে। এই ফাঁকে কিশোরদের সঙ্গে একটু খেজুরে আলাপ।

    জিজ্ঞাসা করি, ‘ভোট কবে?’
    একজনের উত্তর: ভোট তো হয়ে গেছে কবেই।
    না মানে জাতীয় নির্বাচনের কথা শোনো নাই?
    : ও, আপনে ইলেকশনের কথা কচ্চেন?

    মাঝি তাড়া দেন। আমরাও নৌকায় উঠে পড়ি।

    ইউনিয়ন পরিষদের ভোট আর সংসদ নির্বাচনের কথা ভাবি। ভাবি, সংলাপ, রাজনৈতিক ক্ষমতা, নির্বাচনের সঙ্গে কী সম্পর্ক এসব কথার: ‘ফল না পাকতে দিলে তার বীজে গাছ হয় না। তোমারা বিছন (বীজ) নষ্ট কোরো না।’

    গওহার নঈম ওয়ারা: লেখক এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা কর্মী।


    নন্দিতার ‘মান্টো’ এক দুঃখের দলিল

    6526b44cc14315632f11d1e31ea84b7f 5be52ba82aeec - নন্দিতার ‘মান্টো’ এক দুঃখের দলিল

     

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    অভিনেত্রী পরিচালক নন্দিতা দাসের নাম শুনে, চেহারা দেখে আর তাঁর মুখে চমৎকার বাংলা শুনে তাঁকে সবাই বাঙালি বলেই ধরে নেন। কিন্তু কাল বাংলা একাডেমিতে ঢাকা লিট ফেস্টে আমার মতো অনেককে অবাক করে তিনি জানালেন যে তিনি বাঙালি নন!

    কাল নন্দিতা দাস পরিচালিত ‘মান্টো’ ছবির বাংলাদেশ প্রিমিয়ার শো হলো। অসাধারণ এক মানুষের ওপর তৈরি এক অসাধারণ চলচ্চিত্র। উর্দু সাহিত্যের এক অনন্য প্রতিভা সা’দত হাসান মান্টোকে ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশই তাদের লোক মনে করে। তাঁর ওপর ২০১৫ সালে পাকিস্তানেও ‘মান্টো’ নামেই ছবি তৈরি হয়েছে।

    ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের সময় পাঞ্জাব ও বাংলাকে কেটে দুই টুকরো করে ভারত ও পাকিস্তানের পাতে একেক টুকরো তুলে দেওয়া হয়। এ সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় পাঞ্জাব ও বাংলায় অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারায়। লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। দেশ বিভাগের এই নির্মমতার ছবি এঁকে যে কজন উর্দু লেখক উর্দু সাহিত্যে একটি বিশিষ্ট ধারা প্রবর্তন করেছেন, তাঁদের পুরোভাগে আছেন মান্টো।

    মান্টো তাঁর সময় থেকে এগিয়ে ছিলেন বলে বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়েনি। তাঁর লেখার বিরুদ্ধে অশ্লীলতার অভিযোগ ওঠায় বারবার তাঁকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। ব্রিটিশ ভারতে যেমন, তেমনি আযাদ পাকিস্তানে। সব সময় দুই দেশের মুক্তমনা মানুষ তাঁর পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। নিজের লেখা সম্পর্কে আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি তো পর্নোগ্রাফি লেখক নই, আমি সাহিত্যিক। আমরা চোখের সামনে যা ঘটেছে দেখতে পাই, তা নিয়ে লিখতে আপত্তি কেন?’ তাঁর লেখায় খোলা চোখে দেখা সমাজের রূঢ়, অপ্রিয় বাস্তবতা ও অসংগতির অকুণ্ঠ প্রকাশ সমাজকে, রাষ্ট্রযন্ত্রকে বিচলিত করে তুলত।

    নন্দিতা দাস মান্টোর পুরো জীবনকে ধরেননি। মান্টোর জীবনের সবচেয়ে উত্তাল সময় ১৯৪৬ থেকে ১৯৫০ এই চার বছরকে অবলম্বন করে তিনি মান্টোকে তুলে ধরেছেন। মান্টো তাঁর জীবনের এই সময়ের অভিজ্ঞতার আলোকেই সবচেয়ে শক্তিশালী, আলোচিত-বিতর্কিত গল্পগুলো লিখেছেন। ছবির ঘটনাস্থল বোম্বে ও লাহোর। যে দুই শহরে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পূর্বে ও পরে মান্টো বাস করতেন। গত বছর মান্টোকে নিয়ে নন্দিতা দাস ‘ইন ডিফেন্স অব ফ্রিডম’ নামে একটি শর্টফিল্ম তৈরি করেন। সেটি ‘টরন্টো আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভালে’ প্রশংসিত হয়েছে। ফিল্মটি ইউটিউবে পাওয়া যায়।

    মান্টো ছবিতে মান্টোর জীবনের মাত্র চার বছরের চিত্রায়ণে উঠে এসেছে বোম্বেতে ইসমত চুঘতাই, কৃষণ চন্দর, অভিনেতা অশোক কুমার ও শ্যাম চাড্ডার সঙ্গে তাঁর সখ্য, দাঙ্গার কারণে পাকিস্তানে চলে যাওয়া, পাকিস্তানে ‘ঠান্ডা গোস্ত’ গল্প নিয়ে অশ্লীলতার মামলা, স্ত্রী সাফিয়া ও পারিবারিক জীবন, অর্থসংকট, অত্যধিক মদ্যপান, দেশ বিভাগের পরিণতি থেকে তৈরি হওয়া মানসিক যাতনা এবং সর্বোপরি একজন লেখকের স্বাধীনতার জন্য তাঁর ক্লান্তিহীন লড়াইয়ের কথা।

    মান্টোর বিখ্যাত গল্পগুলোকে নন্দিতা দাস অসাধারণ মুনশিয়ানার সঙ্গে ছবিতে তুলে এনেছেন। ছবি শুরু হয়েছে ‘দশ রুপাই’ গল্প দিয়ে। যে গল্পে এক শিশু যৌনকর্মীর একদিন খদ্দেরের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার কথা আছে। তাঁর বিখ্যাত গল্প ‘ঠান্ডা গোস্ত’ কিংবা ‘খোল দো’কে পরিচালক অতুলনীয় নৈপুণ্যে কাহিনির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন। দেশ বিভাগের সময় নারী নির্যাতনের ভয়াবহতা অস্বস্তিকরভাবে তুলে ধরার জন্য এই দুটো গল্পের জন্য পাকিস্তানে মান্টোকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। ছবির শেষ হয় মান্টোর আরেকটি বিখ্যাত গল্প ‘টোবা টেক সিং’ দিয়ে। দেশভাগের পর ভারত ও পাকিস্তান সরকার হিন্দু পাগলদের ভারত এবং মুসলিম পাগলদের পাকিস্তানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। লাহোরের এক মানসিক হাসপাতালে থাকা একজন পাগল বিষাণ সিংয়ের বাড়ি পাকিস্তানের টোবা টেক সিংয়ে। সে ভারত–পাকিস্তান চেনে না। কেবল তার গ্রাম টোবা টেক সিং যেতে চায়। অবশেষে দুই দেশের সীমানায়, নোম্যান্স ল্যান্ডে কাঁটাতারের দুই পাশে দুই পা রেখে বিষাণ সিং মারা যায়। সেই নোম্যান্স ল্যান্ডই যেন হয়ে যায় বিষাণ সিংয়ের টোবা টেক সিং।

    মান্টো চরিত্রে নাকি ইরফান খানের অভিনয় করার কথা ছিল। তাঁর বদলে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীকে নিয়ে নন্দিতা ঠিক কাজটি করেছেন। বিখ্যাত অভিনেতা ইরফান খানের মধ্যে বেচারা মান্টোকে হারিয়ে ফেলার ঝুঁকি ছিল। কিন্তু নওয়াজ চমৎকারভাবে নিজেকে মান্টোতে রূপান্তরিত করেছেন। ছোট ছোট একেকটি দৃশ্যে জাভেদ আখতার, ঋষি কাপুর, পরেশ রাওয়ালের মতো হেভিওয়েটদের দেখে ভালো লেগেছে।

    বাংলাদেশের কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বলতেন যে তিনি পাঠকের মনে আরাম দেওয়ার জন্য লেখেন না। তিনি লেখেন যেন তাঁর লেখা পড়ে সমাজের নানা অসংগতি দেখে মানুষের মনে অস্বস্তি সৃষ্টি হয়। গতকাল নন্দিতা দাসও তাঁর ছবি সম্পর্কে একই কথা বললেন। হ্যাঁ, এই ছবি দেখে মনে একটি অস্বস্তি সৃষ্টি হয় বৈকি। মান্টোর লেখা পড়ে যে অস্বস্তি ও হাহাকার একসঙ্গেই হয়, তা–ই এই ছবির পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে। একজন সাহসী, সময়ের চেয়ে অগ্রসর মানুষ মান্টোর জীবনের ছবিও তাঁর গল্পের মতো সমাজের নানা অসংগতির দিকে, অবিচারের প্রতি, স্বার্থান্ধতার প্রতি আমাদের মনোযোগ টানে।

    মান্টো তাঁর একটি গল্পে বলেছেন, ‘এ কথা বলো না যে এক লাখ হিন্দু বা এক লাখ মুসলমান মারা গেছে। বলো যে দুই লাখ মানব সন্তান নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।’ মান্টো এ কথাগুলো যে সময়ে বলেছেন, তারপর অনেকগুলো বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু আজও মানুষ তার ধর্মীয় পরিচয়, জাতীয় পরিচয়ের নিগড় ভেঙে মানুষ পরিচয় নিয়ে দাঁড়াতে পারেনি; বরং মানুষ যেন আরও বেশি করে হিন্দু, মুসলমান, ইহুদি, খ্রিষ্টান হয়ে উঠছে। হিংসায় আরও উন্মত্ত হচ্ছে পৃথ্বী।

    প্রায় পৌনে এক শতাব্দী আগে মান্টোকে বাক্‌স্বাধীনতার জন্য লড়তে হয়েছিল। আজও বিশ্বব্যাপী লেখক–শিল্পীদের সেই লড়াই করতে হচ্ছে, বারবার হেরে যেতে হচ্ছে, হারিয়ে যেতে হচ্ছে, মরতে হচ্ছে।

    গতকাল বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে ছিল উপচে পড়া ভিড়। দাঁড়িয়ে, ফ্লোরে বসে অনেকে ছবি দেখেছেন মন্ত্রমুগ্ধের মতো। তাঁদের অধিকাংশই তরুণ, অধিকাংশই মান্টোর কোনো লেখা পড়েননি। অনেকে এর আগে মান্টোর নামও হয়তো শোনেননি। এই ছবি দেখে তাঁরা এই সময়ে মান্টোর প্রাসঙ্গিকতা যদি বুঝতে পারেন, যদি উর্দু সাহিত্যের এই দুর্দান্ত লেখককে পড়ার জন্য তাঁদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়, যদি তাঁরা বাক্‌স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তার প্রতীক মান্টোকে নিজের মধ্যে শনাক্ত করেন, তবেই অ্যাকটিভিস্ট নন্দিতা দাসের ‘মান্টো’ নির্মাণ সার্থক হবে। মান্টো সিনেমা দেখে মান্টো পাঠে মন দিলে মান্টো ও নন্দিতা দাশ, উভয়ের প্রতিই সুবিচার করা হবে।


    সংসদ ভেঙে দিয়ে সংসদ নির্বাচন

    58a07e530dee67c97ceda5d588f4c3de 5a0a7f88d380b - সংসদ ভেঙে দিয়ে সংসদ নির্বাচন

    পজিটিভ ডেস্কঃ

    যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়োগ হয় আজীবনের জন্য; অর্থাৎ যত দিন তাঁদের মৃত্যু হবে না, তত দিন তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে থাকতে পারবেন। অবসরের বয়স বলে কিছুই নেই। আজীবন বা আমৃত্যু থাকতে